সুন্দর হোক সবার জীবন

সুন্দর হোক সবার জীবন

আলো রিপোর্ট

সূযোর্দয়ের মধ্য দিয়ে সূচিত হয়েছে নতুন আরেকটি বছরের। আবারও নতুন একটি বছরে প্রবেশ করেছি আমরা। বিদায়ী বছরের যাবতীয় কষ্ট, বঞ্চনা, হতাশাসহ নেতিবাচক দিকগুলো পেছনে ফেলে ভালো কিছু প্রাপ্তির স্বপ্ন নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। নতুন দিনের আবহে পুরনো ব্যথর্তা মুছে সংকল্প করতে হবে নতুন করেই। যে কোনো নতুনই সম্ভাবনা জাগায়, এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগায়। মানুষ যখন বিগত দিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মনোবল কিংবা একাগ্রতায় দিনযাপন করে তখন তা আর ক্লান্তিকর হয় না। জীবন হয়ে ওঠে অথর্ময়। নতুন বছরে বিগত দিনগুলোর অনিশ্চয়তা, ভীতি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অবসান হোক, নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হোক সবার জীবন এমনটি প্রত্যাশা। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জাতীয় ও আন্তজাির্তকভাবে ২০১৮ সাল ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল। ঘটনাবহুল ২০১৮ সালের অনেক ঘটনার রেশ টেনেই মানুষ এগিয়ে যাবে ২০১৯ সালের দিনরাত্রির পথে। গত বছরে একাদশ জাতীয় নিবার্চন নিয়ে যেমন মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ছিল, তেমনি নিবার্চন সংক্রান্ত ও রাজনৈতিক নানান বিষয়ই ছিল আলাপ-আলোচনায়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল। শিক্ষা খাতে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফঁাস, কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ নানা ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে কেটেছে ২০১৮ সাল। বছরের শেষদিকে এসে অভিভাবককে ডেকে নিয়ে বকা দেয়ার জেরে ভিকারুননিসার ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। ২০১৮ সাল বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভালো ও মন্দের মিশ্রণ লক্ষ্য করা গেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র আন্তজাির্তক শিরোপাÑ এশিয়া কাপ ট্রফি আসে নারী ক্রিকেট দলের হাত ধরে। গেল বছরেও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো পযের্বক্ষণে দেখা গেছে দুঘর্টনায় ঝরে গেছে অনেক প্রাণ। এ ছাড়া নানারকম অপরাধমূলক ঘটনা মানুষকে বিচলিত করেছে। আমরা হারিয়েছি দেশের অনেক কীতির্মান সন্তানকে। আমরা বলতে চাই, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, বিভিন্ন ধরনের সূচকগুলো আমলে নেয়া, রেমিট্যান্সসহ দেশেকে সাবির্ক সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব বিষয়গুলোর দিকে সংশ্লিষ্টরা আরো বেশি মনোযোগী হবে এমনটি কাম্য। এটা সত্য যে, নতুন বছরে কী ঘটতে যাচ্ছে ব্যক্তি মানুষ যেমন সেটা জানতে চায়, তেমনি রাষ্ট্রীয় জীবনেও নতুন বছরটা কেমন যাবে তারও একটা অনুমাননিভর্র বিচার-বিশ্লেষণ চলতে থাকে। একটা আগত বছরে কী কী ঘটতে পারে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সেটা জানার কৌত‚হল থাকার অথর্ হলো মানুষ পূবের্ প্রাপ্ত জ্ঞান অনুসারে ভবিষ্যৎকে সুন্দর করতে চেষ্টা করে। অতীতের সব অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠে আগামীর পথ ও পাথেয়। বিদায়ী বছর আমাদের চেতনা জাগ্রত করার পাশাপাশি আহŸান করে যায় নতুন সম্ভাবনায় বলিষ্ঠ যাত্রী হিসেবে দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার। ফলে ব্যথর্তার দিকগুলো আমলে রেখে সফলতা লাভের জন্য নতুন বছরের প্রথমদিন থেকেই শুরু হোক পরিকল্পিত পথচলা। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলেই নতুন বছরটি হয়ে উঠতে পারে অনেক বেশি সাফল্যমÐিত।

একটি দেশের সাবির্ক উন্নয়ন ও জীবনযাপনের মান নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়ন অপরিহাযর্। আগামীতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো প্রজ্ঞার পরিচয় দেবে, একে অন্যের সঙ্গে শ্রদ্ধার সম্পকর্ স্থাপন করে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেÑ এমন প্রত্যাশা সবার। সবোর্পরি বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে তখন আমাদের পেছনে পড়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। সঙ্গত কারণে অতীতের হতাশা, গøানি ভুলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে ঠিকই, তা অতিক্রমের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখতে হবে। নানামত্রিক অপরাধমূলক ঘটনাগুলো আমলে নিয়ে কাযর্কর উদ্যোগ গ্রহণ করাসহ দেশের অথৈর্নতিক সমৃদ্ধিই দেশবাসীর কাক্সিক্ষত। দেশের মানুষের যোগ্যতা, সততা ও দৃঢ়তা প্রবলÑ যার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সমৃদ্ধি অজের্নর পথ আরও প্রশস্ত হতে পারে বলেই আমাদের বিশ্বাস। নতুন বছরে সবার জীবন আলোকিত হোক এই প্রত্যাশায় সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিবাদন।

শেয়ার করুন