ইতিহাস-ঐতিহ্যসারাদেশ

নন্দীগ্রামে আজও অরক্ষীত বামন গ্রামের বধ্যভূমি

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) থেকে মোঃ ফজলুর রহমান :

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেড়িয়ে গেলেও অবহেলায় পড়ে আছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বামন গ্রামের বধ্যভূমি। সংস্কার না করায় এ বধ্যভুমিতে এলাকার লোকজন খড়ের পালা দিয়ে ঘিরে রেখেছে। সেখানে বাঁধা রয়েছে গরু আর ছাগল। চারেদিকে গড়ে উঠেছে জঙ্গল। তার পাশেই সাধারন মানুষের চলাচলের মেঠো পথ। একারনে সেখানকার বধ্যভুমির সৃতি প্রায় মূছে যাওয়ার উপক্রম। অনেকেই ভূলে গেছেন এ বধ্যভূমির কথা। সরকারী ভাবে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন না করা হলে মুছে যাবে বধ্যভূমির সৃতি। বধ্যভূমির গাছের সাথে একটা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া আছে ওই সাইনর্বোড এর তথ্য থেকে জানাযায় , স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে ১৯৭১সালের ৪ঠা এপ্রিল রবিবার গভীর রাতে পাক-হানাদার বাহীনির সদস্যরা বামন গ্রামে হানা দেয়।এবং জন্ম দেয় লোমহর্ষক ঘটনার ,তারা বাড়ি বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে সুখ দুঃখ পুকুর পাড়ে সাড়িবদ্ধ ভাবে দাঁড় করে হিন্দু সম্প্রদায়ে লোকজনকে এর মধ্যে স্বগীয় প্রানবন্ধুচন্দ্র কবিরাজ পিতাহরচন্দ্র কবিরাজ , মনিদ্র চন্দ্র শাহা পিতা পূন্য চন্দ্য শাহা, প্রান কান্ত প্রামনিক পিতা নিলকান্ত চন্দ্র প্রামানিক, পূর্ন চন্দ্র শাহা পিতা বনমালী চন্দ্র শাহা,সর্ব সাং বামনগ্রাম, নন্দীগ্রাম। সূখী রবিদাস পিতা ভরত রবিদাস,সাং ভাগবজর, বলরাম চন্দ্র প্রামানিক পিতা প্রহলাথপ্রমানিক, রমনাথ সরকার পিতা শ্যামনাথ সরকার , সাং ওলাহালী কাহালু, এবং রবিন্দ্র চন্দ্র প্রাং পিতা রঘুনাথ প্রামানিক সহ ৯জনকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলরামের ভাই কানাই চন্দ্রের সাথে কথা বললে তিনি দুঃখ ভরা কন্ঠে এই প্রতিনিধিকে জানান, সেই ভয়াল রাত্রিতে পাকহানাদার বাহিনীরা বিভিন্ন্ এলাকা থেকে লোক ডেকে সুখ দুঃখ পুকুরের পশ্চিম পাড়ে গর্তের ধারে জড় করে এক এক করে গুলি করতে থাকে আমি ও আমার ভাই বলরাম এক সাথে ছিলাম প্রথমে আমার ভাইকে গুলি করে গর্তে ফেলে দেয় ভাইয়ের পেটে গুলি লেগে ভুরি বেড় হয়ে যায় এর পর আমাকে রাই ফেলের বাঁট দিয়ে বেদম ভাবে মারে এবং দাঁড়াতে বলে আমি দাঁড়াই এর পর আমাকে তিনটি গুলি করে ভাগ্যক্রমে গুলি লাগেনা তবে ধ্ক্কাা দিয়ে গর্তে ফেলে দেয়, আমার গায়ে চাদর জড়ানো ছিল সেই চাদরে রক্ত ভরে মরামানুষের লাশের সাথে একাকার হয়ে পড়ি, সেই অবস্থায় আমার ভাইয়ের পানি পানি করে কান্নার শব্দ শুনতে পাই আধামরা অবস্থায় হামাগুড়ি দিয়ে সুখ দুঃখ পুকুর থেকে পানি এনে ভায়ের মুখে দেওয়ার কিছক্ষন পর মারা যায়। অপর দিকে প্রতক্ষ্যদশী মিজাপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন বলেন, ঘটনার দিন ভোরে কোলাহল শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি অনেক লোকজনের রক্ত মাখা লাশ গর্তের মধ্যেপড়ে আছে অনেকের ভুড়ি বের হয়ে গেছে এ রকম মরর্মান্তিক দৃশ্যদেখে আশে পাশের গ্রমের শত শত লোকজন আসে । এবং গর্তে মাটি ঢেলে পুতে রাখে। এদিকে একই রাতে হাটকড়ি হিন্দু পাড়ায় হানা দিয়ে সুরেশ চন্দ্র, বুজেশ্বর চন্দ্র, সুরেস চন্দ্র প্রামানিক ও অধির চন্দ্রকে হাটকড়ই হাইস্কুল মাঠে গুলি করে হত্যা করে। পরে তাদেরকে শ্বশ্মানে সমাধি করা হয়। সেই জায়গাটি বাশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। সরকারী ভাবে কোন উদ্যোগ গ্রহন না করায় সংস্কারের অভাবে অবহেলায় পড়ে আছে বধ্যভূমিটি। মৃত প্রানকান্তের’ ছেলে দিনেশ চন্দ্রের সাথে কথা বলে জানা যায়, যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের কোন অপরাধ ছিলনা। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এটাই ছিল তাদের একমাত্র অপরাধ। এজন্যই তাদের বাড়ি থেকে উঠিয়ে পুকুর পাড়ে নিয়ে সারিবদ্ধ রেখে গুলি করে হত্যা করে পাক-বাহীনি। ওই এলাকার গোপেন চন্দ্র জানান, তৎকালীন সময়ে পাকিস্থানী হানাদাররা বামনগ্রামে হানা দিয়ে ৯জনকে আটক করে গুলি করে হত্যা করে। আজ স্বাধীনতার ৪৭বছর পেড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ তাদের সৃতিকে ধরে রাখার জন্য সরকার কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। ডাঃ অণীল চন্দ্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাবাও সেই হত্যাকান্ডের শিকার। তৎকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি অবহিত করা হলে তারা সরেজমিনে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাদের সৃতি চারনের জন্য সৃতিসৌধ স্থাপনের জন্য সরকারের নিকট আবেদন করবে বলে আমাদের আশ্বাস প্রদান করেন। সেই কথাগুলি এখন শুধু সৃতিতেই রয়ে গেল বাস্তবে কোন সংস্কারের ছোঁয়া লাগলোনা। এপ্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: শারমিন আখতার বলেন, এসব বধ্যভূমি গুলো সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্দ্যেগ গ্রহন করা হবে ।

Related Articles