শিরোনাম
  ডিমলায় ধর্মকে কুটক্তিকারী প্রভাষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ র‌্যালী       নড়াইলে সরকারী চাকুরীর আড়ালে ইয়াবার বিশাল ব্যবসা ইউএনও অফিসের সহায়ক গ্রেফতার       কালিয়াকৈরে সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি আহত-২       নন্দীগ্রামে দশটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা       তাড়াশে সাংবাদিকদের সাথে এমপির মতবিনিময়       প্রেসক্লাব হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা,কমিটি গঠন,শংকর সভাপতি/জাকির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত       গোবিন্দগঞ্জে নাশকতাকারী ৬ মামলার পলাতক আসামী রাজ্জাক কে গ্রেফতার       তাড়াশে বিএনপি যুবদলের মানব বন্ধন       গাইবান্ধা জেলা পুলিশের হাতে আন্তঃজেলা তালা ও গ্রীলকাটা চক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার       গাইবান্ধায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ কারেন্ট জাল ব্যবসায়ির দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা    

আজ রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন


অস্থিরতা চামড়া শিল্পে

অস্থিরতা চামড়া শিল্পে

অনলাইন ডেস্কঃ

ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, ঘরে ফেরা যাত্রীদের যানজটে পড়তে হয়েছে এগুলো প্রতি ঈদেই ঘটে। এগুলো এখন মোটামুটি স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিয়েছে ভুক্তভোগীরা। এখন এর সঙ্গে একটি সমস্যা নতুনভাবে বড় হিসেবে যুক্ত হয়েছে; আর সেটি হলো কোরবানির পশুর চামড়া এবং চামড়ার মূল্য। আমরা সাধারণত সবকিছু তুচ্ছ মূল্য বোঝাতে পানির দর বলে থাকি। কিন্তু বাস্তবে এখন আর সেই দিন নেই। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুধের দামের চেয়েও পানির দর বেশি। সে জন্যই চামড়ার মূল্য যদি বলা হয় পানির দর তাহলেও মিথ্যা বলা হবে। কারণ এখন চামড়ার কোনো মূল্যই নেই। কাজেই কারোর দামের সঙ্গে তুলনা করার কোনো সুযোগই নেই। অথচ চামড়া একটি অতি প্রয়োজনীয় রপ্তানি পণ্য। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে চামড়ার মূল্য নিয়ে চলছে এক অন্যরকম কারসাজি। গড়ে উঠেছে নানা অবৈধ সিন্ডিকেট। সেসব সিন্ডিকেট এ সম্ভাবনাময় অথচ অতি প্রাচীন শিল্পটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে। আমরা দেখেছি আজ থেকে বিশ বছর আগেও একটি পূর্ণবয়স্ক পশুর চামড়ার দাম ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে। ছোট পশুর চামড়ার মূল্য সেরকম আনুপাতিক হারে চারশ-পাঁচশ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ তখন মূল্যস্ফীতি আরও কয়েকগুণ কম ছিল। টাকার মূল্যমানও অনেক কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে অন্যান্য জিনিসের বাজারমূল্যের সঙ্গে তাল মেলালে ওই চামড়ার মূল্য এখন কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা হওয়ার কথা ছিল। আর ছোট পশুর চামড়া সেই অনুপাতে এক থেকে দেড় হাজারের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, বিগত কয়েক বছর ধরে চামড়ার অল্প কিছু মূল্য থাকলেও এ বছর কোরবানি ঈদের পর প্রাপ্ত চামড়ার কোনো মূল্যই নেই। কেউ যেন চামড়া কিনতেই চাচ্ছে না। আমরা জানি, সারাবছরে যত পশু জবাই হয়, এক কোরবানি ঈদেই তার অর্ধেকের বেশি পশু কোরবানি হওয়ায় বছরের মোট উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ চামড়া এ সময়ে পাওয়া যায়। বিপত্তি এবারে এখানেই হয়েছে। আমি আমার নিজের কোরবানি করা পশুর চামড়া কোনো ব্যাপারী কিংবা ফড়িয়ার কাছে বিক্রি করতে পারিনি। সারাদিনে একজন ব্যাপারীও আসেননি। শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশী এক এতিমখানায় চামড়াটি দান করেছি। জানি না তারা আবার সেটাকে কিছু করতে পেরেছে কি না। আমি জানতে পেরেছি আমার অনেক প্রতিবেশী এবং পরিচিতজন এমনটাই করেছেন।
