শিরোনাম

আজ শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন


উত্তর কোরিয়ায় আবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

উত্তর কোরিয়ায় আবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট :

মাত্র আট দিনের মাথায় তৃতীয় বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। শুক্রবার এ পরীক্ষা চালানো হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস)। স্থানীয় সময় ভোরের আগে পূর্ব উপকূলের সাউথ হামগিয়ং প্রদেশের ইয়ংহাং এলাকা থেকে জাপান সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ছোড়া হয়। আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর পর উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো শুরু করেছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো নিয়ে তার কোনো ‘সমস্যা নেই’।  এএফপিজেসিএস জানিয়েছে, সাউথ হামজিঅং প্রদেশের ইয়ংহাং এলাকা থেকে স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোররাত ২টা ৫৯ মিনিটে একটি এবং ৩টা ২৩ মিনিটে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। ২৫ কিলোমিটার উচ্চতায় ২২০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব সাগরে গিয়ে এ দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে। এ ধরনের অন্য ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে এগুলো তুলনামূলক বেশি গতির বলে ভাষ্য বিশ্লেষকদের। তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা নিয়ে উত্তর কোরিয়া বা তাদের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে, গত ২৫ জুলাই দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। এগুলো ৬৯০ কিলোমিটার দূরে পূর্বসাগরে গিয়ে পড়ে। এরপর গত বুধবার দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় দেশটি। গত মাসে কৌশলগত নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র পরীক্ষার কথা স্বীকার করেছিল পিয়ংইয়ং।দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, শুক্রবারের দুটিও উত্তরের ছোড়া আগের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মতোই নতুন ধরনের স্বল্পপালস্নার হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সিউলের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া স্বল্পপালস্নার দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর মাত্র দুদিন পর এ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল। এবারের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রও নতুন বলে জানিয়েছেন ‘ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্ট’র সিনিয়র ফেলো অঙ্কিত পান্ডা।

এর আগে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে উত্তর কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অর্থবহ আলোচনায়’ বসার আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেশগুলো জানিয়েছে, পিয়ংইয়ং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ না করলে তাদের ওপর জোরপূর্বক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।

আগামী মাসেই সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের এসব ঘটনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ‘গুরুতর সতর্কতা’ বলে উলেস্নখ করেছে উত্তর কোরিয়া। এই যৌথ সামরিক মহড়ার প্রশ্নে পিয়ংইয়ং প্রচন্ড ক্ষুব্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার এসব ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার উদ্দেশ্য ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বৃদ্ধি করা। তারা আরও বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ পর্যন্ত আলোচনা বিলম্ব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় কোনো ‘সমস্যা নেই’ ট্রাম্পের এদিকে, ওহাইওতে নির্বাচনী সমাবেশের জন্য হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় আমার কোনো সমস্যা নেই। কী ঘটছে আমরা তা দেখবো। তবে স্বল্পপালস্নার ক্ষেপণাস্ত্র অনেক ভালো।’ ট্রাম্প বলেন, ‘এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আমাদের চুক্তি হয়নি। আমাদের কথা হয়েছে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে। মনে হচ্ছে, সবই আমাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে।’ জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো নিষিদ্ধ। পিয়ংইয়ংয়ের এমন কর্মকান্ডে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো নিন্দা জানানো হলেও এ ব্যাপারে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তুলনামূলকভাবে কম প্রতিক্রিয়াই ব্যক্ত করা হয়। ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেন। আর তার এসব আলোচনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরে।

গত বছর পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ এবং আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা না চালানোর ঘোষণা দেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয় একটি পারমাণবিক স্থাপনা। চলতি বছরের ফেব্রম্নয়ারিতে ভিয়েতনামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। কিম বাজে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন অভিযোগ করে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

প্রতি/আ/ম 

শেয়ার করুন