শিরোনাম
  পলাশবাড়ীতে সেচ্ছাসেবকলীগের শীতবস্ত্র বিতরণে কেন্দ্রীয় সভাপতি সম্পাদক       গাইবান্ধায় আমান উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা       গাইবান্ধায় বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকরা       কুমিল্লার চান্দিনায় ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় খুন হয় নাছির ।       তাড়াশে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের ২য় পর্বের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন       চান্দিনায় অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার।       কালিয়াকৈরে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্ছি আকাশসহ গ্রেফতার ২       স্কাউটের মাধ্যমে শিশুরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠে সিমিন হোসেন রিমি এমপি       ডিমলায় ভিক্ষুকদের মাঝে শুকনা খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণ       দাদন ব্যবসায়ীর মারপিটে স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু    

আজ শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ০৯:৪৪ অপরাহ্


চুল পড়া রোগ ও চিকিৎসা

চুল পড়া রোগ ও চিকিৎসা

ট্রাইকোলজিস্ট বা চুল চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মানুষের প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি চুল পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। এর বেশি হলে বা পুনরায় নতুন চুল না গজালে চিকিৎসকরা এটিকে এক ধরনের রোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে দেশের তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে অনেকের চুল পড়া সমস্যা বাড়ছে। এ সমস্যার সমাধানে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল মিশ্রিত মানহীন কসমেটিক ব্যবহার করে অনেকে ভুল চিকিৎসারও শিকার হচ্ছেন। ফলে চুল পড়া রোধে আধুনিক চিকিৎসা যেমনÑ পিআরপি থেরাপি, হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, হেয়ার সার্জারি বা চুল প্রতিস্থাপন দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাই এ বিষয়টি জানার আগ্রহ অনেক পাঠকের রয়েছে।

সাধারণত মানুষের চুল পড়ার কারণগুলোর মধ্যে ফিজিওলজিক্যাল ও প্যাথলজিক্যাল সমস্যা অন্যতম। এছাড়া মানুষের দেহে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা ও ভিটামিন ডির ঘাটতি হলে চুল পড়ে থাকে। কারণ দেশে একশ্রেণির মানুষ আছে, যারা অতিরিক্ত ওজন (স্থূলতা ও মেদ) কমাতে অনিয়ন্ত্রিত ডায়েট কন্ট্রোল করে। আবার আরেক শ্রেণি অর্থাৎ গরিব মানুষ আছে, যারা শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাদ্য পায় না। ফলে অ্যানিমিয়া হয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল পড়ে। এর বাইরে আরও কয়েক ধরনের চুল পড়া রোগ আছে যেমনÑ অনেকের আকস্মিক চুল, ভ্রু ও দাড়ি কমে যায়, চিকিৎসা শাস্ত্রের ভাষায় যাকে অ্যালোপেশিয়া এরিয়েটা বলা হয়। অনেকের চুল-দাড়ি, চোখের পাতা সব পড়ে যায়, যেটিকে অ্যালোপেশিয়া ইউনিভার্সেলিস বলে। এ দুটি লক্ষণকে বলা হয় অটোইমুইন ডিজিজ। এছাড়াও ভার্টিগো বা শ্বেতী রোগ, বোলাস ডিজিজ, কিডনি বিকল ও ক্যান্সারের কারণে চুল পড়ে থাকে। এছাড়া অন্যান্য কারণ অবহেলা করা বা অস্বীকার করার উপায় নেই।
দীর্ঘক্ষণ ধুলাবালিযুক্ত পরিবেশে অবস্থান, নিয়মিত হেলমেট ব্যবহারে অতিরিক্ত মাথা ঘামা, নিদ্রাহীনতা, হেয়ার স্টাইলে পরিবর্তন অর্থাৎ চুল সোজা বা বাঁকা করতে নিম্নমানের জেল, ক্রিম, সিরাম জাতীয় কসমেটিক ব্যবহার, ইলিট্রিক হিট, হিয়ার রিবন্ডিং ও কালার করা ইত্যাদি চুল পড়ার জন্য দায়ী। এর বাইরে অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বা বংশগত কারণ ও বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও চুল পড়ে থাকে। পরিবেশগত ও জিনগত কারণে চুল পড়ার পাশাপাশি মানুষের শরীরে টেস্টস্টোরেন নামক এক ধরনের হরমোন আছে। যে উপাদানটি বাংলাদেশের মানুষের শরীরে বেশি দেখা যায়। প্রকৃতির নিয়মে এটি শরীরে মধ্যে ভেঙে ডিএইচটি বা ড্রাই-হাইড্রো টেস্টোস্টেরেন তৈরি করে। আর বংশত কারণে যাদের শরীরে বেশিমাত্রায় ডিএইচটি উৎপন্ন হয় তাদের চুলও বেশি পড়ে। ডিএইচটি মূলত মাথার চামড়ার রক্তনালির ভেতরে জমা হয়ে রক্ত (খাদ্য) খেয়ে ফেলে। ফলে কিছুদিন পর মাথার অনেক জায়গায় চুল গজানো কমে যায় এবং পূর্বের চুলগুলো পুষ্টিহীন হয়ে পড়ে।
আমরা যদি চুল পড়ার ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েদের দিকে লক্ষ করি, তাহলে  বংশগত টাক পড়ার প্রবণতায় ছেলেদের চুল পড়ার হার বেশি। কারণ নারীদের তুলনায় পুরুষের হরমোনাল বিষয়, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে বেশি পরিবর্তন হয়। সমীক্ষা করে দেখা গেছে, শুধু সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চুলের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর মধ্যে শতকরা ৭০ থেকে ৭৫ জনই ছেলে। প্রতিদিন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের বহির্বিভাগে গড়ে ৩০ জনের মতো রোগী চুলের সমস্যা নিয়ে আসছে। এ হিসাবে বছরে ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ চুলের চিকিৎসা নিতে আসছে। যাদের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ শতাংশেরই ইনজেকশন নেওয়া বা ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়।

