ইতিহাস-ঐতিহ্য

পিৎজার ইতাহাস

আলো ডেস্ক :

যারা রাঁধেন, তারা প্রায়ই রেস্টুরেন্টের খাবারের সঙ্গে বাড়িতে তৈরি খাবারের তুলনা করেন। বাসার খাবার কেন রেস্টুরেন্টের মতো পারফেক্ট হয় না, তা নিয়ে মনে মনে আফসোস করেন অনেকেই। আর খাবারটি যদি হয় পিৎজা অথবা পাস্তা তাহলে তো আফসোস যেন আরও বেড়ে যায়।পাতলা ত্রিভুজাকার অত্যন্ত সুস্বাদু পিৎজা অনেক মানুষেরই প্রথম পছন্দ! কোনো ছুটির দিন এলেই অনেকেই প্রিয় খাবার পিৎজা খেতে বেরোয় শহরের আশেপাশের বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে। আবার পিৎজায় আছে হাজারো রকমফের। একেকজনের একেক পছন্দ। কিন্তু আমরা কেউ কি জানি এই খাবারটির ইতিহাস?বলা হয় যে, পিৎজা একটি বিশুদ্ধ ইটালিয়ান খাবার। তবে এটি পৃথিবীব্যাপি বিখ্যাত হওয়ায় নানান দেশ নানান রকম পিৎজা তৈরি করে। তবে পিৎজা শব্দটি কোথা থেকে এলো তা নিয়ে আছে নানা তর্ক-বিতর্ক। অনেকেই বলেন এটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ PITTA থেকে। যার অর্থ এক ধরণের পাতলা রুটি। তবে এই পাতলা রুটিকেই বিভিন্ন দেশে নানা রকম পনির, মশলা, সবজি দিয়ে নানা ধাঁচের স্বাদ তৈরি করে। তবে এই সুস্বাদু বিভিন্ন ধাঁচের পরিকল্পনা কিন্তু ইতালির না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো এটি পুরোপুরি একক ভাবে ইতালিরও নয়।পিৎজা আবিষ্কারের মূল তথ্য হলো প্রাচীন জ্ঞানী মানুষেরা সেসময় নানা কারণে ব্রেড বা রুটি পছন্দ করতো। সেসময় শস্য উৎপাদন ছিলো সবচেয়ে সহজ। তা দিয়ে সহজতর উপায়ে ব্রেড তৈরি করে ক্ষুদা নিবারণ ছিলো এক চমৎকার আয়েশি খাবার। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণের সময়েও প্রাচীনতম মানুষেরা এটা খুব সহজে এই ব্রেড বা রুটি বহন করতে পারতো। তাছাড়া ব্রেডে আছে কার্বোহাইড্রেট, ক্যালরি আর ভিটামিন যেটি শরীরকে দিতো পূর্ণ শক্তি। তেমন বিভিন্ন কারণেই সে সময়ের মানুষেরা এটি পছন্দ করতো।ঠিক সে কারণেই গেনেভিভ থাইরেস তার বিখ্যাত বই পিৎজা ইতিহাসে লেখেন- খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে পারসিয়ান রাজা দারিয়ুস বলেন, আমি একটি তৈরি রুটির উপর পনির দেই, আর সাথে খেজুর দিয়ে অতঃপর গলাধঃকরণ করি। অর্থাৎ সেই হাজার বছর আগে থেকেই এই ধরণের এক প্রক্রিয়া চলে এসেছে। পরবর্তীতে গ্রীক রা তাদের নতুন রেসিপিতে এটিকেই নতুন রূপে তৈরি করে। তবে প্রাচীনতম গ্রীকরা সাধারণত তাদের পিৎজা তৈরি করতো অলিভ ওয়েল, পনির ও বিভিন্ন ছোট উদ্ভিদ পাতা। এর পরবর্তীতে গ্রীক সৈন্যরা এই পদ্ধতিকে আরো খানিক পরিবর্তন করে ছোট ছোট টুকরোর মাংস, বিভিন্ন সবুজ ফল বা সবজি দিয়ে পরিবেশন করতো। এতে সেই রুটিই হয়ে উঠতো দারুণ মজাদার। তবে তখন তারা গোল রুটি তে এই সুস্বাদু আয়োজন করতো যেটি কালের পরিবর্তনে বর্তমানে ত্রিভুজাকার। এই রন্ধনশিল্পের আরো খোঁজ পাওয়া বিভিন্ন রাজ্যের নানান গল্প, কাব্য আর কবিতার মধ্যে।গ্রীক থেকে শুরু করে রোম, ইতালি পরবর্তীতে ইউরোপ আমেরিকা, ভাররবর্ষ সারা বিশ্বজুড়ে এই পিৎজা ছড়ানো ছিটানো। বিভিন্ন দেশের নিজ নিজ সংস্কৃতি আর খাদ্য রুচি মতো আদিম পাতলা রুটিকেই আজ নানা রূপে পাওয়া যায় পিৎজা নামে।নেপলস শহর একসময় বিখ্যাত ছিলো কর্মক্ষম গরিবদের জন্য। সেসময় সেই শ্রমিকরা ভীষণ খাদ্য অভাবে ভুগতে থাকে। খাদ্যের অভাব মেটাতে সেসময় রাজ্যের নেতা তাদের সেই ফ্ল্যাট ব্রেড বা পাতলা রুটির ব্যবস্থা করে দেয়। তাতে গ্রীকদের মতো করে সবজি পনির মিশিয়ে খাদ্যভাব মেটায় শ্রমিকরা৷ সেসময় এই পিৎজা বিখ্যাত ছিলো গরিবের খাদ্য বলে। যেটি বর্তমানে হাজারো মানুষের খাবার পছন্দের প্রথম তালিকার অন্তর্গত। বর্তমানে এই পিৎজা ফাস্টফুড হিসেবেই পরিচিত। বিভিন্ন রঙিন রেষ্টুরেন্টে আজকাল এর দেখা মিলে। অনেকে বাসায় তৈরি পিৎজা ও নাস্তা হিসেবে পছন্দ করে। পারসিয়ান সেই সৈনিকরা যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে পৃথিবী দখল না করতে পারলেও তাদের আবিষ্কৃত খাবার পৃথিবীর মানুষের মন জয় করেছে।

Related Articles