রাজধানীর তিন সড়কে রিকশা বন্ধ

রাজধানীর তিন সড়কে রিকশা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা :

রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ হচ্ছে আজ থেকে। যানজট নিরসনে রিকশা বন্ধের এ ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। হঠাৎ এ সিদ্ধান্তে ঢাকাবাসী শুধু ক্ষুব্ধ নন, বিকল্প নিয়ে বেশ ভাবনায় রয়েছেন। তারা বলছেন, গণপরিবহনের সংখ্যা ও সেবার মান না বাড়িয়ে রিকশা বন্ধ করা হলে নারী, শিশু, রোগী ও বয়স্করা পড়বেন ভোগান্তিতে।

ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে গাবতলী থেকে আজিমপুর (মিরপুর রোড), সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ ও কুড়িল থেকে খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত সড়কে রিকশা চলবে না। পর্যাপ্ত গণপরিবহনও নেই এসব এলাকায়, আবার রিকশাও আর চলবে না, তাই মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের ভাবনায়- তা হলে তারা চলাচল করবেন কীভাবে?

গাবতলী থেকে আজিমপুর (মিরপুর রোড) রোডে রয়েছে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল। এসব রোডের আশপাশের এলাকা পুরোটাই আবাসিক হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষেত্রে রিকশাই যাতায়াতের সহজ মাধ্যম। এছাড়া আজিমপুর এলাকায় ইডেন কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, আজিমপুর গার্লস, অগ্রণী গার্লস, ভিকারুননিসা স্কুল থাকায় এখানে রিকশার আধিক্য। নিউমার্কেট ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় রয়েছে ঢাকা কলেজ, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি, সিটি কলেজসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রয়েছে পপুলার ও ল্যাবএইডের মতো স্বনামধন্য দুটি হাসপাতাল ছাড়াও অসংখ্য হাসপাতাল।

আজিমপুরের বাসিন্দা সুফিয়া আহমেদ বলেন, প্রতিদিন সকালে রিকশায় ছেলেকে নিয়ে গভর্নমেন্ট হল্যাবরেটরি স্কুলে যান। এ সড়কে রিকশা বন্ধ

হলে যাতায়াতে সংকটে পড়বেন তিনি। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, প্রথমে গণপরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে হবে। যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ ও প্রাইভেট কারের সংখ্যা কমিয়ে রিকশা বন্ধ করতে হবে। এমন সিদ্ধান্ত নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সঙ্গে প্রহসন।

গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা বন্ধের ক্ষেত্রে যানজটের কথা বলা হলেও নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রিকশা তুলে দেয়াই যানজট নিয়ন্ত্রণের একমাত্র সমাধান নয়। এ সিদ্ধান্তে নগরবাসীর ভোগান্তি এবং খরচ বাড়াবে বলে মত সাধারণ মানুষের।

সায়েদাবাদের জনপথ মোড় থেকে খিলগাঁও, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা হয়ে কুড়িল পর্যন্ত সড়কটি রাজধানীর উত্তর-দক্ষিণে সংযোগকারী দুটি সড়কের একটি। এ সড়কে চলাচলরত বাসগুলোর মধ্যে বিআরটিসি ও তুরাগ ছাড়া বাকি বাসগুলো স্বল্প দূরত্বের যাত্রী নেয় না। একই অবস্থা গাবতলী-আজিমপুর রুটেও। স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কোনো বাসই তুলতে চায় না।

২০০২ সালে গাবতলী থেকে রাসেল স্কয়ার, ২০০৪ সালে রাসেল স্কয়ার থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়। তবে ওই সড়কের কিছু অংশে এখনো রিকশা চলাচল করে। এখন নতুন করে যুক্ত হলো নীলক্ষেত থেকে আজিমপুর পর্যন্ত।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, যানজটের জন্য সবাই প্রাইভেট গাড়িগুলোকে দুষলেও সিটি করপোরেশন বন্ধ করে দিয়েছে রিকশা। তারা বলছেন, এমন সিদ্ধান্তে মূলত বিপদে পড়বে রোগী, নারী ও শিশুরা। এ ছাড়া স্বল্প দূরত্বের পথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার শুরু হলে যানজট আরও বাড়বে। এসব রুটে বসবাসকারী মানুষরা বলছেন, স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য রিকশার বিকল্প নেই। গণপরিবহনগুলো স্বল্প দূরত্বের যাত্রী নিতে চায় না। এ ক্ষেত্রে মধ্যবিত্তরাও যদি পরিবহনের ঝামেলা এড়াতে ব্যক্তিগত গাড়িমুখী হন, তবে যানজট আরও বাড়বে রাজধানীতে।

এদিকে কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা রিকশা শ্রমিকদের। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে নিবন্ধিত রিকশা ৫৮ হাজার ৭১৪টি, তবে এর মধ্যে ৫ হাজার ৮৬০টি ভ্যানও রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটিতে নিবন্ধিত রিকশা ৩০ হাজার। তবে বেসরকারি হিসাবমতে কমপক্ষে ৫ লাখ রিকশা চলে রাজধানীতে। আর এ কাজে সরাসরি জড়িত রয়েছে সাত থেকে আট লাখ শ্রমিক। তাই এসব মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও মাথায় রাখার কথা বলছেন সাধারণ মানুষ।

শেয়ার করুন