শিরোনাম
  পলাশবাড়ীতে সেচ্ছাসেবকলীগের শীতবস্ত্র বিতরণে কেন্দ্রীয় সভাপতি সম্পাদক       গাইবান্ধায় আমান উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা       গাইবান্ধায় বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকরা       কুমিল্লার চান্দিনায় ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় খুন হয় নাছির ।       তাড়াশে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের ২য় পর্বের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন       চান্দিনায় অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার।       কালিয়াকৈরে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্ছি আকাশসহ গ্রেফতার ২       স্কাউটের মাধ্যমে শিশুরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠে সিমিন হোসেন রিমি এমপি       ডিমলায় ভিক্ষুকদের মাঝে শুকনা খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণ       দাদন ব্যবসায়ীর মারপিটে স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু    

আজ শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ০৯:৪৭ অপরাহ্


বই পড়া জরুরি সাধনে

বই পড়া জরুরি সাধনে

অনেকের মধ্যে আজকাল বই পড়ার চরম অনীহা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বইয়ের দোকানে টেক্সটবুক, রেফারেন্স বুক, নোট বুকের বেশ ক্রেতা আছেন। কিন্তু গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, কবিতার বই বেশিরভাগই পড়ে থাকে বইয়ের দোকানে। আর তা ধুলাবালিতে মলিন হয়। অবশ্য বিতর্কিত বইয়ের ব্যাপার ভিন্ন। এসব বই কাটে ভালোছোটবেলা থেকেই আমি বই পড়তাম। আমার জন্মধাত্রী মায়ের অবর্তমানে বই পড়ার এ নেশা ধরিয়ে দিয়েছিলেন আমার এক বড় বোন। পড়াতে কোনো বাছবিচার ছিল না। সব ধরনের বই পড়ারই আমার আগ্রহ ও অধিকার ছিল। মহাকবি ইকবাল যেমন প্রচুর কাঁদিয়েছেন, তেমনি কাজী নজরুল ইসলাম প্রায় দাঁত ভাঙার উপক্রম করেছিলেন। আর রবীন্দ্রনাথ তো জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে বিদ্যমান। কবিতা, ছড়া, গল্প, উপন্যাসসহ প্রচুর বই পড়া হয়ে যেত বাড়িতেই। জমা হতো প্রচুর ম্যাগাজিন, পত্রপত্রিকাÑ যেমন পয়গাম, আজাদ, ইত্তেফাক, দেশ, উল্টোরথ। এগুলোর সবই আদ্যোপান্ত পড়ে নিতে পারতাম স্বল্প সময়ের ভেতরে। ঘরে অন্যদের সঙ্গে এসব নিয়ে দস্তুরমতো মাতামাতি চলত। এক নিশ্বাসে সবই না পড়লে স্বস্তি হতো না। সে ট্র্যাডিশন এখনও চলছে সমানতালে।
এক সময় পড়ার মাধ্যমে সমরেশ বসু, সৈয়দ মুজতবা আলী, মীর মশাররফ হোসেন, বেগম রোকেয়া, কাজী নজরুল ইসলাম, মৌলানা তাহের একেবারে আপন হয়ে গিয়েছিলেন। এছাড়া বঙ্গ সাহিত্যের বিবিধ রতন মনে ছাঁচ গেঁথে দিয়েছেন তাদের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, সমালোচনায়। ইংরেজিতেও দৌড় কম ছিল না। চার্লস, শেক্সপিয়ার, শেলী, বায়রন এমন স্বল্প সংখ্যক লেখকের লেখা পুস্তক পড়ার ও বোঝার চেষ্টা করেছি। উর্দু ও হিন্দি বইপত্রের প্রতিও আকর্ষণ কম ছিল না, যদিও খুব একটা সুবিধা করতে পারিনি এসব বিষয়ে। তবে এটা ঠিক, সব মিলে বই, পত্রপত্রিকা পড়ার একটা মন তৈরি হয়েছে আমার সে ছোটকাল থেকেই। ভূমিকাটি হয়তো কিছুটা লম্বা হয়ে গেল। আসলে বলতে চেয়েছিলাম বই পড়ার আনন্দের কথা। যারা পড়েন তারা অবশ্য ভালোভাবেই এ আনন্দের কথা অনুধাবন করতে পারেন বলে আমার বিশ্বাস।
আজকের দিনে পাঠক কমে গেছে। এ আক্ষেপ সবার। প্রকাশক, লেখক, গ্রন্থ প্রণেতা, বিক্রেতা, প্রত্যেকের অনুযোগ পাঠক হ্রাস পাওয়ার ব্যাপারে। তবে কি নবপ্রজন্ম উদাসীন বই পড়ার ব্যাপারে? বিষয়টি চিন্তনীয়।
আজ বাজারে রাশি রাশি বই, ঘন ঘন বই মেলা, কত উপহার সংবলিত ম্যাগাজিনÑ তবু পাঠক কম। কেমন যেন মনে হয়। ভালো ছাপা, ভালো কাগজ, ভালো লেখা, সুন্দর ঝকঝকে অফসেটে; তবু পাঠকের অভাব। এটা বিস্ময়ের ব্যাপার।
আমাকে কেউ বই উপহার দিলে খুব খুশি হই। নিজেও আমার নিজের বা পরের লেখা বই কাউকে উপহার দিয়ে আনন্দ পাই। ভাবি একটা বই-ই তো দিলাম, তা তো পড়বে কিছু লোক। এক সময় বই উপহার দেওয়াটা খুব গর্বের ব্যাপার ছিল। অথচ আজকাল, বিশেষ করে বিয়েশাদিতে বই উপহার দিলে অনেকে অখুশি হন। অনেকের মুখে শোনা যায় গিফট আইটেম বা ব্যবহারী জিনিস না দিয়ে বই দিলেÑ এগুলো আবার কে পড়ে আর কে দেখে। রাখার জায়গাই বা কোথায়? কী যে রুচি! এ ধরনের মন্তব্য আজকাল মোটেই দুর্লভ নয়। অন্তত আমাদের প্রায়ই শুনতে হয় এ জাতীয় কথা।
এ প্রজন্মের একাংশ ভালো পাঠক আছে। কিছু আছে যারা ভালো বই পড়ে, অন্যকেও পড়ায়। একাংশ আছে ঠ্যাঁশ, কেচ্ছা জাতীয় বই পড়ে আনন্দ পায়। আমি কিন্তু ভালো পাঠকের বই পেলে সময় বের করে বসে যাই পড়ার টেবিলে। এ রকম একজন ভালো পাঠক সাবেক মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদ আবুল মাল আবদুল মুহিত। বইয়ের পোকা। বয়সে প্রবীণ; কিন্তু মনেপ্রাণে বইয়ের পাঠক। একদিন ঢাকা যাত্রাকালে সিলেট বিমানবন্দরে আমার সঙ্গে দেখা। আমিও একই ফ্লাইটের যাত্রী ছিলাম। আমার সদ্য প্রকাশিত একটি বইয়ের সংখ্যা তার হাতে তুলে দিতেই তিনি একের পর এক পাতা উল্টিয়ে দেখতে শুরু করলেন। ওইদিন ফ্লাইট বিলম্বজনিত কারণে বইটি তার খুব উপকারে এসেছে বলে আমি মনে করলাম। কারণ তিনি যতক্ষণ বিমানবন্দরে বসেছিলেন কারও সঙ্গে কোনো কথাবার্তা না বলে শুধু বইটি পড়ছিলেন। মাঝে মধ্যে তার ঠোঁটে ও মুখে হাসিও দেখা গিয়েছিলÑ আমার ধারণা হয়তোবা বইতে তিনি নতুন কিছু পেয়ে থাকতে পারেন, যা তাকে কিছুটা হলেও আনন্দ দিয়েছে। অবশ্য আমার আগের লেখা বইগুলো পড়ে তিনি বেশ প্রশংসা করেছিলেন, আমিও তাতে অনুপ্রাণিত হয়েছি। একটি জাতীয় দৈনিকে তিনি কিছু লিখেছিলেনও আমার লেখালেখির ব্যাপারে।
