কক্সবাজারে হঠাৎ চড়া পেঁয়াজের দাম

কক্সবাজারে হঠাৎ চড়া পেঁয়াজের দাম

বাংলাদেশে ভারতের পেঁয়াজ রফতানি স্থগিত ঘোষণার পর বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতা কঠোরভাবে দমন করছিল সরকার। সে সময় পেঁয়াজের দাম এক লাফে শতকের ঘরে পৌঁছায়। এরই মাঝে প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমার ও বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকেও পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখে সংকট মোকাবিলা করা হয়। ৫০-৭০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রির মূল্য নির্ধারণ করে দেয় প্রশাসন।

কিছুদিন প্রশাসনের দেখানো পথে চললেও চলতি সপ্তাহের শুরু হতে পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে আবারও অস্থিরতা সৃষ্টি করছে মোনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। বেশি দাম নিতে ব্যর্থ হয়ে আড়তদাররা এখন কৌশলে সংকট সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।পর্যটন নগরী কক্সবাজারের অধিকাংশ ভোগ্যপণ্যের দোকানে আকস্মিকভাবে হাওয়া হয়ে গেছে পেঁয়াজ। দোকানীরা ক্রেতাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে ‘পেঁয়াজ নেই’।

কিন্তু মিয়ানমার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ প্রতিদিন আমদানি হচ্ছে। সরবরাহ যাচ্ছে চট্টগ্রাম-ঢাকার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারেও। রোববারও (১৩ অক্টোবর) মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর হয়ে ৭৬০ দশমিক ৫৮৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। চলতি মাসের গত ১৩ দিনে আমদানির পরিমাণ ৭ হাজার দশমিক ৪৮৩ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বরে এসেছে ৩ হাজার ৫৭৩ মেট্রিক টন এবং আগস্টে আসে ৮৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। আমদানির এ চিত্রে কক্সবাজারে পানির দরে পেঁয়াজ পাওয়ার কথা।

শহরের রুমালিয়ারছরা এলাকার বাসিন্দা রুবেল ওয়াহিদ জানান, রোববার সন্ধ্যায় প্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে বড় বাজারে দেখি অধিকাংশ দোকোনেই পেঁয়াজ নেই। যে কয়েকটিতে অল্প-স্বল্প পেঁয়াজ রয়েছে, তা কেজি প্রতি ৮০-৯০ টাকা না দিলে মিলছে না। কেউ কয়েক কেজি চাইলেও দেয়া হচ্ছে না।

পৌরসভার গুমগাছতলার আস্বাদনী সুপার সপের মালিক নান্টু দাশ বলেন, তাদের দোকানেও পেঁয়াজ নেই। অল্প পরিমাণে যা আছে তা কেজিতে ৮০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। সোমবার কেউ কিনতে আসলে বিক্রির মওজুদ নেই।

কক্সবাজার শহরের দোকানিদের মতে, শহরের আড়তদারদের কাছে পেঁয়াজের মওজুদ নেই। টেকনাফ ও চট্টগ্রামের আড়তদাররা চাহিদা মাফিক পেঁয়াজ বিক্রি করছে না। সরবরাহ না থাকায় আকস্মিক এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি তাদের। তবে অনেকের অভিযোগ আড়তদাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন রোববার রাতে বলেন, রোববারে পেঁয়াজের বাজার সম্পর্কে খবর নেয়া হয়নি। সোমবার সকালেই বাজারের খবর নিয়ে এমন কোনো কিছু পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সদরের লিংকরোড এলাকার পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতা নাসিরুদ্দীনের মতে, মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ আনতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হচ্ছে। আমদানি কারকরা দাম বাড়তি নেয়ায় পরিবহণ খরচসহ মেলালে কক্সবাজারে এনে প্রশাসনের নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে পুষানো সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। দেশের পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ করতে আমদানিকারকরা আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করছে। মিয়ানমার থেকে এত পেঁয়াজ আনার পরও স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

টেকনাফ স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্র জানায়, গতকাল রোববারও মিয়ানমার থেকে ৭৬০ দশমিক ৫৮৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। অক্টোবরের ১-১৩ তারিখ পর্যন্ত ৭ হাজার দশমিক ৪৮৩ মেট্রিক টন, সেপ্টেম্বরে ৩ হাজার ৫৭৩ মেট্রিক টন এবং আগস্টে ৮৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

আমদানিকারকদের মতে, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে অব্যাহত চেষ্টার ফলস্বরূপ আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে তাদের অভিযোগ, বন্দরে শ্রমিক অব্যবস্থাপনা ও জেটির অভাবে আমদানিকৃত পেঁয়াজ খালাসের আগেই ট্রলারে পঁচে যাচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় এ ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। ট্রলারে পেঁয়াজ পঁচে যাওয়ায় লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে পেঁয়াজের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।

কিন্তু টেকনাফ স্থলবন্দর কতৃপক্ষ ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন জেটি ও শ্রমিক সংকটের কথা অস্বীকার করে বলেন, বন্দরে শ্রমিক সংকট নেই। দুটি জেটি দিয়ে দ্রুত পেঁয়াজ খালাস করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন মিয়ানমারের পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৫৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ সব্বোর্চ ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রির মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু এখন দাম আবারও ৮০-১০০ টাকা নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শেয়ার করুন