আইন-আদালতসারাদেশ

সবার জন্য সমান আইন :কর্ণেল (অব.) ফারুক

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা :

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের মধ্য দিয়ে আইন সবার জন্য সমান তা প্রমাণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্ণেল (অব.) ফারুক খান। রোববার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে এ বিষয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, সবার জন্য সমান সুযোগ আছে। আইন সবার জন্য সমান। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলে নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুক খান বলেন, আমি তো মনে করি, এটাই লেবেল প্লেয়িং গ্রাউন্ড। আইন সকলের জন্য এক। কোনো দলের প্রধান হলে তার জন্য আইন তো অন্য রকম হবে না। আর আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, বিএনপি তো মেনেই নিয়েছে যে এ সরকার ও প্রশাসনের অধীনেই নির্বাচন করবে। এখন রদবদলের দাবি অবান্তর। রোববার ইসির সঙ্গে প্রায় দুইঘণ্টা বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশনারগণ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন এইচ টি ইমাম, মুহিবুল হাসান চৌধুরী, বিপ্লব বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কায়ছার প্রমুখ। প্রশাসনের রদবদল নিয়ে বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এইচ টি ইমাম আরও বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপি প্রশাসনের রদবদলের নামে যে দাবি করেছে, তাহলে একেবারে পুরো সরকারকেই উলট-পালট করতে হয়। পুরো সরকারই বদল করতে হয়। সেটি হবার নয়। বিএনপি মেনেই নিয়েছে এ সরকারের অধীনেই এবং এই প্রশাসনের অধীনেই তারা নির্বাচন করবে। তারা তো নির্বাচনে এসেছে। এখন বিএনপির এই প্রশ্ন অবান্তর। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে অভিযোগ করে এইচ টি ইমাম বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নির্বাচনী আচরণ বিধির সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন করে সমাবেশ করেছেন। সমাবেশ যেই করুক না কেন, আমাদেরকেও করলেও সেটি যেমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ, অন্যদের বেলাও সেটি প্রযোজ্য। আমরা চাই লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন কী বলেছেন-এ প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, তারা ব্যবস্থা নেবেন। আমরা সব সময় বলছি- আইন সবার জন্য সমান। সবার জন্য সমান সুযোগ নেই বিএনপির এ অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা দিনরাত ঝাড়া মিথ্যা কথা বলেন। অনবরতই মিথ্যা কথা বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র তথা সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে লক্ষ্য করে বিভিন্নভাবে চারদিক থেকে উস্কানীমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করা উচিত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আমরা কখনই কোনো উস্কানীমূলক বক্তব্য আমরা দেইনি। আমরা নির্বাচন কমিশনকে কতগুলো বিষয় বলেছি। যেমন আজকাল অনেকগুলো অনলাইন আছে, তাদের কোনো রকম নিবন্ধন নেই এবং স্থানীয়ভাবে অনেক লোকাল টেলিভিশনও গজিয়ে ওঠেছে। এগুলো সম্পর্কেও আমাদের সচেতন হওয়া দরকার। যাতে কেউ কোনো রকম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, কেউ যাতে অপপ্রচার না করে। আর সব থেকে বড় জিনিস জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় যাতে না দিতে পারে। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, লন্ডনে সম্প্রতি ডেইলি টেলিগ্রাফে এবং ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকায় এসেছে সেখানে ব্যাংকিং আইনে দণ্ডিত একজন ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। সেখানে তাকে এক মিলিয়ন পাউন্ড দণ্ডিত করা হয়েছে। তারপরও সেই ব্যক্তি এখানে এসেছেন। তিনি বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। এ বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছি। এইচ টি ইমাম বলেন, আওয়ামী লীগ সবার জন্য সমান সুযোগ চায়। তারা বিশ্বাস করে, সবার জন্য স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। তারা নির্বাচন কমিশনকে বলেছে, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক যারা আসবে, তাদের নির্বাচনী আইন এবং পর্যবেক্ষক নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। দেশে ১১৮টি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থা রয়েছে। বিদেশ থেকেও যদি এ রকম পর্যবেক্ষক আসতে থাকে, তাহলে তাদের নিরাপত্তা দিতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেক ব্যস্ত থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ কি বিদেশি পর্যবেক্ষক আসা নিরুৎসাহিত করছে- এমন প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, তারা এটা নিরুৎসাহিত করছেন না। তবে সবাইকে আচরণবিধি ও আইন মেনে চলতে হবে।

Related Articles