ইতিহাস-ঐতিহ্যসারাদেশ

নন্দীগ্রামে খেজুর গাছ প্রস্তুত করতে গাছিড়া এখন ব্যস্ত

নন্দীগ্রাম ( বগুড়া) থেকে মো: ফজলুর রহমান :

হেমন্তের শিশিরে ভেজা সকাল বেলায় খেজুর গাছের রসে ভড়া হাড়ি নামানোর জন্য গাছিড়া এখন খেজুর গাছ ঝুড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এখন দিনের বেলায় কিছুটা গরম অনুভূত হলেও রাতের শেষ ভাগে পাওয়া যায় শীতের আভাষ। সামনে আসছে পুরোদমে শীতের মাস আর তাই গাছীরা এখন আগে থেকেই গাছ প্রস্তুতের কাজে অনেকটায় ব্যাস্ত সময় পার করছে । শীতকালে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা যায়। শীতের সকালে লোকজন খেজুরের রস খেতেও বেশ মজা পায়। খেজুরের রস দিয়ে শীত কালে গ্রাম ও শহরের মানুষরা নানা রকমের পিঠা- ও পায়েশ তৈরি করে, খেজুরের পাটারী গুড়ও বেশ জনপ্রিয়। শীত কালে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য বিশেষ করে গ্রামের মানুষরা সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে মেয়ে-জামাইদের পিঠা-পুলি খাওয়াতে। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় গ্রামে ও রাস্তা-ঘাটে অসংখ্য খেজুর গাছ রয়েছে।যদিও আগের তুলনায় অনেক খেজুর গাছ কেটে ফেলা হয়েছে তার পরেও যে গাছ রয়েছে সে গাছ গুলো থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমান খেজুর রস সংগ্রহ করা হয় । খেজুর গাছের রস জাল করে পাটারী, লালী ও দানা গুড় তৈরি করা হয়। ইতি মধ্যেই গাছিদের দিয়ে খেজুর গাছের ডাল-পাতা ঝুড়ে হাড়ি লাগানোর জায়গা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এবং কতকগুলো গাছে ইতি মধ্যেই গাছে হাড়ি লাগিয়ে রস সংগ্রহ শুরু হয়েছে । নবান্ন উৎসবে গ্রাম-গঞ্জে খেজুর রসে পিঠা- ও পায়েশ খাওয়ার ধুম পরে যায়। নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার সহ গ্রাম থেকে বিপুল পরিমান খেজুরের পাটারী গুড়, লালী ও দানা গুড় দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। অনেক দুর থেকে লোক জন ওমরপুর , কুন্দার , রনবঘা, ও নন্দীগ্রাম হাটে খেজুুরের গুড় ক্রয় করার জন্য আসে । এব্যাপারে, উপজেলার দাসগ্রাম এর এক গাছি জানান, আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পুরোদমে শীত পরে যাবে তাই একটু আগে থেকেই গাছের ডালপালা কেটে প্রস্তুত করে রাখছি ।

Related Articles