আজ বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন


দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে নদী ঘাটে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভিড়

দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে নদী ঘাটে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভিড়

দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে নদী ঘাটে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভিড় পূণ্য তিথিতে পিতৃপুরুষদের আত্মার উদ্দেশ্যে জেলায় বিভিন্ন নদীঘাটে, দিঘি, জলাশয়ে তর্পণের জন্য ব্যাপক ভিড় জমে। দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে এদিন ভোরে তমলুক, নদীর ধারে তর্পণের জন্য ব্যাপক ভিড় হয়। হি› ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয উৎসব শারদীয দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন, শুভ মহাল এ দিনে থেকেই শুরু দেবীপক্ষের। শ্রীশ্রী চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসেবে পরিচিত। আর এই ‘চন্ডী’তেই আছে দেবী দুর্গার সৃষ্টির বর্ণনা এবং দেবীর প্রশস্তি। শারদীয় দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো এই মহালয়া। পুরাণমতে এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। এ দিন থেকেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়। মহালয়া মানেই আর ৬ দিনের প্রতীক্ষা মায়ের পূজার। আর এই দিনেই দেবীর চক্ষুদান করা হয়। আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুরু হলেও মূলত পূজার্থীরা দুর্গাপূজার আগমণধ্বনি শুনতে পাবেন। দুর্গাপূজার এই সূচনার দিনটি সারা দেশে ন্যায় বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে। জেলার পৌর শহর থেকে শুরু করে উপজেলার সকল পুজা মন্ডবের মন্দিরে এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হি›ু ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গা সমস্ত অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক রূপে পূজিত। মহামায়া অসীম শক্তির উৎস। পুরাণ মতে, মহালয়ার দিনে, দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। শিবের বর অনুযায়ী কোনো মানুষ বা দেবতা কখনও মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। ফলত আসীম হ্মমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতারিত করে এবং বিশ্ববহ্মাম্মের অধীশ্বর হতে চায়। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব ত্রয়ী সম্মিলিতভাবে ‘মহামায়া‘ রূপে অমোঘ নারীশক্তি সৃষ্টি করলেন এবং দেবতাদের ১০টি অস্ত্রে সুসজ্জিত সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা নয় দিনব্যাপি যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও হত্যা করেন। মহালয়ার আর একটি দিক হচ্ছে এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তারা তাদের পূর্বপূরুষের স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন। সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিনে প্রয়াত আত্মাদের মর্ত্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়। প্রয়াত আত্মার যে সমাবেশ হয় তাকে মহালয়া বলা হয়। মহালয় থেকে মহালয়া। পিতৃপক্ষের ও শেষদিন এটি। এদিকে নড়াইল জেলায় এবার ৫৭২টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবছরের মতো এবারও শান্তপূর্ণভাবে শারদীয় উৎসব সম্পন্ন হবে। শারদীয় দূর্গা পুজা উপলক্ষ্যে এবার নড়াইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পদ্ম চাষি বৃষ্টির ব্যাপক ঘাটতি জেরে পদ্মের আকাল দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন পদ্ম চাষি থেকে শুরু করে ফুল ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, পূজোর পদ্ম জোগাড়ে এবার উদ্যোক্তাদের হাতে ‘কাঁটা’ ফুটতে পারে। যদিও ফুল ব্যবসায়ীরা এখন থেকেই হিমঘরে পদ্ম মজুত রেখে চাহিদা মেটানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রোজ ঢাকার হিমঘরে রাখা হচ্ছে পদ্ম ফুল ও কুঁড়ি। যদিও তার দাম যে আকাশছোঁয়া হতে পারে তার আগাম ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে পদ্ম ফুল ছাড়া পূজো সম্পূর্ণ হতে পারে না। ফলে পদ্মের দাম নিয়ে ভাবছেন না পুজোর উদ্যোক্তারা। তারা বলেন, দাম যাই হোক না কেন বাজারে পদ্মের আকাল যেন না হয়। জেলায় সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৪৭শতাংশ। বৃষ্টির ঘাটতির পাশাপাশি প্রখর রোদের তাপে শুকিয়েছে ছোট-বড় জলাশয়গুলি। এমনিতেই মাছ চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেকে পদ্ম চাষ বন্ধ করে দিয়েছেন। জেলার দিঘি-পুকুর সহ যে কয়েকটিতে পদ্ম চাষ হতো এখন তার এক চতুর্থাংশ পুকুর বালু ভরাট করায় পদ্ম চাষ হয় না। এবার বৃষ্টির ঘাটতি সেই চাষে আরও ধাক্কা দিয়েছে। জলাশয়গুলিতে পর্যাপ্ত জল না থাকায় বাজারে পদ্মপাতার আকাল পড়েছে। এখন পুকুর তন্নতন্ন করে খুঁজে দিনে চার থেকে পাঁচটির বেশি পদ্ম ওঠে না বলে দাবি চাষিদের। কুড়িগ্রাম এলাকার শানতু ঠাকুর, সূর্য্য সেন’র ঠাকুর বলেন, আগে যে পুকুরে বেশি ফুল উঠত এখন সেই পুকুরে যতœ নিয়েও দিনে সর্বোচ্চ দশটির বেশি কুঁড়ি ওঠে না। এখন হিমঘরে রাখায় কুঁড়ি অবস্থাতেই পদ্ম তুলতে হয়। এদিকে পদ্ম ছাড়া অকাল বোধনও অসম্পূর্ণ। পূজোর উপাচারের তালিকায় ১০৮টি পদ্মের বিধান রয়েছে পুজোর । বর্তমানে পূজোর সময় ফুলই বাজারে আসে। এবার অনাবৃষ্টির জেরে হিমঘরও প্রায় খালি পড়ে রয়েছে। এলাকার এক ফুল ব্যবসায়ী বলেন, পূজোর আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। অন্যান্য বছর আমি চার থেকে পাঁচ হাজার ফুল মজুত করে ফেলি।

শেয়ার করুন