শিরোনাম

আজ শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন


আসুন দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাই

আসুন দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাই

হেনা কবিরঃ

নাম সুমি আক্তার (ছদ্মনাম)। প্রতিদিন রিক্সা করে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতো তার বান্ধবীদের সাথে। হঠাৎ একদিন তার বান্ধবীদের  সাথে  দলবদ্ধভাবে বাসায় ফিরতে ছিল। এমন সময় রাস্তার পাশে বাইকে বসে থাকা ছেলেগুলোর মধ্যে ইমন নামের এক ছেলে বলে উঠলো,দোস্তো এই নতুন মালটা কে রে?দোস্তো উত্তর দিলো,জানিনা রে।এলাকায় মনে হয় নতুন এসেছে।তাছাড়া প্রতিদিন তো বসে বসে আড্ডা দেই।বাট এই কালারের বোরকা পড়া কোন মেয়েকে চোখে পড়েনি তো। তখন সোহেল(ছদ্মনাম) বলতে লাগলো,দোস্ত যাই   বলিস না কেন,মালটা কিন্তু সুন্দর মাগার যেমন ফিগার তেমন গঠন।এই যে সেক্সি মেয়ে  এতো সুন্দর ফিগারটা কে বানাইছে দিয়েছে? আমরা এলাকার বড় ভাই আমাদের দিকে একটু নজর দিও।তুমি চাইলো তোমার মনের কামানা-বাসনা সব পূরণ করে দিব। এই ইমন সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা থেকে শুরু করে রাস্তার চলাচলকারী মেয়েদের  শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ নিয়ে বাজেবাজে কথাবার্তা,সাইট টন কাটা, শীষ দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে ইভটিজিং করতো।ঠিক  একটু পর হঠাৎ করে ইমনের ফোনের রিংটোন বেজে উঠল।কলটা রিছিভ করতেই ফোনের ওপাশ থেকে মায়ের কান্না ভেসে এলো  ইমনকে জানানো হইলো, তার আদরের ছোট বোনটা আর নেই।

সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে ওপাড়ে। যেখানে থেকে আর ফিরে আসতে পারবে না সে। বোনের কথা শুনে,এক দৌড়ে বাসায় আসে সোহেল। যেন পুরো আঙ্গিনা  লোকজন ভর্তি চারিদিক কান্নার রোল পরে গেছে। জানতে চাইলো, কি হয়েছিল রিয়া কেন এভাবে  চলে গেল। এই বলে, ইমন বোনের ঘরে প্রবেশ করতেই চোখে পরে গেল টেবিলে রাখা নোটবুক। অপেন করতেই তার হাতের লেখাগুলো চোখে পড়ে গেল। প্রিয় ভাইয়া,জানিস আমাকে অনেকে তোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট দিতো তুই নাকি খারাপ।তুই নাকি অনেক মেয়েদের ডিস্টার্ব করিস।এই নিয়ে  আমার বান্ধবীদের সাথে অনেক  ঝগড়া হইছিল।আমার এক বান্ধবী আমার সাথে কথা বলতো না।আমি কথা বলতাম না, কেন জানিস?কারণ তোর নামে মিথ্যা বদনাম করতো অনেক অভিযোগ করতো আমি বিশ্বাস করতাম না।আমি বলতাম, আমার ভাইয়া পৃথিবীর সেরা ভাইয়া। কিন্তু না আমার জানার ভুল ছিল।তুই কি জানিস,কলেজে থেকে ফেরার পথে যে মেয়েকে দেখে তুই মাল,সেক্সি বলেছিলি সেটা আমি ছিলাম রে ভাইয়া,আমি ছিলাম।ঈদের দিনে সেলামি হিসাবে যে টাকা আমাকে দিয়েছিলি।সেই টাকা দিয়ে আমি নতুন  একটা বোরকা কিনেছিলাম।সেই নতুন বোরকা পড়েছিলাম বলে তুই আমাকে চিনতে পারিসনি কিন্তু কি জানিস,তোকে আজ আমি চিনতে পেরেছি ভাইয়া চিনতে পেরেছি। খুব ভালো করে চিনতে পেরেছি।আমি কখনো ভাবিনি আমার ভাইয়া এমন তোর মুখের দিকে কিভাবে তাকাবো বল,ঐই মুখ দিয়ে তুই আমাকে কত বাজে কথা বলেছিস।

তুই জানিস ভাইয়া, তোর কাছে যেমন আমি বোন হিসাবে কলিজার টুকরা। ঠিক তুই যাদের ইভটিজিং করিস তারাও তাদের ভাইয়ার কাছে কলিজার টুকরা। জানি,তুই আমাকে না চিনে এসব কথা বলেছিস।তাই বলসি ভাইয়া,আমি তো চলেই যাচ্ছি । বোন হিসাবে অনুরোধ করে যাচ্ছি, আমাকে ক্ষমা করে দিস আর সব বোনের মাঝে আমাকে খুঁজে নিস।আমি যেমন তোর আপন বোন বলে আমার সাথে ভালো ব্যবহার করতিস, সম্মান করতিস  অন্যদের  বোনের সাথেও এমনটাই ব্যবহার করবি।তাহলে পৃথিবীতে,কোন বোন অসম্মান হবেনা আমার মতো জীবন দিতে হবেনা।ভালো থাকিস ভাইয়া আর ক্ষমা করে দিস আমাকে। আসুন দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাই। নিজেরবোনকে কলিজার টুকরা বলি আর অন্যের বোনকে  মাল এবং খারাপ মন্তব্যকরি। এইসব কথাবার্তা থেকে নিজেদের বিরতি রাখি। নিজের বোনকে যেমন সম্মান করি,অন্যের বোনকেও তেমনটাই সম্মান করি।

 

শেয়ার করুন