শিরোনাম

আজ শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন


টাইগারদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ

টাইগারদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ

ক্রীড়া ডেস্ক :

আশা ছিল শেষ ভালোর। সেমিফাইনাল স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর নতুন আশায়ও গুড়ে বালি। শেষ ভালো নয়, বরং শেষের জন্য জমা ছিল যেন সবচেয়ে খারাপটুকুই। শাহিন শাহ আফ্রিদির আগুনে বোলিংয়ে পুড়ল টাইগারদের ব্যাটিং। এবারের আসরে নিজেদের সবচেয়ে কম রানের স্কোর গড়ে পাকিস্তানের কাছে বড় হারের গ্লানিতে শেষ হলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ।

বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৯৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। এই হারে মিলিয়ে গেছে পঞ্চম স্থানের হাতছানিও।

অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করবে সাত নাকি আটে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করবে বাংলাদেশ। তবে অবস্থান যেটিই হোক, বিশ্বকাপ অভিযানকে এবার ব্যর্থই বলতে হবে।

লর্ডসে শুক্রবার সেঞ্চুরি করেছেন পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম-উল-হক, ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি বাবর আজম। পাকিস্তান ৫০ ওভারে তোলে ৯ উইকেটে ৩১৫ রান। বাংলাদেশ ৩৫ বল আগেই গুটিয়ে গেছে ২২১ রানে।

৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ধসিয়ে দিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার শাহিন আফ্রিদি। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এটি।

পাকিস্তান বড় সংগ্রহের ভিত গড়েছিল দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে। ঠিক ১০০ রান করেছেন ইমাম, বাবর ফিরেছেন ৯৬ রানে। দুজনের জুটি ছিল ১৫৭ রানের।

৫ উইকেট নিয়ে লর্ডসের ওয়ানডে অনার্স বোর্ডে নাম লিখিয়েছেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে বিশ্বকাপে ৫ উইকেট নিলেন একাধিকবার। তবে রান খরচ করতে হয়েছে তাকে ৭৫। ৩ উইকেটের জন্য সাইফের খরচ ৭৭ রান।

পাকিস্তানকে হয়তো আরও কম রানে আটকাতে পারত বাংলাদেশ, যদি তারা নিতে পারত সুযোগগুলো। ক্যাচ ছাড়ার ধারাবাহিকতা এই ম্যাচেও বয়ে এনেছে দল। ৫৭ রানে পয়েন্টে বাবরের ক্যাচ ছাড়েন মোসাদ্দেক, ৬৫ রানে উইকেটের পেছনে ছাড়েন মুশফিকুর রহিম।

বাংলাদেশ বোলিংয়ে নেমেছিল টস হেরে। দুই প্রান্তে নতুন বলের দুই বোলারের শুরু ছিল দুই রকম। মেহেদী হাসান মিরাজ নিজের প্রথম ৪ ওভারে দেন কেবল ৬ রান। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন প্রথম ৩ ওভারেই হজম করেন একটি করে বাউন্ডারি।

প্রথম ব্রেক থ্রু দেন অবশ্য সাইফই। বেশ বাইরের বল পয়েন্টে মিরাজের হাতে তুলে দেন ফখর জামান।

তিনে নামা বাবর শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল। একবার রান আউটের খানিকটা সুযোগ দেয়া ছাড়া আর কোনো সুযোগ দেননি ইমাম। গড়ে ওঠে জুটি। তবে রান রেট অন্তত নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল বাংলাদেশ। ২৫ ওভারে পাকিস্তানের রান ছিল ১১৫।

খেলার মোড় বদলে যাওয়া সময়টুকু এরপরই। ২৬ থেকে ৩০, এই ৫ ওভারে রান আসে ৪৮। বাবরের দুবার জীবন পাওয়া ওই সময়ই। ক্যাচ নিতে পারলে হয়ো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এসে পড়ত বাংলাদেশের দিকে। উল্টো দুজনের জুটি ছাড়িয়ে যায় দেড়শ।

১৫৭ রানের জুটি শেষ পর্যন্ত ভাঙেন দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা সাইফ। তাকে পরপর দুটি চার মেরে ৯৬ রানে পৌঁছে যান বাবর। কিন্তু আসরে তাকে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেতে দেয়নি পরের বলে সাইফের ইয়র্কার। রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি বাবর।

ইমাম অবশ্য সেঞ্চুরি পেয়ে যান। ৩৬ ওয়ানডেতেই সপ্তম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ৯৯ বলে। তবে সেঞ্চুরিটাকে বড় করতে পারেননি। ঠিক ১০০ রানই হিট উইকেট, মুস্তাফিজের লেংথ বল ফ্লিক করতে গিয়ে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের পা চলে যায় স্টাম্পে।

এরপর বাংলাদেশ চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফিরতে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। ইমাদ ওয়াসিমের ২৬ বলে ৪৩ রানের ইনিংস তবু পাকিস্তানকে এনে দিয়েছে ভালো স্কোর।

মুস্তাফিজ-সাইফ উইকেট বেশি নিলেও দুর্দান্ত বোলিং করেছেন মিরাজ। দুঃস্বপ্নের মতো কাটানো বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটিতেও উইকেটশূন্য মাশরাফি মুর্তজা। নিজের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচে ৭ ওভারে বাংলাদেশ অধিনায়ক দিয়েছেন ৪৬ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩১৫/৯ (ফখর ১৩, ইমাম ১০০, বাবর ৯৬, হাফিজ ২৭, হারিস ৬, ইমাদ ৪৩, সরফরাজ ৩*, ওয়াহাব ২, শাদাব ১, আমির ৮, শাহিন ০*, মিরাজ ১০-০-৩০-১, সাইফ ৯-০-৭৭-৩, মুস্তাফিজ ১০-০-৭৫-৫, মাশরাফি ৭-০-৪৬-০, সাকিব ১০-০-৫৭-০, মোসাদ্দেক ৪-০-২৭-০)।

বাংলাদেশ: ৪৪.১ ওভারে ২২১ (তামিম ৮, সৌম্য ২২, সাকিব ৬৪, মুশফিক ১৬, লিটন ৩২, মাহমুদউল্লাহ ২৯, মোসাদ্দেক ১৬, সাইফ ০, মিরাজ ৬*, মাশরাফি ১৫, মুস্তাফিজ ১; হাফিজ ৬-১-৩২-০, আমির ৭-০-৩১-১, শাহিন ৯.১-০-৩৫-৬, ওয়াহাব ৭-০-৩৩-১, ইমাদ ৬-০-২৬-০, শাদাব ৯-০-৫৯-২)।

ফল: পাকিস্তান ৯৪ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাহিন শাহ আফ্রিদি

শেয়ার করুন