হোয়াইট হাউসে হামলার হুমকি

হোয়াইট হাউসে হামলার হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট কার্যালয় হোয়াইট হাউসে হামলা চালানোর সামর্থ্য আছে ইরানের, এমনটা দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের একজন সদস্য।ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএলএনএ’র বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।ইরাকে মার্কিন হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানির মৃত্যুতে এই প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য আবুল ফজল আবু তোরাবি।তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গিয়ে হোয়াইট হাউসেই আমরা হামলা চালাতে পারি। আমাদের সেই শক্তি আছে। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় উপযুক্ত সময়ে আমরা প্রতিশোধ নেব।’সোলেইমানির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় আবুল ফজল আরও বলেন, ‘এটি (সোলেইমানিকে হত্যা) যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। কেউ যখন যুদ্ধ ঘোষণা করে তাকে নিশ্চয়ই বুলেটের বদলে ফুল দেয়া হবে না? তাকে তখন মাথায় গুলি করা হবে।’তবে ইন্ডিপেনডেন্টের সাংবাদিক বোরজু দারাগাহি জানান, ওয়াশিংটন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে এমন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের কাছে আছে বলে মনে করা হয় না। তবে আত্মঘাতী হামলার বিবেচনায় এ ধরনের হুমকি আমলে নেয়া যেতে পারে।শুক্রবার ভোরে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় সোলেইমানিসহ অন্তত ১০জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও।সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ‘কঠিন প্রতিশোধের’ ঘোষণা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে সকল মার্কিন নাগরিককে ইরাক ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প পালটা হুঁশিয়ারি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু হলে ইরানের ৫২টি স্থাপনায় হামলা চালানো হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো শক্তির জন্য আতঙ্ক ধরানো কুদস বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিলেন কাসেম সোলেইমানি। আইআরজিসি’র একজন সাধারণ কমান্ডার থেকে দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী ও দুর্ধর্ষ সেনা কর্মকর্তা হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

অলিখিতভাবে তার মর্যাদা ছিল ইরানের সেনাবাহিনীর যে কোনো সামরিক কর্মকর্তার ওপরে।  ইরান বিপ্লবের পর সোলেইমানিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ‘অর্ডার অব জুলফিকার’ পদকে ভূষিত হন।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অনেকগুলো মিলিশিয়া বাহিনী নিয়ন্ত্রিত হতো তার মাধ্যমে। জঙ্গী সংগঠন আইএস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। অঞ্চলটিতে মার্কিন শক্তির ভীতও কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন সোলেইমানি। ওয়াশিংটনের হিটলিস্টের অন্যতম ছিলেন তিনি।

ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ২৫ যোদ্ধা নিহত হওয়া এবং এর জের ধরে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে বিক্ষোভকারীদের হামলার ঘটনার জেরে হত্যা করা হয় সোলেইমানিকে।

শেয়ার করুন