আজ মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১১:৪০ অপরাহ্


কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী তিন গুম্বুজ মসজিদ

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী তিন গুম্বুজ মসজিদ

ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসাবে আজও দাড়িয়ে আছে কুমিল্লার সেই তিন গুম্বজওয়ালা জামে মসজিদ টি।জেলার চান্দিনা উপজেলার ৯নং মাইজখার ইউনিয়নের মেহার গ্রামে ব্রিটিশ সরকারের আমলে তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা বীর বিক্রম মাণিক্য এর সময়ে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী সেই তিন গুম্বুজ ওয়ালা জামে মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে আজও। পাখি ডাকা, ছায়া ঢাকা,অনাবীল সুখ-শান্তির সুশীতল পরিবেশে অবস্থিত মসজিদটি।যে মসজিদটির ভিতর ও বাহিরে রয়েছে অপূর্ব সৌন্দর্য বিভিন্ন কারুকাজ করা।চিনা মাটির প্লেট ভাঙ্গা দ্বারা বিভিন্ন ডিজাইনে মসজিদ টি নির্মান করা হয়।মসজিদ টির চারপাশের ওয়ালগুলো ৪ ফুট পুরো। যার কারনে শীতকালে মসজিদের ভিতর গরম আর গরমকালে ঠান্ডা অনুভূতি হয়। পুরো মসজিদ টি চুনশুরকি দ্বারা তৈরি করা হয়েছ। ভিতরের মিম্বরটিতে রয়েছে সুনিপুণ হাতে নির্মিত অপূর্ব কারুকাজ।সামনে রয়েছে মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য তিনটি দরজা আর দুইপাশে রয়েছে দুটি জানালা। যে কেউ একবার দেখলে পরে মন ভরে যায় সৌন্দর্যের কারনে। মসজিদের দেয়ালে নির্মাণ সন হিসাবে লেখা রয়েছে ১৩৩১ বাংলা ও ১৯২৫ ইংরেজি সনে মসজিদ টি নির্মান করা হয়। তৎকালীন সময়ে জমিদারি প্রথা চালু থাকার কারনে উপজেলার মহিচাইল গ্রামের জমিদার শ্রী ভৈরব চন্দ্র সিংহ এর অনুমতিক্রমে ৪২নং মৌজার মেহার গ্রামের তৎকালীন প্রভাবশালী, দানবীর,ও ধর্মানুরাগী ব্যক্তি জনাব হাজী নজর মামুদ এ মসজিদটি নির্মান করেন।হাজী নজর মামুদের ছেলের ঘরের নাতী হাজী রমিজ, হাজী আঃ খালেক এর বক্তব্য ও এলাকার প্রবীণ লোকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মসজিদটি নির্মাণ কাজের সময় জমিদার শ্রী ভৈরব চন্দ্র সিংহ হাতী চড়ে এসে নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। জমিদার শ্রী ভৈরব চন্দ্র সিংহ তখন একজন প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন। যার জমিদারির আওতাধীন এলাকা ছিল চান্দিনা, বরুড়া, দেবিদ্বার ও দাউদকান্দি এলাকা নিয়ে।তৎসময়ে জমিদারি প্রথা চালু থাকার কারনে জমিদারের নির্দেশ মোতাবেক সব কাজ হতো। মসজিদটি নির্মাণের পর মসজিদটির নাম দেন-মেহার নজর মামুদ হাজীবাড়ি জামে মসজিদ। যা বর্তমানে চান্দিনা উপজেলার সরকারী ওয়েভসাইটে মেহার মধ্যপাড়া হাজী বাড়ি জামে মসজিদ নামে উল্লেখ রয়েছে।আর উপজেলার ৯নং মাইজখার ইউনিয়নের সরকারী ওয়েভসাইটে রয়েছে, মেহার রমিজ হাজী বাড়ির জামে মসজিদ নামে। মুলত মসজিদের নাম হলো নজর মামুদ হাজী বাড়ি জামে মসজিদ।সে সময়ে হাজী নজর মামুদ পায়ে হেঁটে মক্বাশরীফ গিয়ে হজ্ব করেছেন ।তৎসময়ে এলাকায় মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য তেমন উল্লেখযোগ্য কোন মসজিদ ছিল না।তাই তিনি এলাকার মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য নিজ উদ্যোগে ১০শতাংশ জায়গায় মসজিদটি নির্মাণ করেন।মসজিদটির সামনে রেখেছেন মুসুল্লীদের বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনা করার জন্য বসার স্থান।মসজিদটির দক্ষিন পাশে মসজিদের মুসুল্লীদের অযুও গোসল করার জন্য তৎসময়ে তিনি ১২০শতক জায়গায় একটি পুকুর খনন করে যান।যাতে রয়েছে পাকাসান বাঁধা ঘাট।তিনি মসজিদটি নির্মান করে ভবিষ্যতে মসজিদ পরিচালনা, প্রতি রমজান মাসের কদরের রাতে মসজিদের মুসুল্লীদের খাবার ও মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জ্বিনের খরচ সহ অন্যান্য ব্যয়ভার বহন করার জন্য মসজিদের নামে ২৬৪ শতক জায়গা ওয়াকফ করে দিয়ে যান।হাজী নজর মামুদের ২ছেলে ছিল,আপ্তরদ্দী ও মিছির আলী।হাজী সাহেবের মৃত্যুর পর তার দুই ছেলে মসজিদের সবধরনের দেখাশোনা করতেন।ছেলেদের মৃত্যুর পর তার ছেলের ঘরের নাতীরা মসজিদটি এখন দেখাশোনা করছেন।বর্তমান সময়ে এসে মসজিদের মুসুল্লীদের স্থানসংকুলান না হওয়ায় তার নাতীরা মসজিদের সামনের খালী জায়গাটি মসজিদের সাথে সংযুক্ত করে সম্প্রসারন করে মুসুল্লীদের নামাজের জায়গা তৈরি করেন।তার পাঁচ নাতীর মধ্যে ৩জন মারা গেছেন।এখন দুই নাতী ও নাতীর ঘরের পতিরা মসজিদটি নিয়মিত দেখাশোনা করছেন।

শেয়ার করুন