খেলা-ধুলা

সিলেটের জয় রোমাঞ্চকর ম্যাচে

ক্রীড়া ডেস্ক :

সাতজন ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরেছেন, চিটাগং ভাইকিংসের রান তখন ১৩১, ১৯ ওভার শেষে ১৪৫। ক্রিজে তখন স্বীকৃত ব্যাটসমান বলতে এক রবি ফ্রেইলিঙ্ক। শেষ ওভারে দরকার ২৪ রান। প্রথম চার বলে ১৫ নিয়ে সেই ফ্রেইলিঙ্কই ম্যাচের শেষটাকে করে তুললেন রোমাঞ্চকর। তবে শত চেষ্টা করেও শেষ দুই বলে ৯ রানের সমীকরণটা মেলাতে পারলেন না দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার। রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচটা শেষতক ৫ রানে জিতে নিল সিলেট সিক্সাসর্। হট ফেভারিট এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডাসের্ক হারিয়ে এবারের বিপিএল শুরু করেছিল চিটাগং। অপরদিকে, নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সঙ্গে লড়াই করেও হেরেছিল সিলেট। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এসে দলদুটো হাটল স¤পূণর্ উল্টো পথেÑ প্রথম জয় পেল সিলেট, প্রথম হার দেখল চিটাগং। মিরপুরে এদিন আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৬৮ রান তুলে চিটাগংকে কঠিন চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিয়েছিল সিলেট। জবাব দিতে নেমে ১৬৩ রানে থামে চিটাগং।প্রথমে ব্যাট হাতে এবং পরে কৌশলী অধিনায়কত্বে এদিন সিলেটকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ওয়ানার্র। দলের ইনিংসে সবোর্চ্চ ৫৯ রানের জোগান দিয়েছেন এই ওপেনারই। বাজে শুরুর পর প্রথমে আফিফ হোসেন এবং পরে নিকোলাস পুরান ব্যাট হাতে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন ওয়ানার্রকে। আফিফ ৪৫ রান করে আউট হলেও পুরান অপরাজিত ছিলেন ৫২ রানে। শেষবেলায় এই ক্যারিবিয়ানের দুদার্ন্ত ব্যাটিংয়েই ১৬৮ পযর্ন্ত যেতে পারে সিলেট। স্বভাবতই ম্যাচসেরার খেতাবটা উঠেছে তার হাতে।পুরানের হাতে ম্যাচসেরার খেতাব উঠলেও ওয়ানার্র আর আফিফের মতো পুরস্কারটার দাবিদার ছিলেন তাসকিন আহমেদও। ২৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন টাইগার পেসার। তার দুদার্ন্ত বোলিংয়েই রান তাড়ায় সুবিধে করে উঠতে পারেনি চিটাগং। বিধ্বংসী আফগান ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদকে ৬ রানের মাথায় সাজঘরে পাঠান তাসকিনই। এরপর মোহাম্মদ আশরাফুল, সিকান্দার রাজা আর নাঈম হাসানকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে চিটাগংকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন তিনিই।শাহজাদ ফেরার পর আশরাফুলকে (২২) সঙ্গী করে ক্যামেরন ডেলপোটর্ হাতখুলেই খেলছিলেন। কিন্তু ২২ বলে ৩টি চার আর ২টি ছক্কায় ৩৮ রান করার পর এই প্রোটিয়া রানআউটের খড়গে কাটা পড়তেই ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে দৃশ্যপট। তাসকিন ফেরান আশরাফুলকে। এরপর অলক কাপালিকে পুল করতে গিয়ে ৫ রানেই আউট দলপতি মুশফিকুর রহিম। ১০ ওভারের মধ্যেই প্রথমসারির চার ব্যাটসম্যানকে হারায় চিটাগং। দলীয় সংগ্রহ শতরান পেরোনোর আগে বিদায় নেন মোসাদ্দেক হোসেনও (৭)।অন্যদের আসা-যাওয়ার মাঝে ফ্রেইলিঙ্ককে সঙ্গে নিয়ে একটা চেষ্টা চালিয়েছিলেন সিকান্দার রাজা। কিন্তু ২৮ বলে সমান দুই চার ও ছক্কায় ৩৭ রান করে তাসকিনের তৃতীয় শিকার হন জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যান। সিকান্দারের পর নাঈম হাসানকে ফিরিয়ে উইকেটের হালি পূরণ করেন তাসকিন। শেষদিকে ব্যাট চওড়া করেছিলেন ফ্রেইলিঙ্ক। দলকে জয়ের প্রায় কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ২৪ বলে এক চার ও চারটি ছক্কায় ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন এই প্রোটিয়া। এর আগে বল হাতেও ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। তার এমন অলরাউন্ড নৈপুণ্যও জয় এনে দিতে পারেনি চিটাগংকে।ফ্রেইলিঙ্ক আর নাঈমের দুধর্ষর্ বোলিংয়েই দলীয় ৬ রানের মধ্যে লিটন দাস, নাসির হোসেন আর সাব্বির রহমানকে হারায় সিলেট। এমন দুঃস্বপ্নের শুরুর পর ওয়ানাের্রর সঙ্গে ৭১ রানের জুটিতে দলকে টেনে তুলেন আফিফ। ৫টি চার আর ৩টি ছক্কায় ২৮ বলে ৪৫ রান করে এই বঁাহাতি খালেদ আহমেদের শিকার হন। এরপর পুরানকে নিয়ে ৭০ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান ওয়ানার্র। বিপিএলে প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে ৪৭ বলে ২টি চার আর একটি ছক্কায় ৫৯ রানে থামেন তিনি। সমান ৩টি করে চার আর ছক্কায় ৩২ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন পুরান।

Related Articles