শিরোনাম

আজ শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন


ইসলামের নবজাতকের উপহার

ইসলামের নবজাতকের উপহার

ইসলাম ডেস্ক :

বাবা হতে পারা, মা হতে পারাÑ প্রতিটি নারী-পুরুষের কাছেই এক পরম কাক্সিক্ষত বিষয়। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় যখন নবজাতক সন্তান আলোর মুখ দেখে। সন্তানের মধ্য দিয়েই টিকে থাকে মানুষের বংশধারা, রক্ষা পায় মানবসভ্যতাও। সন্তান জন্মের আনন্দ ব্যক্তি শুধু অনুভবই করতে পারে। এ আনন্দের যথার্থ প্রকাশ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। চারদিক থেকে শুভেচ্ছাবার্তা আসতে থাকে। বাবা-মায়ের এ খুশিতে শরিক হন আশপাশের সবাই। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, চারপাশকে আলোকিত করে খুশির জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়ে যে সন্তানের আগমন, কয়েক বছরের ব্যবধানে সে আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। এর সবচেয়ে বড় কারণ উপযুক্ত শিক্ষাদীক্ষা, যতœ ও পরিবেশের অভাব। সন্তানকে তাই উপযুক্ত পরিবেশে গভীর যতেœ উপযুক্ত শিক্ষা ও দীক্ষার মধ্য দিয়ে মানুষ করে গড়ে তোলার দায়িত্ব বাবা-মায়ের, অভিভাবকের। এ দায়িত্বের শুরুটা সন্তান জন্মলাভের পর থেকেই শুরু হয়। সন্তান ধীরে ধীরে বড় হয়, তার প্রতি বাবা-মায়ের দায়িত্বও বাড়তে থাকে।
সন্তানের জন্মের পর আনন্দঘন সময়টাতেই অভিভাবকের জন্য রয়েছে কিছু নির্দেশনা। সেগুলো হলোÑ
১. শিশুর ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত বলা। নবজাতকের প্রতি এটি প্রথম উপহার। তার জন্মের পরপরই তার ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামতের শব্দগুলো বলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে পবিত্র হাদিস শরিফে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এর মেয়ে হজরত ফাতেমা (রা.) এর প্রথম ছেলে হজরত হাসান (রা.) যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তার ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত বলেছিলেন, ঠিক যেভাবে নামাজের জন্য আজান ও ইকামত দেওয়া হয়। (তিরমিজি : ১৫১৪)।
এ আজান ও ইকামতের শব্দগুলো শুনিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে দুনিয়ার জগতে প্রবেশের মুহূর্তেই একটি শিশুকে আল্লাহ তায়ালার বড়ত্বের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়, ইসলামের শিক্ষার প্রতি তাকে আহ্বান জানানো হয়, আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদ ও রাসুলুল্লাহ (সা.) এর রিসালাতের ঘোষণা তাকে শুনিয়ে দেওয়া হয়। হয়তো সে আজান ও ইকামতের এ বাক্যগুলো কিছুই বুঝবে না, কিন্তু জীবনের একেবারে শুরুতে এ শব্দগুলো শোনার একটি প্রভাব তার অন্তরে থেকে যাওয়া মোটেও অসম্ভব নয়। এর পাশাপাশি আজান ও ইকামতের সময় শয়তান দূরে সরে যাওয়ার কথাও হাদিস শরিফে বলা হয়েছে। শয়তানকে দূরে সরিয়ে, তার চক্রান্তকে দুর্বল করে দিয়ে এবং শিশুর স্বভাবজাত শুদ্ধতাকে শয়তান পরিবর্তন করার আগেই এ আজানের মাধ্যমে তাকে ইবাদতের দিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
২. তাহনিক করানো। তাহনিক হচ্ছে খেজুর বা এ জাতীয় কোনো মিষ্টিদ্রব্য চিবিয়ে আঙুলে করে মুখের মিষ্টি লালা শিশুর জিহ্বায় লাগিয়ে দেওয়া। সাহাবায়ে কেরামের যখন সন্তান জন্ম নিত, তখন তারা রাসুলুল্লাহ (সা.) কে দিয়ে তাহনিক করিয়ে নিতেন। উদ্দেশ্য, নবীজি (সা.) এর লালার বরকত লাভ করা। তাই নবজাতক সন্তানকে কোনো নেককার মানুষ দিয়ে তাহনিক করিয়ে নেওয়া উত্তম।
৩. আকিকা করা। সন্তান জন্মের পর আকিকা করা সুন্নত। যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে ছেলে শিশুর জন্য দুটি ছাগল আর মেয়ে শিশুর জন্য একটি ছাগল দিয়ে আকিকা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে ছেলের জন্যও একটি ছাগল দিয়ে আকিকা করা যেতে পারে। আকিকা করার পর এর মাংস নিজেও খাওয়া যাবে, অন্যকেও খাওয়ানো যাবে। এর বিধান অনেকটাই কোরবানির মতো। চাইলে এ মাংস রান্না করে আত্মীয়স্বজনসহ অন্যদের দাওয়াত করেও খাওয়ানো যাবে, আবার অন্যদের বণ্টন করে কাঁচা মাংসও দিয়ে দেওয়া যাবে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে আদেশ করেছেন, তারা যেন ছেলে শিশুর জন্য (কোরবানি করা যায় এমন) দুটি কাছাকাছি রকমের ছাগল আকিকা করে, আর মেয়ে শিশুর জন্য একটি। (তিরমিজি : ১৫১৩)।
৪. মাথা মু-ানো। মাথার চুল ফেলে দেওয়াও একটি সুন্নত। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশু সন্তানের আকিকা করার পাশাপাশি তার মাথার চুল মু-িয়ে দেওয়ার আদেশ করেছেন। (বোখারি : ৫৪৭২)।
৫. চুল মেপে সদকা করা। চুল মু-ানোর পর চুল ওজন করে সে পরিমাণ রূপা সদকা করাও সুন্নত। নবীকন্যা হজরত ফাতেমা (রা.) তার দুই ছেলে হজরত হাসান ও হজরত হুসাইন (রা.) এর চুল মেপে সে পরিমাণ রুপা সদকা করেছিলেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক : ১০৬৭, ১০৬৮)।
৬. নাম রাখা। নাম রাখা শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এ নাম তার সারা জীবনের পরিচয়। নাম ধরেই মানুষ তাকে ডাকবে, নাম দিয়েই তাকে মানুষ চিনবে। এজন্য বাবা-মায়ের উচিত, সন্তানের জন্য ভালো ও সুন্দর নাম রাখা। অনেককেই দুটি নাম রাখতে দেখা যায়। একটি ‘সুন্দর’ নাম, আরেকটি ‘ডাক’ নাম। কাউকে নাম জিজ্ঞেস করলে সে যদি ডাক নাম বলে দেয় তাহলে তাকে আবারও জিজ্ঞেস করা হয় : তোমার কোনো সুন্দর নাম নেই? তাই নাম যত অংশেই হোক, সবই সুন্দর হওয়া উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় নাম আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান। (তিরমিজি : ২৮৩৩)।
শুরুতেই আমরা যে শিশুর কানে আজান ও ইকামতের কথা বলেছি, সেটা তো জন্মের পরপরই করতে হবে। তাহনিকও যত দ্রুত সম্ভব করিয়ে নেবে। আর বাকিগুলো সন্তান জন্মের সপ্তম দিনের আমল। শিশুর আকিকা, চুল মু-ানো, সদকা করা এবং নাম রাখাÑ এগুলো সপ্তম দিনে পালন করা সুন্নত।

শেয়ার করুন