সলঙ্গাবাসী ছেলে ধরা আতঙ্কে চিন্তিত -গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বলল ওসি

সলঙ্গাবাসী ছেলে ধরা আতঙ্কে চিন্তিত -গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বলল ওসি

 

সাহেদ আলী,সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ সারা দেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জের সলঙ্গাতেও ছেলে ধরা আতঙ্ক চলছে। আতঙ্কের একটাই কারন অপহরণ করে গলা কাটা। বাড়ীর সকল সদস্য, মা-বাবা সকলেই একটা গুজব নিয়ে চিন্তিত। প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে শুরু করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন অভিভাবক জানতে আসছে ছেলে ধরা এই গুজবের কাহিনী। বিশেষ করে গত ১ সপ্তাহ ধরে সারা দেশে ছেলে ধরা বা গলা কাটার খবর জোরালো ভাবে পৌঁছার কারনে অভিভাবকরা সকাল থেকে স্কুল চলা কালিন সময় পর্যন্ত স্কুল পড়–য়া সন্তানদের খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছেন। এমন ভয়ে একদিকে যেমন কমতে শুরু করেছে স্কুলে শিক্ষার্থী, অনুরুপ সবচেয়ে বেশী বিপদে পড়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকগন। নলকার হোড়গাঁতী সপ্রাবি এর প্রধান শিক্ষক শফি মাহমুদ জানান, তার স্কুলে ৫ম শ্রেণির মারুফা ও মরিয়ম নামে ২ ছাত্রীকে একদল অপহরণকারী অপহরণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। এদিকে এরান্দহ দক্ষিনপাড়া আব্দুল আজিজের নাতিকে ঘরের জানালা দিয়ে শনিবার রাতে ছেলে ধরা পাটি ধরে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেছিলো। হঠাৎ ডাক চিৎকারে এমন গুজবে ঐ রাতে কয়েকশত লোক উপস্থিত হলে বিষয়টি ভীতি আর গুজব বলে জানান ঐ গ্রামের মেম্বর আলম রেজা। মোট কথা কোথায়, কখন ছেলে ধরা পাটি ধরে পড়েছে তার কোন সঠিক সত্যতা না পাওয়া গেলেও ছেলে ধরা আতঙ্কে কাঁপছে সলঙ্গাবাসী। ধুবিল ইউপি আমশড়া প্রাইমারী স্কুলের এক শিক্ষক জানান, ছেলে ধরা, গলা কাটা আতঙ্ক এখন শুধু স্কুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটা গ্রামাঞ্চলের সাধারন মানুষের মুখে মুখে। এ বিষয়ে থানার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরলে একাধিক ব্যক্তি জানান, ছেলে ধরা সন্দেহে সারা দেশে ৫ জন নিহত ও ২৩ জন ব্যক্তি আহতের খবরটি দেশব্যাপী যে ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে আমাদেরও ভয় লাগছে। ভয় লাগছে ছেলে মেয়েদের কাছ ছাড়া না করতে। এমন গুজবের বিষয়টি নিয়ে সলঙ্গা থানার ওসি জেড জেড তাজুল হুদা সাংবাদিকদের জানান, এ সব বিভ্রান্তিকর আতঙ্ক এখন মানুষকে শুধুই উদ্বিগ্ন করলেও আমাদের কাছে এর কোন সঠিক তথ্য নেই। এটা নিছক গুজব ছাড়া আর কিছু নয়। ইতি মধ্যেই আমরা গ্রাম পুলিশদের থানায় ডেকে এনে তাদের নিজ নিজ এলাকার মানুষদের ছেলে ধরা, গলা কাটা, বাচ্চাদের মাথা কাটা এ গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বলেছি। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে জনগনের মাঝে গণ সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেই এই গুজব আতঙ্ক কেটে যাবে। এছাড়াও এলাকায় অপরিচিত কোন ব্যক্তিকে ছেলে ধরা সন্দেহ হলে গণ পিটুনি না দিয়ে, কোন বিশৃঙ্খলা না ঘটিয়ে তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় সংবাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

শেয়ার করুন