চুল পড়ার আধুনিক চিকিৎসা
কারও বংশগত কারণে চুল পড়লে প্রাথমিক অবস্থায় এটি রোধ করতে ও ফের চুল গজাতে সাহায্য করে, এমন কিছু ওষুধ যেমনÑ ওয়েন্টমেন্ট (মলম) ও মুখে খাওয়ার ইনস্টোরয়েড, ডুটামেক্স জাতীয় ক্যাপসুল দেওয়া হয়। তাতে কাজ না হলে থেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা বা পিআরপি থেরাপি, মাইক্রোনিডিলিং থেরাপি অর্থাৎ মেশিনের সাহায্যে চুলের গোড়া শক্ত করার পদ্ধতি, স্টিমসেল থেরাপি (মাথার ভেতরে এক ধরনের ইনজেকশন) দেওয়া হয়। এছাড়া যাদের মাথা একেবারে টাক হয়ে গেছে স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্টের পরামর্শ দেওয়া হয়।

চুল পড়া প্রতিরোধে কিছু ঘরোয়া পরামর্শ
চুল পড়া প্রতিকারের ক্ষেত্রে প্রথম পরামর্শ হলো ট্রান্সফ্যাট মিশ্রিত ফাস্ট ফুড জাতীয় খাদ্য পরিহার করা, নিয়মিত ঘুম ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা। পাশাপাশি চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রসাধনী পণ্য ব্যবহার, বিউটি পার্লার বা জেন্টস পার্লারে চুলে হিট দেওয়া ও স্ট্রেইট বা সোজা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করা ও কিছু খাবার যেমনÑ দেশি বাদাম, চীনাবাদম, কাঁচা ছোলা, মিষ্টিকুমড়ার বিচি খেলে চুল পড়া কমে যায়।

ডা. জাহেদ পারভেজ বড়ভূঁঁইয়া
সহকারী অধ্যাপক
(চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি)
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা
চেম্বার : জাহেদ’স হেয়ার অ্যান্ড স্কিনিক
পাস্থপথ, ঢাকা। 
সেল : ০১৭০৭-০১১২০০

শেয়ার করুন

পলাশবাড়ীতে সেচ্ছাসেবকলীগের শীতবস্ত্র বিতরণে কেন্দ্রীয় সভাপতি সম্পাদক

গাইবান্ধায় আমান উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

গাইবান্ধায় বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

কুমিল্লার চান্দিনায় ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় খুন হয় নাছির ।

তাড়াশে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের ২য় পর্বের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

চান্দিনায় অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার।

কালিয়াকৈরে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্ছি আকাশসহ গ্রেফতার ২

স্কাউটের মাধ্যমে শিশুরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠে সিমিন হোসেন রিমি এমপি

ডিমলায় ভিক্ষুকদের মাঝে শুকনা খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণ

দাদন ব্যবসায়ীর মারপিটে স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু