আজ শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:০০ অপরাহ্


গাইবান্ধায় গুপ্তমনির চরে সমস্যা সংকটে বিপন্ন নদী পাড়ের পরিবারগুলো

গাইবান্ধায় গুপ্তমনির চরে সমস্যা সংকটে বিপন্ন নদী পাড়ের পরিবারগুলো

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের গুপ্তমনির চরে পানি ও জল, নদীবাহিত উর্বর পলি সমৃদ্ধ জমির অভাবসহ নানা সমস্যা সংকটে বিপন্ন নদী ভাঙন কবলিত আশ্রিত পরিবারগুলো। তদুপরি নতুন জেগে ওঠা ওই চরে বিদ্যালয় না থাকায় শিশু শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য চরের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে নৌকা ভাড়ার টাকা দিতে না পারায় শিশুরা বিদ্যালয়ে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।
সরেজমিনে চর পরিদর্শনে জানা গেছে, ৭ বছর আগে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশের গুপ্তমনি চরটি জেগে উঠতে শুরু করে। ধীরে ধীরে চরটি বিস্তৃত হতে থাকে। বছর তিনেক আগে এই চরে বসবাস শুরু করে অন্যান্য চরাঞ্চলের নদী ভাঙন কবলিত চরাঞ্চলগুলোর মানুষ। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী পাশের উজাল ডাঙা চরের বিরাট অংশ ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হয়ে গেলে অনেকে গৃহহারা হয়ে পড়ে। উজালডাঙ্গা চরের গৃহহারা ব্যক্তিরাই আশ্রয় নিয়েছে এই গুপ্তমনি চরে। এখন এই চরে বসবাস করছে প্রায় ৩শ’ পরিবার। চরে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। এই চরের অনেক শিশুই উজালডাঙা চরের কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উজালডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আগে থেকেই শিক্ষার্থী। গুপ্তমনির চর থেকে উজালডাঙা চরে আসা-যাওয়া করতে শিশু শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। স্কুলের সময় ঠিকমত নৌকা পাওয়া যায় না, আবার প্রত্যেক শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য ২০ টাকা নৌকা ভাড়া দিতে হয়। চরাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলোর পক্ষে দৈনিক ২০ টাকা নৌকা ভাড়ার জোগান দেয়া তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংগত কারণেই ওই চরাঞ্চলের শিশুরা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হচেছ।
উজালডাঙা থেকে গুপ্তমনির চরে নতুন বসতি স্থাপন করা ফজলুপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর শামসুল হক জানান, এই বাসিন্দাদের পানীয় জল ও স্যানিটারী সমস্যা সবচেয়ে বেশি। চরবাসী ব্রহ্মপুত্রের পানি দিয়েই দৈনন্দিন কাজকর্ম সারেন। তদুপরি বিগত বন্যায় অনেক জমিতে বালুর স্তর পড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে সরকারিভাবে টিউবওয়েল স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা অত্যান্ত জরুরী বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন