খোলা কলাম

আবারও অস্থিরতা তৈরি পোশাক খাত ঘিরে

তৈরি পোশাক খাত ঘিরে আবারও অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে মূলত শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রমিকদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, গাজীপুর, সাভার এবং আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত পোশাক শ্রমিকরা নতুন মজুরি কাঠামোর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভসহ নানান কমর্সূচি পালন করে। হাজার হাজার শ্রমিক সড়কে নেমে এসে যানবাহন ভাংচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগ করে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়াসহ রাজধানীতে যান চলাচলেও বিঘিœত হয়। এ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আসা পুলিশের সঙ্গেও শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পুলিশ-শ্রমিক সংঘষের্ সাভারের উলাইল এলাকায় একজন গামের্ন্টকমীর্ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। গতকালও এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিক অসন্তোষ চলতে দেখা গেছে। অন্যদিকে এ অচলাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈযর্ ধারণ করে আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য শ্রম ও কমর্সংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমরা মনে করি, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। তা আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিসংগতভাবেই নিরসন হওয়া জরুরি। দাবি-দাওয়া আদায়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করা কিংবা নাশকতা-সহিংসতার ঘটনা কিছুতেই সমথর্নযোগ্য হতে পারে না। .একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনের আগে থেকেই শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে কমির্বরতি পালন করা হয়েছে- এমনটি লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য মতে, ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বধির্ত হারে বেতন পাওয়ার কথা পোশাক শ্রমিকদের। বাস্তবতা হলো, এরই মধ্যে মালিকপক্ষ বধির্ত হারে বেতন দেবে না এমন একটি গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সঙ্গত কারণেই এমন খবরে শ্রমিকদের উত্তেজিত হয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়। এমন অভিযোগও আছে যে, একটি উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠী সবসময় পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ খেঁাজে। আমরা বলতে চাই, দেশের পোশাক খাতকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। দেশের রাজস্ব খাতকে সমৃদ্ধ করতে তৈরি পোশাকশিল্প খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। সাবির্ক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এটাও যখন জানা যাচ্ছে যে, বিশ্ব বাজারে ক্রমেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। প্রায় প্রতিনিয়তই নতুন নতুন ক্রেতা আসছে এবং এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগও আগের তুলনায় বেড়ে। তখন আমরা বলতে চাই এ খাতের সব ধরনের অসন্তোষও নিবৃত করতে হবে। সরকার বরাবরই পোশাক খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পযর্ন্ত শ্রমিকদের ৩৮১ শতাংশ মজুরি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হবে বলে বিজিএমইএ ঘোষণাও দিয়েছে। জানুয়ারি মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে এ মজুরি পরিশোধ করা হচ্ছে। এ নিয়ে অসন্তোষ কেন? পোশাকশিল্প বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। এ শিল্প শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অজের্নর মাধ্যমে দেশীয় অথর্নীতিকে সমৃদ্ধিশালী করে তুলছে তা নয়, সে সঙ্গে ক্রমবধর্মান বেকারত্ব নিরসনেও ব্যাপক ভ‚মিকা রাখছে। অন্যদিকে অসচ্ছল ও দারিদ্র্যপীড়িত নারীদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছে। সুতরাং এ খাত ঘিরে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র যাতে না হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা তথা সরকারের সজাগ থাকা কতর্ব্য হতে পারে। আমরা জানি জাতীয় স্বাথের্ এই শিল্পের সাবির্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে আসছে সরকার। আর এ খাতকে চলমান রাখতে হলে যেমন এটিকে রাজনৈতিক ইস্যুর বাইরে রাখা জরুরি; তেমনইভাবে নজরদারিরও বিকল্প থাকা উচিত নয়। সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিরসনে মালিক, শ্রমিক এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কমর্কতাের্দর নিয়ে কমিটি গঠিত হয়েছে এবং এ কমিটি মজুরির অসঙ্গতিগুলো খতিয়ে দেখে সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেবে বলে জানা যাচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। পাশাপাশি শ্রমিকদেরও কতর্ব্য হওয়া দরকার অরাজকতা সৃষ্টি না করে ধৈযর্ ধারণ করা। শ্রমিকরা শিল্পের প্রাণ, সুতরাং তারা যেন ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে সরকার ও মালিকপক্ষকে। সরকার ও মালিকপক্ষ পোশাক খাতের উদ্ভ‚ত পরিস্থিতি নিরসনে দ্রæততার সঙ্গে কাযর্কর উদ্যোগ নিক- এটাই আমাদের চাওয়া।

Related Articles