আমার এক বন্ধু উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা। কোনো এক মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করে অবসরে গেছেন ক’মাস আগে। তিনি সৈয়দ মুজতবা আলীর খুব ভক্ত। তার রচনাবলি দিয়ে সচিব মহোদয়ের দিনের পড়া শুরু হয়। সকালে গোসল, তারপর প্রাতঃরাশ এবং খবরের কাগজ। এরপর অফিস। অফিস শেষে বাসায় ফিরে অন্তত খাওয়া-দাওয়ার পর কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে হাঁটতে বের হন। ২ থেকে ৩ বা ৪ মাইল হাঁটাহাঁটি করে বাসায় ফিরে মাগরিবের নামাজ আদায় করে বই হাতে নেন। পড়ার টেবিলে বসে টিভির সংবাদ দেখেন আর বই পড়তে থাকেন। বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের সংখ্যা কম। বই-ই তার নিত্যসঙ্গী। বইয়ের পোকা কাউকে পেলে বই নিয়ে আলোচনা করেন। মাঝেমধ্যে কাঁচাবাজারে যান তরিতরকারি, মাছ-মাংসের সঙ্গে বই, পত্রপত্রিকা, ম্যাগাজিন ক্রয় করে নিয়ে আসেন। তার সহধর্মিণী শেফালীও বই পড়েন প্রচুর এবং পড়ে তা মনে রাখার চেষ্টা করেন। মাঝেমধ্যে প্রসঙ্গ টেনে কথা বলেন। এমন পাঠক দুর্লভ। এদের সঙ্গে বসলে সময় কোন দিকে বয়ে যায় বোঝাই যায় না।
আমি আরও বেশ ক’জন পাঠকের সঙ্গে কথা বলেছি, ঘনিষ্ঠভাবে মিশেছি, তাদের মধ্যে হায়দার খান, লে. কর্নেল আলী আহমদ, মুক্তাবিস উন নূর, সৈয়দ মোস্তফা কামাল, রাগীব হোসেন চৌধুরী, ড. নাজমানারা খানমÑ এরা ভীষণ পাঠক। বইয়ের পোকা বলা চলে কবির আশরাফ আলম ও হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং জেনারেল (অব.) আসহাব উদ্দিনকে। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই সাবলীল। দারুণ পাঠক।
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় ব্যস্ততা সবারই বাড়ছেÑ আর হয়তোবা এ কারণেই পাঠকের সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে কমে আসছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়, নিশ্চয়ই। অনেকের মধ্যে আজকাল বই পড়ার চরম অনীহা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বইয়ের দোকানে টেক্সটবুক, রেফারেন্স বুক, নোট বুকের বেশ ক্রেতা আছেন। কিন্তু গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, কবিতার বই বেশিরভাগই পড়ে থাকে বইয়ের দোকানে। আর তা ধুলাবালিতে মলিন হয়। অবশ্য বিতর্কিত বইয়ের ব্যাপার ভিন্ন। এসব বই কাটে ভালো।
আজকাল লোকে যেমন বই কম পড়েন, তেমনি উপহারও দেন কম। এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়, আজকাল বই কেউ আর পড়েন না, তাহলে দিয়ে লাভ কী? এর চেয়ে অন্য কোনো গিফট আইটেম দেওয়াই ভালোÑ স্ট্যাটাসও বাড়বে। আবার কেউ কেউ বলেন, বইয়ের এত দাম দিয়ে পোষায় না। অথচ বাস্তবে ১০০ টাকা দিয়ে একটা ভালো বই বাজারে দুর্লভ নয়। আসলে রুচির পরিবর্তন। এটা কিন্তু শুভ লক্ষণ নয়Ñ বর্তমান সামাজিক পরিবেশে।
