বিএনপির প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক

বিএনপির প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে বিএনপি। সারা দেশের ২৯৯ আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের নিয়ে এ বৈঠক বেলা ১২টায় শুরু হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে। তিন ঘন্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক শেষ হবে বিকাল ৩টায়।একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর পরাজিত দলের বড় পরিসরের এই বৈঠকটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। জাতীয় সংসদ ভবনে যখন নতুন সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ সম্পন্ন হল, তখন পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসল বিএনপি। বৈঠকে শুধু বিএনপি-ই নয়, সঙ্গে দুই রাজনৈতিক জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন। নির্বাচনের পর বড় ধরনের এই বৈঠকটিকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোট। এ বৈঠক থেকে তৃণমূল নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে গুরুত্বপূ্র্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিএনপির হাইকমান্ড। সূত্রমতে, প্রার্থীদের কাছ থেকে ‘ভোট কারচুপি’, ‘কেন্দ্র দখল’, ‘ভোট ডাকাতি’র তথ্য ও অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করবে বিএনপির হাইকমান্ড। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অভিযোগ আকারে দেয়া হবে নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরে। বিদেশি কূটনীতিকদেরও বিষয়গুলো জানানো হবে। বিদেশি কূটনীতিকদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলা হবে যে, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো সুষ্ঠু ভোট হওয়া সম্ভব নয়। তাই জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি সুষ্ঠু ভোটের দাবি জানাবে বিএনপি শরিকরা। সূত্র জানায়, আজকের বৈঠকে জোটের পরবর্তী কর্মসূচিও ঠিক করা হবে। আগামী দিনে জোটের কার্যক্রম কি হবে সে বিষয়ে তৃণমূলের মত জানতে চাওয়া হবে। সেই আলোকে সিদ্ধান্ত হবে।তবে এই মুহূর্তে হরতাল অবরোধের মত কর্মসূচি দেবে না বিএনপি। ধীর চলো নীতিতে এগোবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রুততম সময়ে আরেকটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ে রাজপথে থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করা হতে পারে। বৈঠক শেষে বিকাল ৩টার দিকে নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবেন বিএনপি জোটের নেতারা। নির্বাচন-পরবর্তী বৈঠক উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর থেকেই প্রার্থীরা আসতে শুরু করেন গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে। বেলা ১১টার দিকে গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করার সময় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের বলেন, ৩০ তারিখে কোনো ভোট হয়নি, ভোট ডাকাতি হয়েছে। রাতেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্সভর্তি করা হয়েছে। কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা হঠকারী কোনো সিদ্ধান্তে যাব না। মাঠপর্যায়ে ভোটারদের কাছে যাব। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করব। বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলটির সিনিয়র নেতারা। প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বিএনপি জোটের। বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোটের ২৭টি দল মিলে ২৯৯ (এক আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট হয়নি) আসনের মধ্যে পেয়েছে মাত্র ৭টি আসন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮ আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ধারণার চেয়েও অনেক বেশি আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ যেখানে ফুরফুরে, সেখানে রাজ্যের হতাশা ভর করেছে ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থীদের মনে। একদিকে হতাশা, অন্যদিকে মামলার ঘানি-সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত বিএনপি শিবির। এই যখন অবস্থা, তখন ধানের শীষের প্রার্থীদের ঢাকায় ডাকা হল। পরাজয়ের চিত্র জানাতে আজ তারা ঢাকায় এসেছেন। সূত্রমতে, প্রার্থীদের কাছ থেকে ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে বিএনপি আন্তর্জাতিক মহলকে সেগুলো দেখাবে। বোঝাতে চাইবে যে, এ দেশে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ভোট হওয়া সম্ভব নয়। বিএনপি বলবে- ২০১৪ সালে তাদের ভোটে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। বিএনপি অনতিবিলম্বে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে দেশে পুনর্নির্বাচন দাবি করবে।

শেয়ার করুন