খোলা কলাম

দেশে কালো টাকার দৌরাত্ম্য

অনলাইন ডেস্ক :

নিবার্চনে কালো টাকার বিষয়টি বিভিন্ন সময়েই আলোচনায় এসেছে। আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নিবার্চন কিংবা বাজেট এলে দেশে কালো টাকার দৌরাত্ম্য বাড়ে এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন সময়েই। কালো টাকার দাপটের কাছে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা পিছু হটতে বাধ্য হয় এমনটিও অজানা নয়। আর এতে খেসারত দিতে হয় দেশের সাধারণ মানুষকে। এ ছাড়া লক্ষণীয় যে, কালো টাকা সাদা করার বিরোধিতা যেমন আছে তেমনি অবৈধ অথের্র উৎপাদন কৌশলও বিদ্যমান। আমরা মনে করি, যখন নিবার্চনী সময়ে কালো টাকার বিষয়টি সামনে আসছেÑ তখন তা আমলে নেয়ার বিকল্প থাকতে পারে না। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, এরই মধ্যে নিবার্চনী মাঠে কালো টাকা হিসেবে ১৪০ কোটি টাকার বেশি ছড়িয়েছে একটি চক্র! তথ্য মতে, হুন্ডির মাধ্যমে এ অথের্র বড় অংশ এসেছে দুবাই থেকে। কালো টাকা ছড়ানোর সঙ্গে সংশ্নিষ্ট থাকার অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করার দাবিও করেছে র‌্যাব। জব্দ করা হয়েছে নগদ আট কোটি টাকা। এই চক্রের কাছে ১০ কোটি টাকার চেকও পাওয়া গেছে। মূলত ভোটের চার দিন আগে গত মঙ্গলবার র‌্যাব কালো টাকার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। এ ছাড়া র‌্যাব বলছে, কালো টাকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক এক এপিএস। তার নাম মিয়া নুরুদ্দীন আহম্মেদ অপু। আমরা বলতে চাই যে, নিবার্চনী মাঠে কালো টাকা হিসেবে কোটি টাকার বেশি ছড়িয়েছে একটি চক্র এমন বিষয় যখন সামনে আসছে তখন তা কোনোভাবেই এড়ানোর সুযোগ নেই। সঙ্গত কারণেই বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাযর্কর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। জানা যায়, মঙ্গলবার অপুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান রাজধানীর গুলশানে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে। এ ছাড়া কালো টাকার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে খেঁাজা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। আমরা বলতে চাই, নিবার্চনকে প্রভাবিত করার জন্য যদি বিভিন্ন জায়গায় টাকা ছড়ানো হচ্ছে বা কালো টাকার বিস্তার বাড়ছে এমন বিষয় সামনে আসে, তখন সংশ্লিষ্টদের কতর্ব্য হওয়া দরকার, বিষয়টি আমলে নিয়ে এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। উল্লেখ্য, র‌্যাব মহাপরিচালক জানিয়েছেন গত দুই মাসে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছেÑ যেখানে কালো টাকার মাধ্যমে নিবার্চনকে প্রভাবিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। পেশী-শক্তির ব্যবহার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো, একাদশ জাতীয় নিবার্চনকে প্রশ্নবিদ্ধ করাÑ এসব উদ্দেশ্য ছিল তাদের এমনটিও বলেছেন তিনি। আমরা মনে করি, এই বিষয়গুলো আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই।সবোর্পরি বলতে চাই, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা এবং দেশকে এগিয়ে নেয়ার পথে সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নিবার্চনের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কোনোভাবেই যেন নিবার্চনী পরিবেশ বিঘিœত না হয় সেটি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। কালো টাকা থেকে শুরু করে, পেশী-শক্তির ব্যবহার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো, একাদশ জাতীয় নিবার্চনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কাজের উদ্দশ্যে যে পক্ষ বা ব্যক্তিরাই জড়িত থাকুক না কেন তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। সামগ্রিক পরিস্থিতি অবলোকন করা এবং বিচার বিশ্লেষণ সাপেক্ষে কোনো চক্রই যেন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটাতে না পারে সেটি আমলে নিয়ে যে কোনো ধরনের নেতিবাচক বিষয় রুখতে হবে। একটি অবাধ গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নিবার্চন অনুষ্ঠিত হবে এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা।

Related Articles