শিরোনাম

আজ রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০৫ অপরাহ্


জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জরুরি সেবা ৯৯৯

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জরুরি সেবা ৯৯৯

আলো রিপোর্ট

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯। গত বছর ১২ ডিসেম্বর সেবাটি চালুর পর থেকে চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১১ মাসে ১২ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৫ জনকে জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে। খুনের চেষ্টা প্রতিহত করা থেকে শুরু করে নারী পাচার রোধসহ প্রায় সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। একই সময়ে অপ্রয়োজনে কিংবা সেবা কার্যকর কি না, তা জানতে কল দিয়েছে প্রায় ৫৯ লাখ মানুষ। তবে পুলিশ বলছে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে এবং ভুয়া কলের সংখ্যাও আস্তে আস্তে কমে আসছে।জাতীয় জরুরি সেবা বিভাগের পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, শুরুর দিকে অধিকাংশই অপ্রয়োজনীয় কল আসত। সেবাটি আসলেই চালু আছে কি না, তা জানতে অনেকেই কল করতেন। তবে মানুষের মধ্যে এখন সচেতনতা বাড়ছে। ভুয়া এবং অপ্রয়োজনীয় কলের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। ২৪ ঘণ্টাই পুলিশ জরুরি কলের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। জনবল ঘাটতি ও গাড়ি স্বল্পতাসহ এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে সেবা আরও জনপ্রিয়তা পাবে এবং মানুষকে সহযোগিতা করতে পারব।জরুরি সেবা ৯৯৯ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানান, মূলত তিন ধরনের জরুরি সেবা তারা দিয়ে থাকেন। এগুলো হলো- পুলিশি সেবা, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে প্রাণনাশের আশঙ্কা, ধর্ষণ সংক্রান্ত ঘটনা, গৃহকর্মী নির্যাতন, কাউকে আটকে রাখা, লিফটে আটকেপড়া, অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা, দুর্ঘটনা, অগ্নিকা-ের ঘটনা, অ্যাম্বুলেন্স, পারিবারিক সমস্যা সমাধান, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার, গাছ কাটা বন্ধ করা, শব্দদূষণ, ছিনতাইসহ নানা ধরনের সমস্যায় সাধারণ ও বিপদগ্রস্ত মানুষকে তারা সহযোগিতা করেছেন। মূলত ৯৯৯ সেবায় নাগরিকরা মুঠোফোন থেকে সম্পূর্ণ টোল ফ্রি বা বিনা পয়সায় সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। ৯৯৯ সার্ভিসের প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।জাতীয় জরুরি সেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ১১ মাসে ৯৯৯-এ প্রায় ৭১ লাখ কল এসেছে। সেবা নিয়েছেন ১২ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৫ জন। পুলিশের সহায়তা চেয়েই বেশিরভাগ ফোন আসে। এছাড়া দুর্ঘটনার খবর জানাতে ও নিরাপত্তা চেয়েও অনেক বেশি ফোন আসে।জরুরি সেবার পরিসংখ্যান মতে, জরুরি সেবার ৭৫ শতাংশ পুলিশি সেবা, ২০ শতাংশ ফায়ার সার্ভিস এবং ৫ শতাংশ অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পেতে কল আসে। কলের মধ্যে ইনকোয়ারি কল ১০ লাখ, ৯৮ হাজার ৯৭৩, ডিপার্টমেন্টাল কল ১০ হাজার ৬১২, চাইল্ড কল ১ লাখ ৩ হাজার ২৪১ এবং উইমেন কল ২৮ হাজার ৯৯৯টি। এর মধ্যে সাড়ে ১১ মাসে দুর্ঘটনা-সংশ্লিষ্ট কল এসেছে ৪ হাজার ৫৯৬, খুনের উদ্যোগ ২৯৪, শব্দদূর্ষণ ১ হাজার ১৯৮, অগ্নিদুর্ঘটনা ৪ হাজার ৮৩৪, বাল্যবিয়ে ১ হাজার ১৮৯টিসহ অন্তত ৪৬টি বিষয়ে জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে।জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কার্যক্রম পরিচালিত হয় রাজধানীর আবদুল গণি রোডের পুলিশ কন্ট্রোলরুম থেকে। একজন পুলিশ সুপারের (এসপি) তত্ত্বাবধানে দুটি ফ্লোরে কাজ করেন ৪৬৮ জন। এর মধ্যে একজন এসপি ছাড়াও আছেন তিন এএসপি, ৩৮৭ কল টেকার, ৫৩ ডিসপাসার এবং ২৩ সুপার ভাইজার। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা এখানে চারটি শিফটে কাজ করেন তারা। কল টেকাররা জানান, তাদের কাছে প্রতিটি কলই গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিদিনই অনেক বিরক্তিকর ও ভুয়া ফোনকল আসে। কেউ কেউ অশ্লীল কথাও বলেন। তবে আগের চেয়ে বর্তমানে ভুয়া ও বিরক্তিকর কলের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে।কার্যক্রম সম্পর্কে কর্মকর্তারা বলেন, যে কোনো নাগরিক তার জরুরি মুহূর্তে ৯৯৯-এ কল করলে তার কলটি সরাসরি একজন কল টেকার রিসিভ করেন। কল টেকার জরুরি পরিস্থিতি শুনে ঘটনাস্থল ও কলারের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে একটি ইভেন্ট লগ তৈরি করবে। ইভেন্টটি সিএডি সিস্টেমের মাধ্যমে ডিসপাসারের কাছে ডিসপাস করবে। ডিসপাসার পুরো সময়টা ধরে কলার এবং লোকাল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে সেবা নিশ্চিত করার পর ইভেন্টটি শেষ করবে। সেবা প্রদানের কোনো প্রতিবন্ধকতা কিংবা সেবা সম্পর্কিত কলারের কোনো অভিযোগ থাকলে ইনকোয়ারি টার্মিনাল ইননিট সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে থাকে।

শেয়ার করুন