শিরোনাম
  কবিতা নাম : পথ       পলাশবাড়ীতে যানজট নিরসনে মহাসড়ক পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম       পলাশবাড়ীতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান       গোবিন্দগঞ্জে নেশাগ্রস্থ ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত ঃ ঘাতক ছোট ভাই গ্রেফতার       গাইবান্ধা সদর থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন       গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠিত       ডিমলায় নোংরা ও দুর্গন্ধ পরিবেশ সৃষ্টি করায় তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা       নড়াইলে ইয়াবাসহ এক দল যুবুককে আটক করেছে পুলিশ       নড়াইলে নিজের জমি বিক্রি করার অপরাধে একটি পরিবার অবরুদ্ধ       যুক্তরাষ্ট্রের পরোয়ানা ইরানি ট্যাংকার জব্দে    

আজ সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ১২:৪২ অপরাহ্


ঠেলাঠেলি কোচিংবাণিজ্য নীতিমালা নিয়ে

ঠেলাঠেলি কোচিংবাণিজ্য নীতিমালা নিয়ে

আলো রিপোর্ট :

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিংবাণিজ্য বন্ধে সরকারের করা নীতিমালা বৈধ ঘোষণা করে প্রায় ৫ মাস আগে উচ্চ আদালতের রায় দিলেও তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি এ নীতিমালা বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি- কে কতটুকু দায়িত্ব পালন করবে; কোচিংবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বরং এ নিয়ে বরাবরের মতো কৌশলী ঠেলাঠেলি চলছে। এ সুযোগে প্রণীত নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার কোচিংবাজ শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আগের মতোই কোচিং ও প্রাইভেট পড়িয়ে যাচ্ছেন।
আর এ পালস্নায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছেন। তারা রীতিমতো সাইনবোর্ড লাগিয়ে এ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে আবার সাইনবোর্ডের আড়ালে এই ব্যবসা অব্যাহত রেখেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎপরতায় বেশকিছু দিন কোচিংবাজ শিক্ষকদের মধ্যে যে ভীতি তৈরি হয়েছিল তা-ও পুরোপুরি কেটে গেছে। এতে শ্রেণিকক্ষের পাঠ্যদান কার্যক্রম আগের মতোই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে আগে দুদক মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও তা এখন থমকে গেছে। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর এ বিষয়ে ঠুটো জগন্নাথের ভূমিকা পালন করছে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা জানান, মাঠ পর্যায়ে এই নীতিমালা কতটা মেনে চলা হচ্ছে তা তদারকির জন্য নীতিমালায় প্রাথমিকভাবে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদ’ এবং বিভাগীয় ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদ সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নানারকম শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এই নীতিমালা বাস্তবায়নে সবার আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের বিষয়ে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ মনোযোগ নিশ্চিত করার তাগিদ রয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষকরা যাতে আর্থিক বঞ্চনা বা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধার অভাবের কারণে উদাসীনতা দেখাতে না পারেন সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো- সব ক’টি ইসু্যই এখনো আগের মতো ঠেলাঠেলির মধ্যেই গন্ডিবদ্ধ রয়ে গেছে।

রাজধানীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, স্কুলের বেশ ক’জন শিক্ষক অনেক আগে থেকেই দাপটের সঙ্গে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও গত ৭ ফেব্রম্নয়ারি উচ্চ আদালত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিংবাণিজ্য বন্ধে সরকারের করা নীতিমালা বৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়ার তা তারা একরকম বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে ক’দিন না যেতেই তারা আবার আগের মতোই পূর্ণোদ্যমে কোচিংবাণিজ্য শুরু করেছেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা তৎকালীন গভর্নিং বডির কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তবে তারা এ বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। পরে অভিভাবক প্রতিনিধিরা বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের বিভিন্ন পর্যায়ে অবহিত করেন। এ নিয়ে কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথাও বলেন। তবে এ ব্যাপারে তারা কারো কাছ থেকে কোনো সাড়া পাননি। বরং কোচিং বাণিজ্য বন্ধের দায়িত্ব এক পক্ষ অপর পক্ষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। কেউ কেউ আবার কোচিংবাজ শিক্ষকদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।

এদিকে হাইকোর্টের রায়ের আগে কোচিং বন্ধে মাউশি নানামুখী তৎপরতা চালালেও তা এখন একরকম বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি খোদ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে। তবে এর নেপথ্য কারণ সম্পর্কে সরাসরি কেউ কিছু বলতে রাজি হননি।

