আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:৫৫ অপরাহ্


ডিমলায় বন্যা কবলিত মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

ডিমলায় বন্যা কবলিত মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

জাহাঙ্গীর রেজা, ডিমলা প্রতিনিধি (নীলফামারী)ঃ অব্যাহত ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। রোববার সকাল ৬টা হতে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তায় পানি। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার পর থেকে পানি কমতে শুরু করে বিকেল ৩টায় বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ও রাত ৯টায় ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে জানিয়েছে নীলফামারী জেলার ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পুর্বাভাস সর্তককরন কেন্দ্র। বর্তমান ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫২ দশমিক ৬০ মিটার রয়েছে।

এদিকে গত শনিবার (১৩-জুলাই) দুপুরে ও রোববার সকালে দুইদিন ব্যাপী নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করে সরেজমিনে বন্যা কবলিত পরা অসহায় মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবীর বিন আনোয়ার। এসময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড এর উত্তর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রষাদ ঘোষ, নীলফামারী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহিনুর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার এস,এ হায়াত, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাজমুন নাহার মুন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নূর-ই আলম সিদ্দিকী, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মফিজ উদ্দিন শেখ ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান প্রমুখ। উপরোক্ত সকলকে সঙ্গে নিয়ে সচিব কবীর বিন আনোয়ার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা চর এলাকার বানভাসি মানুষদের মাঝে নিজ হাতে ত্রাণ বিতরণ করেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) শাহীনুর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আজহারুল ইসলাম ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাজমুন নাহার মুন তিস্তার বাঁধে আশ্রিত বানভাসীদের খোঁজ-খবর নিয়ে তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) শাহীনুর আলম বলেন, ডিমলা উপজেলায় বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ১’শ ৫০ মেট্রিকটন চাউল, দের হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার নগদ ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া আছে। এর আগে ৫০ মেট্রিকটন চাউল, ৫০ হাজার নগদ টাকা ও ৫’শ প্যাকেট শুকনা খাবার দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৫’শ মেট্রিকটন চাউল, ৫ লাখ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবারের জন্য আরো চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকার আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন। জেলা প্রশাসক সবসময় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে। এজন্য সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যাহার ফোন নাম্বার -০৫৫১ – ৬১৪০৬, মোবাইল-০১৭৫১-৪৬৮৯৮৩ ও ০১৭১২-৭৯৭০১১।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের সবকয়টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তিস্তা অববাহিকায় হলুদ সংকেত জারী অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন