আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০৮:৩২ অপরাহ্


লাকসামে পরকীয়ার জেরে শ্রমিককে হত্যা

লাকসামে পরকীয়ার জেরে শ্রমিককে হত্যা

আলো ডেস্ক :

লাকসামে পরকীয়ার জেরে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যাকান্ডের অভিযোগে মোঃ মিজানুর রহমান (৩৪) ও তার প্রেমিকা সুমি আক্তার চুমকিকে (১৮) আসামী করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার লাকসাম থানায় নিহতের পিতা মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামের দুলাল মিয়া বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে লাকসাম থানা পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত ওই দুইজনকে আদালতে পাঠিয়েছে।পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরকীয়া করে পালিয়ে যাওয়া ঘাতক মিজানুর রহমান ও তার প্রেমিকা চুমকি সোমবার সিলেট থেকে লাকসাম রেলওয়ে জংশনে এসে নামে। এ সময় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান তার সম্পর্কিত শ্যালক নিহত নির্মাণ শ্রমিক শামীম হোসেন সুমন, তার বন্ধু ইমরান হোসেন ও নাজমুস শাহাদাত নাঈম তাদেরকে দেখে ফেলে।ওই সময় তাদেরকে বুঝিয়ে কৌশলে একই সিএনজি অটোরিক্সা যোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। পথিমধ্যে উপজেলার পৌলাইয়া নামক স্থানে এসে পৌছলে হঠাৎ ঘাতক মিজানুর রহমান ও প্রেমিকা চুমকি তাদের সাথে থাকা ছোরা বের করে সকলকে জিম্মি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তাকে জাপটে ধরতে গেলে এলোপাথারী তার ছুরিকাঘাতে সুমন ও এমরান হোসেন গুরুতরভাবে আহত হয়।আহতদের আত্মচিৎকারে আশে পাশের লোকজন ছুটে এসে গুরুতর আহতবস্থায় সুমন ও ইমরানকে স্থানীয় হাসপাতালে পরে আশংকা জনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নেয়ার পথে সুমন মারা যায়। বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন এমরানের অবস্থাও আশংকাজনক। এদিকে স্থানীয় লোকজন ঘাতক ও তার প্রেমিকাকে আটক করে লাকসাম থানা পুলিশকে খবর দেয়।জানা যায়, লাকসাম সদরের গাজীমুড়া গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে সিএনজি অটোরিক্সা চালক মিজানুর রহমান পাশ্ববর্তী মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামের কলিম উল্লার মেয়ে নুরজাহানকে বিয়ে করে। তাদের সংসারে ১২বছরের একটি সন্তানও রয়েছে। এদিকে তার প্রেমিকা সিলেট মৌলভী বাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার শাপলাবাগ গ্রামের চিতার মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তার চুমকি ওই গ্রামে নানার বাড়ীতে বসবাস করতো এদিকে মিজান শশুর বাড়ী আসা যাওয়ার সুবাধে চুমকির সাথে পরিচয় ও পরবর্তীতে পরকীয়ায় প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে ওই গ্রামে বেশ কয়েকবার সালিস দরবারও হয়েছিল। এক পর্যায়ে ঘটনার কয়েকদিন আগে তারা উভয়ে পালিয়ে সিলেটে চুমকীর বাড়ীতে চলে যায়।এদিকে নিহত সুমনকে সোমবার রাতে ময়না তদন্ত শেষে নিজ বাড়ীতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মনোহরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন নিহতের বাড়ীতে যান।লাকসাম থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে লাকসাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামী মিজান ও চুমকিকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালত প্রেরন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন