রোদে ত্বকের যত্ন

রোদে ত্বকের যত্ন

অনলাইন ডেস্ক :

আজ রোদে বের হবো না- কড়া রোদ দেখলেই এরকম প্রতিজ্ঞা করতে ইচ্ছা করে; কিন্তু বাইরে বের হতে না-হতেই হয়তো শুরু হয়ে যায় বৃষ্টির তান্ডব। রোদ-বৃষ্টির এই খেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ত্বকের বিভিন্ন অংশ। মুখের ত্বক ঢাকা না থাকায় ক্ষতির তালিকায় এগিয়ে থাকে সাধের চেহারাখানা। সময় থাকতেই দরকার যত্ন নেয়া।রোদ কিংবা বৃষ্টি থেকে চেহারাকে বাঁচানোর জন্য ছাতা এখন অপরিহার্য। ভালো মানের সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তেল ছাড়া, শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিমযুক্ত সানস্ক্রিন উপযোগী, তবে সেটা আপনার ত্বকের জন্য মানানসই কিনা যাচাই করে নিন। ত্বক সুস্থ রাখার জন্য পানির ভূমিকা অনেক। রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, পানি ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। শরীরের চাহিদা পূরণ করতে এই আবহাওয়ায় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন মুখে ৮ থেকে ১০ বার করে পানির ঝাপটা দিলে ত্বকের অনেক সমস্যা কমে যাবে।

এই আবহাওয়ায় মুখের ত্বক নিয়ে কী কী ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। এই প্রশ্নের ভেতর দিয়ে তৈলাক্ত, শুষ্ক, মিশ্র ও সাধারণ ত্বকের অধিকারীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানা যায়। গরমে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়ছেন তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকের অধিকারীরা। একটু গরম কিংবা তাপে ত্বকের তেল বের হয়ে ধুলোবালু আটকে যাচ্ছে ঘাম হচ্ছে বেশি, এ কারণে ব্রণের আগমনবার্তা পাওয়া যাচ্ছে কিছুদিন পর পরই।

রূপবিশেষজ্ঞ শিরিন হোসেন এই সমস্যার সমাধান দিয়ে বলেন, যতটা সম্ভব ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। দুই ঘণ্টা পর পর তেলবিহীন টোনার অথবা কিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। তেল তাহলে মুখের ওপর বেশি আসবে না। মুলতানি মাটি ও শসার রস মিশিয়ে ১০ মিনিট মুখে রাখলে এই তেল তেলে ভাব কমবে। তিন থেকে চার ঘণ্টা সজীব দেখাবে। এ সময়ের আরেকটি সমস্যা, রোদে পোড়ার কারণে ত্বক কিছুটা নির্জীব হয়ে পড়ে। শসার রস মাখলে এর সমাধান পাওয়া যাবে সহজেই। আরেকটি প্যাক ব্যবহার করতে পারেন- কলা, পেঁপেসহ বেশ কিছু ধরনের ফল বেস্নন্ড করে নিন, এবার অল্প পরিমাণে টকদই ও মুলতানি মাটি মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন। মুলতানি মাটির বদলে নিতে পারেন বেসন অথবা চালের গুঁড়া।

এ তো গেল গরমের সময়টার কথা- এবার আসা যাক বৃষ্টির সময়ে কী করতে হবে। বৃষ্টির পানি মাথায় লাগলে যত দ্রম্নত সম্ভব শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগাতে হবে, বৃষ্টির এই সময় চুলের আরও ভালো যত্ন নিতে হবে। বৃষ্টির সময় আর্দ্রতা বা ঠান্ডা আবহাওয়া ত্বকের জন্য অনেক ভালো; কিন্তু বৃষ্টির আগে ও পরে কখনো কখনো গুমোট গরম ভাব হয়। এই গরম-ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে ত্বক কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে নিয়ে পরে লিপ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। শুষ্ক ত্বকের অধিকারীরা ফেসওয়াশ ব্যবহার না করে হালকা কোনো ক্রিম ভালোভাবে মুখে মালিশ করে মুখ ধুয়ে নিলেই হবে, শুষ্ক ভাব চলে যাবে, কোমলতা আসবে। বৃষ্টির পানিতে যেসব জায়গার ত্বক ভিজবে, সেখানে পরিষ্কার করে ফেলুন। ওয়াটার বেসড টোনার ব্যবহার করুন তৈলাক্ত ত্বকের জন্য। এ ছাড়া ডাবের পানি বরফ করে রাখতে পারেন সেটা মুখে ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া ডাবের পানি দিয়েও মুখ ধুতে পারেন ত্বকের দাগ চলে যাবে, উজ্জ্বলতা বাড়বে।

গুমোট গরমে ঘামের প্রবণতা দেখা যায়, ঘাম থেকে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয়। সমস্যা ও সমাধান দুটিই তুলে ধরলেন তিনি। ঘামের কারণের্ যাশ অথবা ফুসকুড়ি হয়। ব্রণ আছে যাদের সেটা আরও বেড়ে যাচ্ছে, শসার রসের সঙ্গে মেথির গুঁড়া এখানে চমৎকার কাজ করবে। মেথি জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করবে এবং শসার রস ত্বককে ঠান্ডা রাখবে, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এটি খুব উপকারী।র্ যাশের জন্য টকদই খুব ভালো, লাগিয়ে দেখতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের সুস্থতার জন্য শসার রস, মেথির গুঁড়া ও টকদই যথেষ্ট- শুধু শসার রস তুলার সাহায্যে লাগালেও ব্যাকটেরিয়া থেকে ত্বককে বাঁচাতে পারবেন।

শেয়ার করুন