এরশাদের কবর খোঁড়ার কাজ শুরু পল্লীনিবাসে

এরশাদের কবর খোঁড়ার কাজ শুরু পল্লীনিবাসে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নগরীর  দর্শনা মোড়ের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নিজ বাসভবন পল্লীনিবাসে এরশাদের কবর খোঁড়ার কাজ শুরু করেছে রংপুরের নেতাকর্মীরা।সোমবার বিকেলে ৩টার পর রংপুর সেন্ট্রাল রোডস্থ জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার নেতৃবৃন্দের জরুরি সভা শেষে দুপুরে এই কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়।দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগরের সভাপতি সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান নিজে উপস্থিত থেকে কবর খোঁড়ার কাজ তদারকি করছেন।

এ সময় দলের যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এস.এম ইয়াসির, গাইবান্ধা জেলা সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রশিদ, রাজশাহী জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল ফারুক, পঞ্চগড় জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সালেক, দিনাজপুর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুবেল, সাবেক সংসদ সদস্য সাহানারা বেগম, রংপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, জয়পুরহাট জেলা সভাপতি তিতাস মোস্তফা, ঠাকুরগাঁও জেলা সদস্য সচিব আলী রাজী স্বপন, নীলফামারীর সদস্য সচিব শাজাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মোস্তাফিজার রহমান বলেন, এরশাদ স্যারকে জাতীয় নেতার মর্যাদা দিয়ে সমাহিত করা হলে আমরা মানতাম। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। স্যারের মরদেহ ও দাফন নিয়ে কাউকে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। রংপুরের পুত্রবধূ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করব, আপনার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আপনি জনগণের আকুতি বুঝেন। জনগণের চাওয়া-পাওয়া দাবি কী তা বুঝেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলে দিন, আমাদের সন্তানকে রংপুরের মাটিতে সমাহিত করার জন্য।

এদিকে এরশাদের মৃত্যু-পরবর্তী অনুষ্ঠানিকতার জন্য রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। দুপুর থেকে মাঠে প্যান্ডেল নির্মাণ, মাইক সংযোগ স্থাপন ও মাঠ পরিষ্কার করা হচ্ছে। শোক প্রকাশ করে নগরজুড়ে চলছে জানাজায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মাইকিং। দলীয় নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করার পাশাপাশি কার্যালয়ে উত্তোলন করা হয়েছে কালো পতাকা। পাড়া-মহল্লার মসজিদ মাদরাসাতে এরশাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে চলছে দোয়া মাহফিল ও কোরআন খতম। জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়সহ নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে মাইকে কোরআন তেলায়াত প্রচারের পাশাপাশি শোকপ্রকাশ করে ব্যানার ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে। দাফন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তৃণমূলের নেতা-কর্মীসহ রংপুরবাসী চাইছেন রংপুরই হোক এরশাদ শেষ ঠিকানা।

মঙ্গলবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতির মরদেহ রংপুরে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে এরশাদের মরদেহ আবার হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় নিয়ে এসে বাদ জোহর সেনা কবরস্থানে দাফন করা হবে।

শেয়ার করুন