সেমি-ফাইনাল ব্যাটিংয়ে শীর্ষে যারা

সেমি-ফাইনাল ব্যাটিংয়ে শীর্ষে যারা

ক্রীড়া ডেস্ক :

প্রায় দেড় মাস ৪২ দিন ১০ দলের ব্যাটে বলে লড়াই শেষে অবশেষে সেই স্বপ্নের ফাইনালে ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে অভাগা দুদল নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। রবিবার (১৪ জুলাই) এই দুদলের ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরের পর্দাও নামতে যাচ্ছে। লিগপর্ব শেষ হয়েছে অনেক আগেই। গতকাল শেষ হলো সেমি-ফাইনাল পর্ব। বাকি শুধু ফাইনাল। তার আগে দেখে নেওয়া যাক এবারের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে রানের দৌঁড়ে কে কোথায় আছে।

রোহিত শর্মা (ভারত) : 

গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলে সেমি-ফাইনালে ওঠে ফেভারিট ভারত। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ রানে হেরে শিরোপা জয়ের সেই লালিত স্বপ্ন শেষ হয় টিম ইন্ডিয়ার। আসর থেকে কোহলি-জাদেজারা বিদায় নিলেও সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় ভারতীয় ব্যাটিংম্যান রোহিত শর্মার রাজত্বটা এখনো আছে।

আসরের শুরু থেকে ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলেছিলেন ওপেনার রোহিত। লিগপর্বের ৮ ম্যাচের পাঁচটিতেই সেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়েন তিনি। আছে একটি হাফসেঞ্চুরিও। ফলে, রানের দৌঁড়ে সবার শীর্ষে জায়গা করে নেন রোহিত। ৯ ম্যাচে ৬৪৮ রান করতে ১৪টি ওভার ভাউন্ডারি ও ৬৭টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন এই বিধ্বংসী ওপেনার। কিন্তু ফাইনালের যুদ্ধে কিউইদেড় সঙ্গে কিছুই করতে পারেননি।  ৪ বলে মাত্র ১ রান নিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন রোহিত।ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের বিদায়ে রোহিতের আর কোন ম্যাচ না থাকায় তার রান পরিবর্তন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ডেভিট ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া) : 

রোহিত শর্মার থেকে এক ম্যাচ বেশি খেলেও অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার টপকাতে পারেননি ভারতীয় ওপেনারকে। ওয়ার্নারের দলও সেমিতে ওঠে; কিন্তু রোহিতের মতোই ব্যর্থ ছিলেন তিনি। মাত্র ৯ রানে দলকে বিপদে ডেলে দিয়ে ফিরেছিলেন ওয়ার্নার। অজিদের ৮ উইকেট হারায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড।

রোহিতের চেয়ে মাত্র ১ রান কমে ৬৪৭ রান নিয়ে আছে দ্বিতীয় অবস্থানে ওয়ার্নার। ১০ ম্যাচে তিন সেঞ্চুরি ও তিন হাফসেঞ্চুরির সুবাদে ৬৪৭ রান করেন অস্ট্রেলিয়ার এ সাবেক অধিনায়ক।

ভারতীয় ওপেনারের মতোই ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে অজিদের বিদায়ে আর কোন ম্যাচ না থাকায় ওয়ার্নারের রান পরিবর্তন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ) : 

রোহিত-ওয়ার্নারের চেয়ে কম ম্যাচ খেলে দুই সেঞ্চুরি আর পাঁচ হাফসেঞ্চুরির সুবাদে ৬০৬ রান নিয়ে তিনে আছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।  বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশনে কেবল উজ্জ্বল ছিলেন সাকিব। প্রত্যেকটি ম্যাচে নিজের নামের সুবিচার করেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি দলের অধিনায়ক।৬০৬ রানের পাশাপাশি ৮ ম্যাচে ১১ উইকেট নেন এ অলরাউন্ডার। এই আসরে সাকিবের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর অপরাজিত ১২৪ রান; ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

জো-রুট (ইংল্যান্ড) : 

নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে ৫৪৯ রান নিয়ে চারে আছেন ইংলিশ টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান জো-রুট। দুই শতক আর তিন অর্ধশতকের সুবাদে এ রান করেন তিনি। যেখানে কেবল দুটি ছক্কা ও ৪৮টি বাউন্ডারি মেরেছেন এই ইংরেজ।

জো-রুটের দল এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠেছে। আগামী রবিবার (১৪ জুলাই) ক্রিকেটের তীর্থভূমি লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণি ম্যাচে কেবল একটি সেঞ্চুরি করলেই টপে থাকা রোহিত শর্মাকে ছাড়িয়ে যাবেন রুট। শতরানের সুবাদে ৫৪৯ থেকে রুটের রান হবে ৬৪৯!

কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড) : 

রুটের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ৫৪৮ রান নিয়ে পাঁচে কিউই অধিনায়ক। নিউজিল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার একমাত্র সিড়ি হিসেবেই নিজেকে প্রস্তুত করেছেন এ ব্যাটসম্যান।

এই কিউই অধিনায়কেরও সুযোগ থাকছে ফাইনালে ভালো খেলে টপে যাওয়ার। তবে তার জন্য উলিয়ামসনকে সেঞ্চুরি থেকে আরও একটি বার দুটি রান বাড়তি করতে হবে; তাহলেই সবাইকে ছাড়িয়ে চূড়ায় যাবেন উইলিয়ামসন।

এরপরই যথাক্রমে ১০ ম্যাচ খেলে ৫০৭ রান নিয়ে ছয়ে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যারন ফিন্স, সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে জনি বেয়ারস্টো ৪৯৬ রান নিয়ে সাতে, ৮ ম্যাচ খেলে ৪৭৪ রান নিয়ে আটে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান বাবর আজম। ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি আছেন নয়ে। তার ব্যাট থেকে থেকে এসেছে মাত্র ৪৪৩ রান। ফলে জায়গা হয়েছে নয়ে। আর সাত ম্যাচে ৪২৬ রান নিয়ে শীর্ষ দশে আছে ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়।

আর বাংলাদেশি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম আছেন এই তালিকার ১৫ নম্বরে। এক সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটির সমন্বয়ে ৮ ম্যাচে ৩৬৭ রান করেছেন মুশি।

শেয়ার করুন