আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার:সংবাদ সম্মেলন 

আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার:সংবাদ সম্মেলন 

প্রতিদিনের আলো ।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ই অক্টোবর বেলা ১১টায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, আপনারা ইতো মধ্যেই অবগত আছেন যে, একটি বিশেষ মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে লিপ্ত। আমি আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কুচক্রি মহলের মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অপপ্রচারকারীরা জাতীয় পত্রিকাসহ অনলাইনে একটি ভিডিও ছেড়ে ও পোস্টার ছাপিয়ে সেখানে আমাকে মাদক সেবনকারী ও মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপবাদ দিয়েছে যা আদৌ সঠিক নয়। সেই সূত্রধরে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করিয়েছে। আমি উক্ত বানোয়াট, মিথ্যা ও মনগড়া সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি কখনোই জাসদ বা অন্য কোন দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। জাসদের কোন পর্যায়ের কোন কমিটিতেও আমার নাম ছিল না। তাই জাসদ করার প্রশ্নই আসে না। আমি শৈশব থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করি। জীবনে প্রথম ভোট আমি নৌকায় দিয়েছি। সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলাম এবং নৌকার নির্বাচনী কাজ করেছি দীর্ঘসময়। তাই জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে নিতেই আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হই। নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় প্রত্যক্ষ ভোটে আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। সেই থেকে নন্দীগ্রাম উপজেলায় তৃনমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে কাজ শুরু করি। প্রয়াত জননেতা মমতাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে গোটা উপজেলায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে কমিটি গঠন করে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলেছি। বিগত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে নন্দীগ্রামে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ করেছি। বিএনপি-জামায়াতের ঘাটি খ্যাত নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগ এখন বিগত যেকোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। আমার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে একটি বিশেষ মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে বেশ কিছুদিন  যাবত চক্রান্ত শুরু করে। আমি সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর যখন সংগঠন এগিয়ে নিতে কাজ করি তখন কেউ আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করতে আসেনি। সামনে জাতীয় সম্মেলন, নতুন করে আবারো কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই আমাকে সরিয়ে দিতে রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে অপরাজনীতির পথ বেছে নিয়েছে। তারা মিথ্যাচারের পথ নিয়ে মাদক সম্পৃক্ততার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সবসময় সত্য প্রকাশ করে থাকেন। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যেমন সুবিধা আমরা  পাচ্ছি তেমনি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষকে প্রতিনিয়ত হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি ফেসবুকে দেশের স্বনামধন্য পীর হাবিবুর রহমান নামের একজন সাংবাদিকের নামে নোংরা ছবি ভাইরাল হয়েছে। যা আদৌ তার ছবি নয়। অনলাইনে এটি নতুন ঘটনা নয়। যা তথ্য প্রযুক্তি বিশারদগণ যাচাই বাছাই করে মিথ্যা বলে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় মূলত ৫ বছর আগের একটি ভিডিও যার ছবি ওই স্বনামধন্য ব্যক্তির মত দেখতে তাই ভিডিও কারসাজি করে প্রচার করছে একটি মহল। ঠিক তেমনি আমাকে জড়িয়ে যে ভিডিওটি প্রচার হয়েছে তা কখনোই আমার নয়। আমি কখনোই মাদক সেবন বা ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলাম না। তাই মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতার প্রশ্নই আসে না। যারা আমাকে মাদক ব্যবসায়ী বলে প্রকাশিত সংবাদের পর নন্দীগ্রামে মিছিল করেছে, তাদের মধ্যে পৌর আওয়ামী লীগের আনিছুর রহমান ও মুকুল হোসেনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে বহিস্কার আদেশ  ও শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছিল। যা এখন পর্যন্ত বহাল আছে। আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে তাদের বিরুদ্ধে আনিত বহিস্কারাদেশ ও শোকজ প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানালে তারা মরিয়া হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ এই ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডারই অংশ। উল্লেখ্য যে, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির ছত্রছায়ায় তার একজন নিকট আত্মীয় নন্দীগ্রামের মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এবং এই ব্যক্তির মাদক ব্যবসার একটি বড় লভ্যাংশ সে পেয়ে থাকে। বিগত বছর খানেক আগে ওই ব্যক্তি পুলিশের হাতে ধরা পড়লে আনিছুর রহমান নিজেই থানায় তার পক্ষে তদবির করে এবং ছাড়াতে অসমর্থ হলে কোর্টে চালান করা হয়। তার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন ও জামিনের ব্যবস্থা করে। আপনাদের কাছে আমার বিনীত জিজ্ঞাসা কোন মাদক ব্যবসায়ীর গডফাদার যখন নিজেই মাদক বিরোধী সাজে এবং কারো নামে আনিত মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে মিছিল করে তখন সে নিজে কতটা ভন্ড? পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসেনের সম্পর্কে দুটো কথা না বললেই নয়। সে নিজে একজন ভূমিদস্যু। সরকারী  খাস জায়গা দখল করে তিনতলা বিল্ডিং নির্মাণ ও দামগাড়া সড়কের  মাথায় বিশ্বরোডের  পূর্বপাশ্বে ১২৮৫ / ৬২৪  দাগে ৪৫ শতক দলিলীয় সম্পত্তি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে দখল করার পাশাপাশি নানাবীধ অরাজনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে সে জড়িত রয়েছে। বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ’র অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি আপনাদের এটুকু জানাতে চাই, বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশে প্রার্থী যেই হোক নৌকা সবার। এই নির্দেশনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নির্বাচনে ঝাপিয়ে পড়ি। যার প্রমাণ আমার ফেসবুক আইডিসহ অনেক পেপার পত্রিকায় বিদ্যমান। নন্দীগ্রামের আপামর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন জনসমাবেশ ও প্রত্যক্ষ জনগণের নিকটে ভোট প্রার্থনার প্রমাণ আপনারা অবগত আছেন। তাই আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ’র এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এদের মদদদাতাদের অনেকেই দলছুট হয়ে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করে ক্ষমতার দম্ভে ধরাকে সরাজ্ঞান করে তৃনমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতিনিয়ত হয়রানী করে চলছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জনসভায় মাইকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটুক্তিকারী ব্যক্তিটিই এখন নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগের হর্তাকর্তা হয়ে গেছে। এর চাইতে বড় দুঃখের আর কি হতে পারে ? সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল লেখক সমিতির নিয়ন্ত্রণ সমিতির নেতারাই করে থাকে। সেখানে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। অটোটেম্পু মালিক সমিতিসহ হাট-বাজার, রাস্তা ও ফুটপাতে কারা চাঁদাবাজি করছে সেটা সবাই জানে। আমি দীর্ঘদিন থেকে ব্যবসার সাথে জড়িত, ব্যবসার মাধ্যমেই নিজেই জীবন পরিচালনা করি, চাঁদাবাজির কোন প্রয়োজন নেই। তিনি আরো বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছি। যারা কখনোই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী ছিল না, সেই সব নব্য ও হাইব্রিড আওয়ামী লীগ নামধারীরা নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান নড়বড়ে করতে চায়। ইতোমধ্যেই তারা জামায়াত-বিএনপির চিহ্নিত নেতাকর্মীদের দলে যোগদান করিয়েছে। তারা যেমন নিজে নব্য আওয়ামী লীগ তেমনি ভিন্নমতাদর্শের ব্যক্তিদের দলে ভিড়াচ্ছেন নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। নব্যদের কারণে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা যেমন কোনঠাসা তেমনি অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বও তৈরী হচ্ছে তাদের কারণে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের নিয়ে আমি যখন শক্তিশালী সংগঠন গড়ার কাজ করছি তখনি সেই নব্যদের স্বার্থে আঘাত লাগছে। মুলত তারা দলীয় পরিচয় দিয়ে নিজেদের অবৈধ সম্পদ রক্ষাসহ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নয় এমন ব্যক্তিদের দলের পদ-পদবী দিতে চায়। তারা মূলত নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দূর্বল করে হাইব্রীডদের হাতে দলের নেতৃত্ব তুলে দিতে চায়। আর সেই ক্ষেত্রে আমি তাদের মূল প্রতিবন্ধকতা। আমাকে সরাতে পারলেই তাদের অপকর্মের পথ পরিস্কার হবে। এ কারণেই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, মিথ্যা ভিডিও ও পোস্টার লাগাচ্ছে। আমি চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলাবাসীকে সজাগ থাকার আহবান জানাচ্ছি। বিগত সময়ের ন্যায় নন্দীগ্রামে বিএনপি-জামায়াত ও হাইব্রিড চক্রকে প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনায় সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা স্বপন চন্দ্র মহন্ত, মোরশেদুল বারী, উপজেলা যুবলাগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল চন্দ্র মহন্ত, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান, শামীম শেখ, মুক্তারিন জাহিদ সরকার, কালিপদ সরকার, আনিছুর রহমান আলো, সোহেল রানা সোহাগ, নিক্ঞ্জু চন্দ্র, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি এমআর জামান রাসেল ও উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ রায়হান মানিক প্রমুখ।

শেয়ার করুন