কিছু কথা ভালোবাসা দিবস নিয়ে

কিছু কথা ভালোবাসা দিবস নিয়ে

অনলাইন ডেস্ক : 

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস! বরাবরের মত এ বছরও আমার এই দিবসটির প্রতি আগ্রহ নেই। নেই কোনো উচ্ছ্বাসও। তবে তরুণ-তরুণীরা যে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ দিবসটি পালন করে থাকে সেই সুযোগটিও আমার নেই বা হয়নি। তাছাড়া আমি যদি আমার কাছের মানুষদের ভালোবাসি, সেটা একদিনের জন্য নিশ্চয়ই ভালোবাসি না। তবে সেজন্য দিনক্ষণ কেন ঠিক করতে হবে? তাই আমার কাছে ১৪ ফেব্রুয়ারি অন্যান্য আট-দশটা দিন যেমন হয় তেমনই। এর মধ্যে কোনো ভিন্নতা খুঁজে পাই না।

যাইহোক যা বলছিলাম- এই দিবসটি এমনভাবে আমাদের প্রজন্মের মধ্যে বিস্তার ঘটছে যা সত্যিই অত্যন্ত দু:খজনক। দেখা যাচ্ছে দিবসটিকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীরা অপসংস্কৃতির উচ্ছৃংখল জীবনের সাথে গা ভাসিয়ে দিচ্ছেন। এই দিবসটি পালন করার আগে অন্তত দিবসটির পূর্ব ইতিহাস জানা দরকার। না জানা থাকলে জেনে রাখুন এই দিবসের ইতিহাস গাথা সেই কথা। ভালোবাসা দিবস বা সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’স ডে (ইংরেজি: Valentine’s Day) (সংক্ষেপে ভ্যালেন্টাইন’স ডে নাম পরিচিত) একটি বার্ষিক উৎসবের দিন যা ১৪ ফেব্রুয়ারি অশ্লীল, বেহায়াপনা প্রেম এবং অনুরাগের মধ্যে উদযাপিত করা হয়। এ দিনটিকে যদি ভালোবাসা দিবস হিসেবেই পালন করতে হবে তবে ভালোবাসা দিবসের ইংরেজি হওয়া উচিত ছিল ‘লাভ ডে’ অথবা ‘লাভার্স ফেস্টিভাল ডে’। অথচ আমরা যাকে ভালোবাসা দিবস বলে উদযাপন করছি, একটি দিন ও রাতকে প্রেম সরোবরে ডুব দেয়া, সাঁতার কাটা, চরিত্রের নৈতিক ভূষণ খুলে প্রেম সরোবরের সলিলে হারিয়ে যাওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাাচ্ছি সেটার উৎপত্তিগত নাম ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে’। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ Saint Valentine’s Day) এর প্রথম শব্দটিই এ দিনটির আসল পরিচয়ের জানান দিতে যথেষ্ট। Advanced Oxford Learners’ Dictionary তে Saint শব্দের অর্থ লেখা হয়েছে- A Person Declared to be holy by the christian church because of her/his Qualities or good works. অর্থাৎ এমন ব্যক্তি, খ্রিস্টান গীর্জা কর্তৃক যাকে তার গুণাবলী বা ভালো কাজের জন্য পবিত্র সত্তা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। Valentine অর্থ ভালোবাসা নয় বরং এক ব্যক্তির নাম। সুতরাং সহজেই বুঝা যায়, গীর্জা কর্তৃক ‘পবিত্র সত্তা’ হিসেবে ঘোষিত হওয়া একজন ধর্মযাজকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন-ই এ দিনটি উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য।- ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত।

কী রয়েছে ইতিহাসে: ইতিহাস ঘেঁটে ভ্যালেন্টাইন ডে বা সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়েছে মুক্ত বিশ্বকোষ-উইকিপিডিয়ায়। কী লিখেছে সেখানে? উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, ২৬৯ খ্রিস্টাব্দে ইতালির রোম নগরীতে বাস করতেন খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক এবং চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেনটাইন। সেই সময়ে ইতালিতে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল বলে তখনকার রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াসের হুকুমে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে বন্দি এবং কারাকক্ষে নিক্ষেপ করা হয়। বন্দি থাকা অবস্থায় তিনি প্রধান কারারক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এতে সম্রাট ক্রাডিয়াস ক্ষিপ্ত হন এবং সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে হত্যা করেন। আর সেই দিনটি ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। তারও অনেক পরে ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১৪ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে তোলেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের স্মরণেথ তিনি এ দিনটিকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে ঘোষণা করেন ভালোবাসার প্রতিমূর্তি রূপে। সেই থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হিসেবে পরিচিত ও উদযাপিত হয়ে আসছে। – ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত।

কিন্তু এই ভালোবাসা দিবসের নামে মানুষ শুধু অধঃপতনের দিকেই যাচ্ছে। নিজের শালীন সংস্কৃতি ভুলে আধুনিকতার নামে দেশীয় সংস্কৃতি ভুলে বেছে নিচ্ছে ভিনদেশী অপসংস্কৃতি। ভালোবাসা দিবসও এর বহির্ভুত নয়। এই দিনটিতে বেহায়া ও বেলেল্পাপনাময় কর্মকাণ্ড করতে দেখা যায় তরুণ-তরুণীদের। পার্ক জুড়ে দেখা যায় প্রেমিক-প্রেমিকার ঢল। ফুল দিয়ে মন বেচা-কেনাসহ কত যে অযাচিত ঘটনা। উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরাই সাধারণতঃ এতে অগ্রগামী বেশী। তারা সহজেই হারিয়ে যায় নিজেদের ভবিষ্যত সম্ভাবনা ভুলে যৌবনের মৌ-বনে। এ দিনে হোটেল গুলোতে চলে প্রেমিক-প্রেমিকাদের রাত্রী যাপন। ডিজে পার্টির নামে চলে অশ্লীল কর্মকাণ্ড।

তবে অনেকে যেহেতু দিনটি পালন করে থাকেন, তাতে আমার কোনো আক্রোশ নেই। এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। যারা এ দিনটি উদযাপন করেন বা করবেন, তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এ দিবসটিকে নিয়ে নোংরামি চিন্তা বাদ দিয়ে প্রকৃত ভালোবাসার প্রকাশ ঘটান। এ দিনেও যদি একটু ভালোবাসা আপনার মধ্যে জন্মায়, তাহলে সেটা আজীবন ধরে রাখুন। মনে প্রশান্তি পাবেন।

পরিশেষে বলব, শুধু দিবস নয় ভালোবাসা চিরন্তন। সব সময় ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকুক। ভালোবাসা সার্বজনীন। নিখাদ ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক হৃদয় থেকে হৃদয়ে। এখানে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা নয়, মা-বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা থাকবে। স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা থাকবে। ভাই-বোনের ভালোবাসা থাকবে। এই ভালোবাসা প্রতিটি পরিবারে বিরাজ করুক সারা বছর। মানুষ বেঁচে থাকে ভালোবাসায়। ভালোবাসাকে শুধু মাত্র একটা দিন দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। আমাদের প্রতিটি দিন হোক ভালোবাসা দিবস।

শেয়ার করুন