নড়াইলে জোর পূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে শ্রমিককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

নড়াইলে জোর পূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে শ্রমিককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

নড়াইলের একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পানি তোলার মোটর চুরির অপবাদ দিয়ে রকি মোল্যা (৩১) নামে এক নির্মাণ শ্রমিককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী অচেতন অবস্থায় আহত রকিকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার রকির ভাই ফারুক মোল্যা বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে থানা একটি মামলা দায়ের করেছেন। নড়াইলের কাশিপুর ইউনিয়নের চালিঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিস রুমে দিনভর এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, রকির মা ও এলাকাবাসি সুত্রে জানা গেছে, দিবা গত রাতে নড়াইলের কাশিপুর ইউনিয়নের চালিঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পানি তোলার একটি মোটর চুরি হয়। এ ঘটনায় এলাকাবাসী পার্শ্ববর্তী কলাগাছি গ্রামের আতিয়ার মোল্যাদিবাগত ছেলে রকি মোল্যা ও চালিঘাট গ্রামের হাফিজার শেখের ছেলে রসুল শেখকে চোর হিসেবে সন্দেহ করে। এরপর নড়াইলের কাশিপুর ইউপির সাবেক মেম্বর শরীফুল শেখের নেতৃত্বে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহসীন আলমসহ ৫/৭ জন মিলে সকালে নড়াইলের লক্ষীপাশা এলাকা থেকে রকিকে জোর পূর্বক মোটরসাইকেলে করে তুলে নড়াইলের চালিঘাট এলাকার একটি ব্রিজের পাশে নিয়ে মারধোর করে। পরে সেখান থেকে রকিকে নড়াইলের চালিঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে নিয়ে হাত-পা বেঁধে দ্বিতীয় দফায় লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। রকির মা ফিরোজা বেগম সংবাদ পেয়ে এলাকাবাসির সহযোগীতায় ছেলেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইলের লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শরীফুল ইসলাম এরাকায় হত্যা, মারামারীসহ অন্তত এক ডজন মামলার আসামী। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার একদিন পর রকির জ্ঞান ফিরে সাংবাদিকদের কাছে নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। খবর পেয়ে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমএম আরাফাত হোসেন ও নড়াইলের লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোকাররম হোসেন ছুটে যান হাসপাতালে। রকি অচেতন থাকায় তার বক্তব্য নিতে ব্যার্থ হন দুই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ওই রোগীর মাথা, বুক ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে শংকামুক্ত নয়। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার রকির ভাই ফারুক মোল্যা বাদী হয়ে ৭জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। চালিঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় আমি স্কুলে ছিলাম না। পরে স্কুলে এসে আহত রকিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। নড়াইলের লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোকাররম হোসেন এজাহার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শেয়ার করুন