প্রযুক্তি ব্যবহারের পাল্টে যাচ্ছে দেশের ফুটবল

প্রযুক্তি ব্যবহারের পাল্টে যাচ্ছে দেশের ফুটবল

ক্রীড়া ডেস্ক

দেশের ফুটবলে প্রযুক্তি ব্যবহারের পথটা দেখিয়েছেন মূলত আধুনিক ঘরানার কোচ মারুফুল হক। ২০১৫ কেরালা সাফ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করেন উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো এ কোচ। টুর্নামেন্ট দুটিতে জাতীয় দল ব্যর্থ হলেও দেখে নিতে পেরেছিলেন দলের কে কতটা সামর্থ্য দিয়ে খেলেছিলেন। ক্লাব বা জাতীয় দলÑ সব পর্যায়ে প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে বিশ্বফুটবল। চলমান ম্যাচের সব তথ্য হাতের মুঠোয় দেখিয়ে দিচ্ছে প্রযুক্তি। ফলে ফুটবলটা আরও সহজ হয়ে এসেছে। প্রযুক্তির ওপর ভর করে সাফল্যও পাচ্ছে দলগুলো। প্রযুক্তি দৌড়ে প্রতিবেশী ভারতের চেয়েও যোজন দূরত্বে পিছিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল।চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে মারুফুল হকের তারুণ্যনির্ভর আরামবাগের স্বাধীনতা কাপ জয়ের নেপথ্যে জিপিএস প্রযুক্তির বড় ভূমিকা। এরপর থেকে প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে ক্লাবগুলো। জিপিএসের মতো উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস ব্যবহার শুরু করেছে শীর্ষ লিগের দলগুলো। আরামবাগ প্রথম ব্যবহার করেছে জিপিএস, এরপর আরেক প্রযুক্তি ‘দ্য ভিডিও অ্যানালিস্ট’ এনেছে ২০১৭ মৌসুমে ঘরোয়া শীর্ষ ফুটবলে পা রাখা সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে একটি দলের বিশ্লেষণ। খেলার ধরনের তুলনামূলক অবস্থা ও খেলা পরিবর্তনের সেট প্লে বিশ্লেষণ করে এ প্রযুক্তি, বলে দেবে কীভাবে বিপক্ষ দল আচরণ করছে এবং করবে ও খেলবে। দ্য ভিডিও অ্যানালিস্ট সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করছেন সাইফের ব্রিটিশ সহকারী কোচ আলেক্স ম্যাককার্থি, এরই মধ্যে তারা প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। ম্যাককার্থি জানান, ‘ম্যাচের ভিডিওকে বিভিন্নভাবে ভাগ করে দেখায় এটি। কোথায় সমস্যা-দুর্বলতা দেখায়, কোন খেলোয়াড় কোথায় অবস্থান নেবে, তার কি দায়িত্ব তাও সুপারিশ করবে এ প্রযুক্তি।’ম্যাচের ভিডিওর ওপর নির্ভর করতে হয় এ প্রযুক্তিকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিটি নিয়ে কাজ করার কতটুকু সুযোগ আছেÑ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ কোচের মন্তব্য, ‘আপাতত মাইকুজো বা যে টিভিতে ম্যাচ দেখানো হয়, সে ভিডিও বিশ্লেষণ করে সফটওয়্যারটি। তবে বাংলাদেশে টিভিতে যেখানে বল আছে শুধু সে জায়গা দেখায়, তাই এর বাইরে পেছনের ফুটবলারদের আচরণ কী হচ্ছে, দেখাতে পারছে না। উন্নত দেশের অনেক ক্যামেরা থাকায় বিশ্লেষণ করা সহজ হয়।’ দলের ফুটবলারদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ প্রযুক্তি আনা হয়েছেÑ জানান সাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, ‘গত মৌসুমের পর থেকেই কোচিং স্টাফ, ব্যাকগ্রাউন্ড ইকুয়েপমেন্সে জোর দিয়েছি। চলতি মৌসুমে ফুটবলারদের চেয়ে ১০ গুণ বেশি খরচ করেছি সরঞ্জাম ও কোচিং স্টাফ নিয়োগ দিতে। ফুটবলাররা যেন ঠিকপথে থাকে, আন্তর্জাতিকমানের হয় সে চেষ্টা করা হচ্ছে।’
গত মৌসুমে পেশাদার লিগে নাম লেখানো ক্লাবটি তারকা ফুটবলার নিয়ে বড় বাজেটের দল গড়েছিল। লিগে চতুর্থ হলেও প্রথমবারেই এএফসি কাপ খেলেছে তারা। চলতি মৌসুমে তারুণ্যনির্ভর দল গড়েছে, তারকা বলতে জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের তৈরি করতেই জিপিএস প্রযুক্তি আগেই ব্যবহার শুরু করেছিল ক্লাবটি, ম্যাচ বিশ্লেষণের জন্য এনেছে সফটওয়্যার। এরই মধ্যে সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফুটবলারদের ভিডিও দেওয়া হয়েছে। তাদেরও অ্যাডপ্টেশনের ব্যাপার আছে। আরও প্রযুক্তি আনা হবে। ড্রোন ক্যামেরাও থাকবে, যা দিয়ে পুরো মাঠের খেলোয়াড়দের অবস্থান বিশ্লেষণ সম্ভব হবে। ড্রোন ক্যামেরা পরিচালনার শর্ত আছে দেশে, অনুমতি নিয়েই ডিজিটাল ক্যামেরা এনে ফুটবলারদের উন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় সাইফ। কোচ ম্যাককার্থি জানান, ‘আমাদের শুধু প্রশ্ন করতে হবে, বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে প্রযুক্তি সুপারিশ তৈরি করে দেয়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে বাস্কেটবল, আমেরিকান ফুটবল ও বেসবলে এ ধরনের গভীর বিশ্লেষণ দেখা হয়। ফুটবলে ইউরোপের দেশ ও শীর্ষ ক্লাবগুলো ব্যবহার করে।’ ২০১৫ সালে মারুফুল হক জাতীয় দলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও এ বছর জিপিএস ডিভাইস কিনেছে বাফুফে।

শেয়ার করুন