আজ শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:০১ অপরাহ্


কাশ্মীর উপত্যকায় সেনা অভিযানে ফের জঙ্গির মৃত্যু

কাশ্মীর উপত্যকায় সেনা অভিযানে ফের জঙ্গির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট

কাশ্মীর উপত্যকায় সেনা অভিযানে ফের জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। শনিবারের অভিযানে ছয় জঙ্গি মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আল কায়দার শাখা সংগঠন আনসার গাজওয়াত-উল হিন্দের সদস্য ছিলেন তারা। ওই সংগঠনকে নেতৃত্ব দেন হিজবুল মুজাহিদিনের সাবেক কম্যান্ডার জাকির মুসা। মৃতদের মধ্যে একজন তার ডেপুটি ছিলেন বলে জানিয়েছেন অবন্তিপোরার পুলিশ সুপার মহম্মদ জাহিদ। এদিন সকালে দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার অবন্তিপোরা শহরের ত্রাল এলাকায় জঙ্গিরা লুকিয়ে রয়েছেন বলে গোপন সূত্রে খবর পায় নিরাপত্তা বাহিনী। সেই মতো সাতসকালে তল্লাশি অভিযানে নামে ভারতীয় সেনার ৪২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, স্পেশাল অপারেশন্স গ্রুপ এবং সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী। ত্রাল-অবন্তিপোরা রোড সংলগ্ন একটি ফলের বাগানের মধ্যে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে বলে খবর ছিল তাদের কাছে। প্রথমে শূন্যে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় যৌথ বাহিনী। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টা জবাব দেন জঙ্গিরা। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবর্ষণ শুরু হয়।
কয়েক ঘণ্টা ধরে গুলিবিনিময়ের পর ছয় জঙ্গির লাশ উদ্ধার করা হয়। যৌথ বাহিনী তাদের নামও প্রকাশ করেছেÑ সলিহা মহম্মদ আখুন ওরফে গোলাম মহম্মদ আখুন, রসিক মীর, রউফ মীর, উমর রমজান, নাদিম এবং জাভিদ খান্দি। তাদের মধ্যে সলিহা ওরফে গোলাম মহম্মদ জাকির মুসার ডান হাত ছিলেন বলে জানা গেছে। গাজওয়াত-উল হিন্দে জাকিরের পরই তার জায়গা ছিল। তাদের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর। গত সপ্তাহেই সেনা অভিযান ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল উপত্যকার পুলওয়ামা জেলার সিরনু এলাকা। সেই ঘটনায় তিন জঙ্গি, এক সেনা কর্মী এবং সাত স্থানীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়। এ ক’দিনে উপত্যকার পরিস্থিতি বদলেছে। রাজ্যপালের শাসন উঠে গিয়ে জারি হয়েছে রাষ্ট্রপতি-শাসন। তবে এ ঘটনায় ফের উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। কারণ সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ দেখাতে থাকেন বেশকিছু যুবক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোটা পুলওয়ামা জেলার মোবাইল পরিষেবা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে শ্রীনগর-বানিহাল ট্রেন চলাচলও।

শেয়ার করুন