নগর-মহানগরসারাদেশ

ছাপড়হাটি ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রে উদ্যোক্তাদের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি -গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য কেন্দ্র উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য কেন্দ্র উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে এই তথ্য কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এলাকার জনগণ।
অভিযোগ রয়েছে এই তথ্য কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রোকেয়া সরকার পপি তথ্য কেন্দ্রে চাকরি করার পাশাপাশি অন্যত্র চাকরিতে নিয়োজিত রয়েছেন। উল্লেখ্য, এব্যাপারে ইতোপূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের সচেতন জনগণ সুন্দরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নাতি দমন কমিশন বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও এখন পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এর পরিপ্রেেিক্ষতে ইউনিয়নবাসির পক্ষ থেকে গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে এই তথ্য কেন্দ্র থেকে তাদের অপসারণ ও প্রতিকার দাবি করা হয়।
ফলে ইউনিয়নবাসির পক্ষ থেকে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের ফজলার রহমান ওরফে শাহেন শাহ’র ছেলে জাহাঙ্গীর আলম জিন্নাহ লিখিত বক্তব্যে উলে¬খ করেন, উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম পরিষদে যোগদান করার পর থেকেই অত্র পরিষদে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকেন। তার পরিবর্তে তার ছোট ভাই সিদ্দিকুর রহমান ও শ্যালক মুন্নাকে দিয়ে তথ্য কেন্দ্রের কাজ চালিয়ে আসছে। ওই তথ্য কেন্দ্রের উদ্যোক্তা হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম মূলতঃ একজন পল্ল¬ী বিদ্যুতের ওয়ারিং মিস্ত্রী হিসেবে কর্মরত। এছাড়া অপর উদ্যোক্তা ওই সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রোকেয়া সরকার পপিও স্বাস্থ্য বিভাগের আওতাধীন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছে। তিনিও কোনদিন ইউপি পরিষদের তথ্য কেন্দ্রে আসেন না। এছাড়া কম্পিউটার পরিচালনা সম্পর্কেও তার কোন ধারণা নাই। ফলে ছাপড়হাটি ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রটি অধিকাংশ সময়ে বন্ধই থাকে।
অন্যদিকে তাদের বদলী হিসেবে কর্মরত ওই দুই ব্যক্তির দ্বারা তথ্য কেন্দ্রে আসা জনগণ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জন্মনিবন্ধনের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফিসের অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া জন্মনিবন্ধনের বয়স কম ও বাড়ানোর অজুহাতে বেআইনীভাবে লোকজনের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়। তদুপরি ভুয়া রশিদ মূলে কর আদায় করে ইউপি তহবিলে জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করারও অভিযোগ রয়েছে। তথ্য কেন্দের সরকারি ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও ফটোষ্ট্যাট মেশিন আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং তথ্য কেন্দ্রের আইপিএসটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। অপরদিকে ইন্টারনেট সংযোগ তারা ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন মোবাইল গ্রাহকদেরকে পাস ওয়াড দিয়ে ওয়াইফাই সংযোগ প্রদান করেও ওই উদ্যোক্তারা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়নবাসিরদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন খায়রুল ইসলাম নয়ন, আহসান হাবীব রুবেল, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

Related Articles