নড়াইলের সরকারী আদর্শ কলেজে মৌখিক পরীক্ষায় প্রভাষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি

নড়াইলের সরকারী আদর্শ কলেজে মৌখিক পরীক্ষায় প্রভাষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা সংবাদদাতা: বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরন করলেও নড়াইলের সরকারী আদর্শ কলেজে বাংলা বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের মৌখিক পরীক্ষা বাবদ পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরীক্ষার্থীর অভিযোগে জানা গেছে, এ বছর লোহাগড়া সরকারী আদর্শ কলেজে বাংলা বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের মৌখিক পরীক্ষায় ৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহন করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, মৌখিক পরীক্ষার জন্য নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৭৫ এবং অনিয়মিতদের কাছ থেকে ১০০ টাকা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। উক্ত নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে বাংলা বিভাগের প্রভাষক পিযুষ কান্তি রায়ের নির্দেশে ওই কলেজের একজন অফিস সহকারী প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করে শিক্ষার্থীদের নামের পাশে স্বাক্ষর রেখে প্রবেশপত্র জমা নিয়েছেন। গত ৯ জুলাই এসব পরীক্ষার্থীদের বাংলা বিষয়ের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষা ২০ জুন থেকে শুরু হয়ে ২০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এ দিকে, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজের প্রভাষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই প্রভাষকের এহেন অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় খোদ অধ্যক্ষের অফিস কক্ষে মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক ইরাদত হোসেনের সাথে প্রভাষক পিযুষ কান্তি রায়ের বাক-বিতন্ডার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রভাষক পিযুষ কান্তি রায়ের বেপরোয়া আচরণে তটস্থ হয়ে পড়েন অধ্যক্ষসহ অন্য প্রভাষকরা। এ ব্যপারে শনিবার দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষ ড.মো: মহব্বত আলী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রভাষককে নির্ধারিত টাকা নেওয়ার কথা বলা হলেও তিনি তা অমান্য করে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন। এ বিষয়ে আগামী শিক্ষক কাউন্সিলের সভায় ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অভিযুক্ত প্রভাষক পিযুষ কান্তি রায় তার বিরুদ্ধে আনিত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, বহিঃ পরীক্ষকদের আপ্যায়ন, যাতায়াত ও সম্মানী হিসেবে এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তা ফেরৎ দেওয়া হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সময়ই পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ নিয়ে নেওয়া হয়।

শেয়ার করুন