এ প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর আবদুল মান্নান যায়যায়দিনকে বলেন, ‘স্কুলে কোচিং বন্ধ করতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ব্যবস্থা নিয়েছি। দুদকও বিষয়টিতে তৎপর। তবে হাইকোর্টের রায়ের পর নতুন করে অভিযান চালানোর সুযোগ অধিদপ্তরের হয়নি। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে কোচিংবাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ক্ষমতা দেয়া আছে। শুধু তা-ই নয়, ওই কর্মকর্তারা স্কুলের শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিসহ অন্যান্যা বিষয় দেখার জন্য আকস্মিক পরিদর্শন করতে পারেন। পরিদর্শন শেষে তা প্রতিবেদন আকারে বিভাগীয় কার্যালয় বা অধিদপ্তরকে জানানোর কথা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের কোনো অভিযানের খবর আমরা পায়নি।’

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গহর ইকবাল যায়যায়দিনকে বলেন, ‘নীতিমালায় যে বিষয়গুলো আছে তা অত্যন্ত দুর্বলভাবে আছে। বিশেষ করে নিয়ম না মানলে শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বা সেটি কে নিবে তা স্পষ্ট নয়। বদলি বা এমপিও বন্ধের যে বিষয়টি আছে তা কে কার্যকর করবে তা স্পষ্ট নয়। ফলে দুদক যখন অভিযান চালিয়েছে তখন তারা বলেছে তাদের হাতে ব্যবস্থা নেয়ার মতো কোনো ক্ষমতা নেই। আবার অধিদপ্তর বলছে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া ব্যবস্থা নিতে পারবে না। বিষয়টি আসলে খুবই অস্পষ্ট যে নীতিমালা না মানলে কে ব্যবস্থা নেবে বা কি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া নীতিমালার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এখানে কোচিং বাণিজ্যকে নিষিদ্ধ না করে বরং অভিভাবকের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই কোচিং করানোর একটি সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে। যা কোচিং বাণিজ্য থেকে শিক্ষকদের দূরে রাখার পরিবর্তে বরং সহায়তাই করেছে। আর এসব সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য শিক্ষাবিদরা বারবার শিক্ষা আইনের ওপর জোর দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো শিক্ষা আইন পাস করতেই বড্ড অনিহা দেখা যাচ্ছে। প্রয়োগের বিষয়টিতো আরো অনেক পরের কথা।’

এদিকে কোচিংবাণিজ্য বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির উদাসীনতা ও কৌশলী ঠেলাঠেলির নেপথ্যে সবারই স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষাবিদরা। তারা জানান, সারাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ কোচিং সেন্টার রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও অন্যান্য দলের নেতা এগুলোর সঙ্গে জড়িত। আর এ বাণিজ্য থেকে উপার্জিত প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার একটি অংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একশ্রেণির কর্মকর্তা থেকে শুরু করে শিক্ষক, বিদ্যালয় ও কলেজ পরিচালনা কমিটির নেতাদের পকেটেও ঢুকছে। তাই তারা এ নিয়ে ঠেলাঠেলি করে প্রকান্তরে কোচিং বাণিজ্য জিইয়ে রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

গণসাক্ষরতা অভিযানের একটি প্রতিবেদন মতে, দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অন্তত সাড়ে পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী আছে। তাদের মধ্যে অন্তত চার কোটি ২৪ লাখ ছাত্রছাত্রী কোনো-না-কোনোভাবে মূল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে অর্থের বিনিময়ে কোচিং করছে। এ সংখ্যা প্রায় ৭৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থা এডুকেশন ওয়াচের এক প্রতিবেদন মতে, পারিবারিক ব্যয়ে প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ৮৮ শতাংশ, বেসরকারির ক্ষেত্রে ৭৮ শতাংশ আর মাদরাসার ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ অভিভাবক ছেলেমেয়েদের জন্য প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ব্যবস্থা করে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থায় একের পর এক নতুন পদ্ধতি চালু, শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠ না পাওয়া, শিক্ষকদের জবাবদিহি না থাকা, মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব আর সরকারি অর্থের অপ্রতুলতার কারণে শিক্ষাব্যবস্থা কোচিংনির্ভর হয়ে পড়ছে। এর ওপর কোচিং বাণিজ্য বন্ধে প্রণীত সরকারি নীতিমালা বৈধ ঘোষণার পর তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না থাকায় শিক্ষা ব্যবস্থা আরো নাজুক হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম মেধাহীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন

কবিতা নাম : পথ

পলাশবাড়ীতে যানজট নিরসনে মহাসড়ক পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম

পলাশবাড়ীতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান

গোবিন্দগঞ্জে নেশাগ্রস্থ ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত ঃ ঘাতক ছোট ভাই গ্রেফতার

গাইবান্ধা সদর থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন

গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠিত

ডিমলায় নোংরা ও দুর্গন্ধ পরিবেশ সৃষ্টি করায় তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নড়াইলে ইয়াবাসহ এক দল যুবুককে আটক করেছে পুলিশ

নড়াইলে নিজের জমি বিক্রি করার অপরাধে একটি পরিবার অবরুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের পরোয়ানা ইরানি ট্যাংকার জব্দে