‘বই ভালো বন্ধু’ এ সেøাগানের মাধ্যমে পাঠক তৈরি করা যায়। একজন পাঠক তৈরি করতে পারেন একাধিক পাঠক। সুপরিকল্পিতভাবে ধাপে ধাপে নতুন পাঠকের মাঝে বই পড়ার নেশা একবার তৈরি করে দিতে পারলেই হয়। একখানা বই পড়ে একাধিক লোক যদি তা নিয়ে আলোচনা করে; তবে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে বাধ্য। এতে করে বেশ কিছু ভালো পাঠক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আজ ভোগবাদী ইঁদুর দৌড় প্রতিযোগিতার দিনে সময়ের অভাবÑ এ দোহাই অনেকে দিতে পারেন। তবু দিনের চরম ব্যস্ততার মধ্যে কিছু সময় যদি অন্তত কয়েক পাতা করে পড়া যায়; তবে কিছুদিন পর বই পড়ার সময় এমনিতেই বেরিয়ে আসবে। সময় পেতে কষ্ট হবে না। একটা নেশায় পরিণত হবে বই পড়াটা।
বিভিন্ন পাড়ামহল্লা বা ক্লাবে লাইব্রেরি আছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারাও চেষ্টা করলে বই পড়ার এবং পাঠক সৃষ্টি করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। আমরা নিজেরা যদি একে অপরকে বই উপহার দিয়ে থাকি, তাহলে বিলম্বে হলেও পাঠকের সংখ্যা বাড়বে। এটা এক নীরব আন্দোলন, যার ফল অতিশয় শুভ। আমি মাঝেমধ্যে বন্ধু-বান্ধবদের, বিশেষ করে যারা প্রবাসে থাকেন তাদের বই পাঠিয়ে থাকি। এর মধ্যে আমার লেখা ক’টা বইও থাকে। আবার আমাকে কেউ বই ও বিদেশি পত্রপত্রিকা উপহার দিলে যারপরনাই খুশি হই। ভালো কোনো কিছু পড়লে অন্যকে বলি। জানি কেউ পছন্দ করে থাকেনÑ কেউ না; তবু বলি আশাবাদী হয়ে। আমার বিশ্বাস এভাবে পাঠক শ্রেণি গড়ে উঠবে। এভাবেই মন তৈরি হবে, পৃথিবী হবে মানুষের বসবাসযোগ্য। আজকের হানাহানি, হিংসা, দ্বেষ, লোভ, বাস্তববাদী, ভোগবাদী মানবসমাজে স্থিরতা, শান্তি ও প্রগতির বার্তা মানবতার উৎকর্ষ সাধনের উদ্দেশ্যে ভালো বইয়ের পাঠক তৈরি করাটা অত্যন্ত প্রয়োজন এবং সময়োপযোগী। বই পড়ার মধ্য দিয়ে এক নীরব আন্দোলন গড়ে মানুষই পারবে পৃথিবীকে প্রকৃতার্থে বাসযোগ্য করে তুলতে। হ

আফতাব চৌধুরী
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
জীবন সদস্য-বাংলা একাডেমি, ঢাকা ও সিলেট প্রেসক্লাব

শেয়ার করুন

পলাশবাড়ীতে সেচ্ছাসেবকলীগের শীতবস্ত্র বিতরণে কেন্দ্রীয় সভাপতি সম্পাদক

গাইবান্ধায় আমান উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

গাইবান্ধায় বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

কুমিল্লার চান্দিনায় ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় খুন হয় নাছির ।

তাড়াশে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের ২য় পর্বের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

চান্দিনায় অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার।

কালিয়াকৈরে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্ছি আকাশসহ গ্রেফতার ২

স্কাউটের মাধ্যমে শিশুরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠে সিমিন হোসেন রিমি এমপি

ডিমলায় ভিক্ষুকদের মাঝে শুকনা খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণ

দাদন ব্যবসায়ীর মারপিটে স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু