তথ্য-প্রযুক্তি

ব্যবহার বাড়ছে ফ্যাবলেটের

বিশ্বজুড়ে ফ্যাবলেটের চাহিদা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে গেম খেলা ও ভিডিও দেখার জন্য এ পণ্যটির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের গ্রাহকদের মধ্যে বড় আকৃতির এ স্মার্ট ফোনটির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিমত বাজার বিশ্লেষকদের।সাম্প্রতিক সময়ে ফ্যাবলেটের চাহিদা উলেস্নখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী এ পণ্য বিক্রির পরিমাণ ১২ কোটিতে পৌঁছবে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান জুনিপার সম্প্রতি তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে। বার্তা সংস্থা এএফপির মাধ্যমে খবরটি জানা গেছে। আরো বেশকিছু আন্তর্জাতিক পত্রিকাতেও এসংক্রান্ত তথ্য ছাপা হয়েছে। বর্তমান বাজারে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের বাজার বিস্তৃত করে যাচ্ছে। ফ্যাবলেটের ক্ষেত্রেও নির্মাতারা অ্যান্ড্রয়েডকেই বেশি প্রাধান্য দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ফিনল্যান্ডভিত্তিক সেলফোন নির্মাতা কোম্পানিটি কেনার পর থেকেই মাইক্রোসফটের ভাগ্য অনেকটাই পরিবর্তিত হচ্ছে।সাধারণত দেখা যায়, কোনো ভিডিও বা ছবি দেখার জন্য স্মার্ট ফোন খানিকটা ছোট হয়ে যায়। এদিকে ট্যাবলেট ব্যবহারে বিভিন্ন সুবিধা থাকলেও বহনের ক্ষেত্রে অনেকাংশেই অস্বস্তিকর। এসব দিক বিবেচনায় ফ্যাবলেট এখন গ্রাহকদের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আগামীতে ফ্যাবলেটই স্মার্টফোনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছে। এ বাজারে আগামী সময়ে মাইক্রোসফট ও গুগলের আধিপত্য বৃদ্ধি পাবে বলে জানায় জুনিপার। মাইক্রোসফট তাদের অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ও গুগল অ্যান্ড্রয়েডের মাধ্যমে এ বাজারে রাজত্ব করবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়। তবে এদিক দিয়ে অ্যাপল পিছিয়ে থাকবে বলেও জানানো হয়। ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান জুনিপার গত মঙ্গলবার তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামীতে বিশ্বব্যাপী ফ্যাবলেট বিক্রি উলেস্নখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। তারা আরো জানায়, গত বছর বিশ্বজুড়ে ২ কোটি ফ্যাবলেট বিক্রি হয়েছে। চলতি বছর এ প্রযুক্তিপণ্যের বিক্রি আরো বৃদ্ধি পাবে বলে প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়।মোবাইলের নানারকম সুবিধা যেমন বাড়ছে, তেমনভাবেই বাড়ছে এসংক্রান্ত ভোক্তা আর উদ্যোক্তা। বিশ্বজুড়ে মোবাইল বিজ্ঞাপন বাজার ক্রমেই বাড়ছে। মোবাইল ডিভাইসগুলোর দ্রম্নত প্রসারের কারণে এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান বাজার বিশ্লেষকরা। গার্টনার তাদের পূর্বাভাসে আরো জানায়, চলতি বছর এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে।গত বছর বিশ্বজুড়ে মোবাইল বিজ্ঞাপন খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩১০ কোটি ডলার। ২০১৯ সালের মধ্যে এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪ হাজার ১৯০ কোটি ডলারে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার সম্প্রতি তাদের এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাসের কথা জানায়। খবর প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার।এদিকে মোবাইল বিজ্ঞাপনের প্রধান দুটি দিক স্থির বিজ্ঞাপন ও ভিডিওর মধ্যে ভিডিও খাতেই আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এ বিষয়ে গার্টনারের গবেষণা পরিচালক স্টেফেনিয়ে বাঘদাস্যারিয়ান বলেন, ‘আগামী কয়েক বছর মোবাইল বিজ্ঞাপন খাতে ব্যয়ের পরিমাণ উলেস্নখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। গ্রাহকদের কাছে যে মাধ্যমে সহজে যোগাযোগ করা যায় তাকেই প্রাধান্য দেয় বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এদিক দিয়ে বর্তমানে বিজ্ঞাপনের যে কোনো মাধ্যমের চেয়ে মোবাইল ডিভাইসগুলো অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। আর স্থির বিজ্ঞাপনের চেয়ে ভিডিও সংস্করণে ব্যয়ের পরিমাণ সামনের বছরগুলোয় আরো অনেক বৃদ্ধি পাবে।’ বিশ্লেষকদের মতে, আগামীতে সমগ্র বিশ্বে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করবে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্যের ধরনেও থাকবে ভিন্নতা। এ ভিন্ন ভিন্ন পণ্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজন হবে বিজ্ঞাপন প্রচারের। গার্টনারের বিশ্লেষকদের মতে, আগামীতে যে কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য মোবাইল ডিভাইসকেই বেছে নেবে। ২০১৬-২০১৯ সালের মধ্যে মোবাইল বিজ্ঞাপনের বাজার উলেস্নখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে জানান গার্টনারের বিশ্লেষকরা। এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে তাদের বিপণন কৌশলে পরিবর্তনে বাধ্য হবে। যার ফলে মোবাইল ডিভাইসে বিজ্ঞাপন প্রচার সবার আগে প্রাধান্য পাবে।

Related Articles