শিরোনাম

আজ শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন


বুঝে হজ করুন

বুঝে হজ করুন

ইসলাম ডেস্ক :

আমরা জানি, প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। আর প্রয়োজনীয় মুহূর্তে জ্ঞান অর্জন করা বিশেষভাবে ফরজ। ব্যবসায়ীর জন্য ব্যবসাসংক্রান্ত ইসলামি বিধি-বিধান জানা ফরজ। কৃষকের জন্য কৃষিসংক্রান্ত ইসলামের যাবতীয় নির্দেশনা জানা ফরজ। তেমনি ইবাদতের ক্ষেত্রেও সালাত কায়েমকারীর জন্য সালাতের যাবতীয় মাসআলা জানা ফরজ। হজ পালনকারীর জন্য হজসংক্রান্ত যাবতীয় মাসআলা জানা ফরজ।  প্রচুর অর্থ ব্যয় ও শারীরিক কষ্ট সহ্য করে হজ থেকে ফেরার পর যদি আলেমের কাছে গিয়ে বলতে হয়, ‘আমি এই ভুল করেছি, দেখুন তো কোনো পথ করা যায় কি-না’, তবে তা দুঃখজনক বৈকি। অথচ তার ওপর ফরজ ছিল, হজের সফরের আগেই এ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা। ইমাম বোখারি (রহ.) তার রচিত সহিহ গ্রন্থের একটি পরিচ্ছেদ-শিরোনাম করেছেন এভাবে : এ অধ্যায় ‘কথা ও কাজের আগে জ্ঞান লাভ করার বিষয়ে’; কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সুতরাং তুমি ‘জেনে রাখো’ যে, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’ ইমাম বোখারি (রহ.) এখানে কথা ও কাজের আগে ইলম তথা জ্ঞানকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

তাছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে : ‘তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজ ও ওমরার বিধি-বিধান শিখে নাও।’ (মুসলিম : ৭৯২১)। এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের হজ ও ওমরা পালনের আগেই হজসংক্রান্ত যাবতীয় আহকাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি, হজ-ওমরা পালনকারী প্রত্যেক নর-নারীর জন্য যথাযথভাবে হজ ও ওমরার বিষয়াদি জানা ফরজ। হজ ও ওমরা পালনের বিধি-বিধান জানার পাশাপাশি প্রত্যেক হজ ও ওমরাকারীকে অতি গুরুত্বের সঙ্গে হজ ও ওমরার শিক্ষণীয় দিকগুলো অধ্যয়ন ও অনুধাবন করতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজের সফরে বা হজের দিনগুলোতে কীভাবে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন, উম্মত ও পরিবার-পরিজন এবং স্বজনদের সঙ্গে ওঠবসে কী ধরনের আচার-আচরণ করেছেন তা রপ্ত করতে হবে। নিঃসন্দেহে এ বিষয়টির অধ্যয়ন, অনুধাবন ও রপ্তকরণ হজ-ওমরার তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে চেতনা সৃষ্টি করবে।

সুতরাং যারা এবার হজ করবেন তারা ফ্লাইট হওয়ার আগ পর্যন্ত এবং সৌদি আরবে গিয়ে হজের আগ পর্যন্ত লম্বা সময় পাবেন, এরই মধ্যে আপনারা হজের বিধিবিধানগুলো ভালো করে পড়ে এবং আলেম-মুয়াল্লিমদের সহযোগিতা নিয়ে বুঝে নিন। বিশেষত হজের ফ্লাইটের আগে বাংলাদেশে বিভিন্ন হজ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা হয়েছে এবং হচ্ছে, সেগুলো থেকে এবং সৌদি আরবে অবস্থানকালেও হজের আগ পর্যন্ত প্রায় সব এজেন্সিই নিজেদের উদ্যোগে নানা প্রশিক্ষণ ও আলোচনার আয়োজন করবে, আপনি সেগুলো থেকেও মনোযোগসহ শুনলে উপকৃত হবেন। পাশাপাশি মসজিদে হারামে নানা ভাষায় নানা হজ-ওমরার লিফলেট বিতরণ হয়, আসরের পর মক্কার বিভিন্ন মসজিদে আলেমরা আলোচনা করেন এসব থেকেও যথেষ্ট উপকৃত হতে পারেন। এই প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে আপনার হজ সম্পর্কে নিজের ইলম ও জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করা কর্তব্য।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে হজ-ওমরার বিধি-বিধান জানা, এর শিক্ষণীয় দিকগুলো অনুধাবন করা এবং সহিহভাবে হজ-ওমরা পালন করার তৌফিক দান করুন।

শেয়ার করুন