বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ২২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে

বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ২২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে

আলো রিপোর্ট

দেশে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে আরো ২২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে। এ জন্য ৬ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫টি সোলার বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনসহ মোট ১৬টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সোলার বিদ্যুতকেন্দ্রগুলো জামালপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও মৌলভীবাজার জেলায় নির্মাণ করা হবে। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির শেষ বৈঠকে এ প্রস্তাবগুলোয় অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, এটি ছিল বর্তমান সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রি¿সভা কমিটির শেষ সভা। সভায় মোট ১৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে ১৬টি অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭টি বিদ্যুৎ বিভাগের, ৩টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের, ৬টি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক পরিবহন বিভাগের। তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ প্রস্তাবের মধ্যে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় ১০০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে ৮টাকা ৮৪ পয়সা। অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার অমরখানা ও শালাডাঙ্গা মৌজায় এক হাজার ৩৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৭ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ৯ টাকা। আর এক প্রকল্পের আওতায় একই জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় ৫৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপন, এ প্রকল্প উৎপাদিত প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ৮ টাকা ৬০ পয়সা। নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রতি ইউনিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ টাকা ৯৬ পয়সা। মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলায় ১০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনে ব্যয় হবে ২৮৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে ৮ টাকা ৮০ পয়সা।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার ট্রান্সফরমার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৬১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ফেনী জেলাধীন সোনাগাজী উপজেলায় মহুরী বাঁধ এলাকায় ৩০ মেগাওয়াটের বায়ু বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৯৩৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ৮ টাকা ৮৮ পয়সা। বিদ্যুৎ ও জ্বালনির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধিতে রূপকল্প ১ শীর্ষক প্রকল্পের অধীন শ্রীকাইল ইস্ট-১ অনুসন্ধান কূপ খনন কার্যক্রমের জন্য মাড এবং কেমিক্যাল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন। এতে ব্যয় হবে ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, একই প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সিমেন্টের ক্লাস নির্ণয়, পর্যবেক্ষণের জন্য ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। অপর একটি প্রস্তাবে সালদা নর্থ-১ অনুসন্ধান কূপের চলমান মাড লগিং সার্ভিসের মেয়াদ ৪৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। ফলে ব্যয়ও বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৪৮ লাখ টাকা। বৈঠকে ৬টি ভেরিয়েশন প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো ইটনা-মিটামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ৪টি প্যাকেজ ডব্লিইউডি-১,২,৩,৪ এর আওতায় ব্রীজ নির্মাণ, হার্ড সোলডার, রোড, স্লোপ, লিংক রোড নির্মাণ। এতে মোট ব্যয় হবে ৯০৯ কোটি টাকা। আগে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৬৪ কোটি টাকা। সে হিসেবে ব্যয় বেড়েছে ১৪৫ কোটি টাকা। এছাড়া ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট শীর্ষক প্রকল্পের রংপুর জোনের আওতায় ১৯টি সেতু নির্মাণ কাজের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন। এতে ব্যয় ৭৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা বেড়ে ৬২০ কোটি ১২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। নির্মাণাধীন সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের প্যাকেজ ডব্লিইউ ৩ এর ভেরিয়েশন প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির ব্যয় ৪৯ কোটি ৯ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগে ছিল ১৪৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

শেয়ার করুন