অর্থনীতি

ঘাটতি তিন মাসের দুদক পোষাতে চায় দুই মাসে

আলো রিপোর্ট :

দেশবাসীকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেওয়া দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে চান আগামী দুই মাসের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ তা নিয়ে বেশ সরগরম দুদক কার্যালয়ও। সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতেই এখন এই ‘দৃশ্যমান’ অগ্রগতির পেন্ডুলাম দোল খাচ্ছে। দুদকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, সবাই আসলে বোঝার চেষ্টা করছেন, হঠাৎ করে দুদক চেয়ারম্যান কেন দুইমাসের এই ‘টাইমফ্রেম’ ঘোষণা করলেন। আগামী দুই মাসে কী এমন পরিবর্তন আসবে দুদকের নিয়মিত কার্যক্রমে! একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ২০১৭-১৮ সালে কেবল তলব নোটিশ জারি ও জিজ্ঞাসাবাদের নামে কালক্ষেপণেই ছিলো দুদকের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ। এর বাইরে দুদক বিরোধী দলীয় নেতা ও ব্যবসায়ীদের সম্পদের হিসাব নেওয়া ও আয়বহির্ভূত সম্পদ খুঁজে ফিরেছে। এর বাইরে কেবলমাত্র সংলাপ আয়োজন, গণশুনানি ও বিতর্কিত সরকার দলীয় কয়েকজন নেতাকে তলব করেছিলো দুদক। যাদের বেশিরভাগই মনোনয়নের হিসাবের বাইরে ছিলেন। অন্যদিকে বেসিক ব্যাংক দুর্নীতি, ফারমার্স ব্যাংক দুর্নীতি, হলমার্ক কেলেংকারি, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, বড় পুকুরিয়ার কয়লা চুরি, কঠিন শিলা প্রকল্পের চুরি, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টে থেকে সোনা পাচারসহ বেশিরভাগ চাঞ্চল্যকর ঘটনাই থেকে গেছে দুদকের তদন্ত কার্যক্রম শেষের বাইরে। উল্টো শত শত কোটি টাকার সার চুরির ঘটনায় সরকার দলীয় সদ্যবিদায়ী নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান পোটনকে তলব করেই দায় শোধ করেছে দুদক। একই ঘটনা ঘটেছে দশম সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক ও খুলনা-২ এর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের ক্ষেত্রে। আতিকের বিরুদ্ধে কয়েক শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মিজানের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ হিসাববহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনেছিলো দুদক। তবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বাংলানিউজকে বলেন, দুই মাস পর কী ঘটবে তা জনগণই দেখতে পাবে। দুদক কেবল অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করবে। কে কোন দলের বা কার কত ক্ষমতা, তা যেমন আগেও দুদকের বিবেচ্য বিষয় ছিলো না, ভবিষ্যতেও থাকবে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের কারণে আমরা গত দুই থেকে তিনমাস স্বাভাবিক কাজ করতে পারিনি। স্বীকার করতেই হবে একটি অংশগ্রহনমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য দুদক তার কাজে কিছুটা ছাড় দিয়েছিলো। এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে আরো দুই মাস সময় লাগবে। এরপরই দুর্নীতি দমনে দুদকের নিয়মিত কাজ চোখে পড়তে শুরু করবে। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কেবল বেসিক ব্যাংক কেলেংকারিই না, সব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেই লড়াই করছে দুদক। এ বিষয়গুলো নিখুঁত তদন্তের স্বার্থেই সময় নেওয়া হয়েছে। যাতে প্রকৃত বিষয়গুলো তদন্তে উঠে আসে এবং অপরাধীরা অপরাধের নিশ্চিত শাস্তির মুখোমুখি হয়।

Related Articles