অথচ কোরবানি করা পশুর মাংসের যেমন একটি অংশ গরিবদের জন্য প্রাপ্য, ঠিক তেমনি কোরবানির পশুর চামড়ার পুরো মূল্যই দরিদ্র মানুষের প্রাপ্য। কাজেই চামড়ার মূল্যের যে কোনো উঠতি-পড়তির ওপর গরিবের হক প্রাপ্তিতে ব্যত্যয় ঘটে। বঞ্চিত হয় তারা। কারণ অনেক গরিব-দুস্থ মানুষ রয়েছে, যারা সারা বছরের এ ঈদটিকে তাদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে গণ্য করে থাকে। তারা মাংস পাবে এবং পাবে চামড়ার মূল্য বাবদ কিছু অর্থ অনুদান হিসেবে। এগুলো দিয়ে তারা বিশেষ ধরনের কোনো কাজ করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এবারের পর থেকে তাদের জন্য আবার নতুন করে ভাবতে হবে।
আমাদের দৈনন্দিন নিত্যব্যবহার্য চামড়ার তৈরি জিনিসের দাম দিন দিন বেড়ে চলেছে। বাড়ছে এর কদরও। কিন্তু কী কারণে চামড়ার বাজার নিয়ে এমন ঘটনা ঘটছে, তা সঠিকভাবে বের করার এখন উপযুক্ত সময়। একসময় পাট নিয়ে বাংলাদেশে এমন ঘটনা ঘটতে দেখেছে জাতি। কিন্তু পাটের অনেক বিকল্প তন্তু আবিষ্কার হয়েছে। তারপরও এখন পাটের আবার সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। অথচ চামড়ার অনেক বিকল্প তৈরি হলেও এখনও বিশ্ব বাজারের কোথাও চামড়ার তৈরি পণ্যের কদর কমতে দেখা যায়নি। তারপরও কেন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কাঁচামালের মূল্য নিয়ে এমন দুরবস্থা হবেÑ সেটি কারোরই বোধগম্য নয়।
চামড়ার মূল্যের বিষয়ে যে দু-একটি প্রতিবন্ধকতার কথা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শোনা যায়, সেগুলো গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ হতে পারে না। কোনো ব্যবসায়ী ব্যবসা করবে আর তার পুরোনো বছরের বাকি পরিশোধ করবে সরকার কিংবা ব্যাংকÑ সেটা কোনো অবস্থাতেই যৌক্তিক হতে পারে না। এখানে দেশি-বিদেশি কোনো চক্র যদি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে, তাহলে তাদের খুঁজে বের করতে হবে। কারণ চামড়ার মূল্য না পাওয়ার জন্য সারা দেশে যেভাবে বিভিন্ন স্থানে চামড়া অযতেœ-অবহেলায় পড়ে থাকছে তাতে একদিকে যেমন ব্যাপারী, ফড়িয়া, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সর্বোপরি এর মূল্য দাবিদার দুস্থ-দরিদ্র মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে এখানে সেখানে পড়ে থেকে চামড়াগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট করে জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলবে, যা কোনো অবস্থাতেই কাম্য হতে পারে না। কাজেই এখনই সময় এগুলোর বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে কাউকে ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের সুযোগ তৈরি করে না দেওয়া।

শেয়ার করুন

ডিমলায় ধর্মকে কুটক্তিকারী প্রভাষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ র‌্যালী

নড়াইলে সরকারী চাকুরীর আড়ালে ইয়াবার বিশাল ব্যবসা ইউএনও অফিসের সহায়ক গ্রেফতার

কালিয়াকৈরে সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি আহত-২

নন্দীগ্রামে দশটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা

তাড়াশে সাংবাদিকদের সাথে এমপির মতবিনিময়

প্রেসক্লাব হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা,কমিটি গঠন,শংকর সভাপতি/জাকির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

গোবিন্দগঞ্জে নাশকতাকারী ৬ মামলার পলাতক আসামী রাজ্জাক কে গ্রেফতার

তাড়াশে বিএনপি যুবদলের মানব বন্ধন

গাইবান্ধা জেলা পুলিশের হাতে আন্তঃজেলা তালা ও গ্রীলকাটা চক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার

গাইবান্ধায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ কারেন্ট জাল ব্যবসায়ির দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা