ঈমানের অর্ধেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

ঈমানের অর্ধেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাসের প্রতিকারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু সময় বা ক্ষণের জন্য কিংবা অবস্থা সাপেক্ষে পরামর্শ দিয়েছেন। পক্ষান্তরে ইসলাম সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার ও রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অত্যধিক। কারণ সুস্বাস্থ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ইবাদত, এগুলোর প্রতিটিই প্রতিটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাই তো ইসলাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অংশ হিসেবেও ঘোষণা করেছে। যেমন রাসুল (সা.) বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক।’ (মুসলিম)।
ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বলতে শরীর, মন, পোশাক, আচরণ, আবাসস্থল, কর্মস্থল ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রসহ যাবতীয় বিষয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করাকেই বুঝিয়ে থাকে। এতসব বিষয়ে যারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করতে সক্ষম মহান আল্লাহও তাদের ভালোবাসেন। কারণ আল্লাহ তায়ালা নিজে পবিত্র, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন এবং তিনি পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতাকে ভালোবাসেন। যেমন তিনি বলেন, ‘এখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সূরা তওবা : ১০৮)।
মহান আল্লাহ আরও এরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের।’ (সূরা বাকারা : ২২২)।
হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্রকে পছন্দ করেন; আল্লাহ পরিচ্ছন্ন, তিনি পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন।’ (তিরমিজি)।
সুতরাং কোনো মুসলমান যদি সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাকে ঈমানি দায়িত্ব হিসেবে নেয়, তবে সে যে কোনো ধরনের জীবাণুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাবে ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার করুন