শিরোনাম
  পলাশবাড়ীতে সেচ্ছাসেবকলীগের শীতবস্ত্র বিতরণে কেন্দ্রীয় সভাপতি সম্পাদক       গাইবান্ধায় আমান উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা       গাইবান্ধায় বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকরা       কুমিল্লার চান্দিনায় ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় খুন হয় নাছির ।       তাড়াশে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের ২য় পর্বের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন       চান্দিনায় অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার।       কালিয়াকৈরে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্ছি আকাশসহ গ্রেফতার ২       স্কাউটের মাধ্যমে শিশুরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠে সিমিন হোসেন রিমি এমপি       ডিমলায় ভিক্ষুকদের মাঝে শুকনা খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণ       দাদন ব্যবসায়ীর মারপিটে স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু    

আজ শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ০৯:৪৬ অপরাহ্


ইসলামে উত্তম চরিত্র

ইসলামে উত্তম চরিত্র

কোনো ব্যক্তিই নিজের কাজ, নিজের অভিমত, নিজের কোনো আগ্রহকে অন্য কেউ হেয় করুক, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করুক, এটা পছন্দ করে না। সবাই আপন অভিমতকে, আপন কর্মকাণ্ডকে প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখে। সে ভাবে, তার কাজটি খুবই সুন্দর হয়েছে। খুবই যুৎসই হয়েছে। সুচারু হয়েছে।
মানুষের ভুল হতেই পারে। তাই বলে একজন ব্যক্তির সব কাজই ভুল হয় না। এখন কোনো ব্যক্তি যদি তার সে কাজের খুঁত ধরে তিরস্কার করতে থাকে, তার অহমিকায় আঘাত লাগে। তার মনে চোট লাগে। সে তো কাজটা কষ্ট করেই করছে। ভালোর জন্যই করেছে। এতটুকুই যে, তার কাজটা যথাযথ হয়নি। কিন্তু তার মেহনত তো সে কাজে ব্যয় হয়েছে।
তার যতটুকু কাজ সুষ্ঠু হয়েছে, সুন্দর হয়েছে, ততটুকু কাজের প্রশংসা কি আমরা করতে পারি না? ততটুকুর মূল্যায়ন কি করতে পারি না। তার এতটুকু একটু মূল্যায়নের ফায়দা কী হবে? তার হৃদয়টা ভরে যাবে। কাজে প্রফুল্লতা আসবে। তার পরবর্তী কাজটা সুন্দর হয়ে যাবে।
এমনও হতে পারে, তার পুরো কাজটাই ভুল। তাই বলে কি আমরা তাকে তিরস্কার করব? সে-ও তো আমাদের মতোই মানুষ! মানুষ হিসেবে তো তার একটি মূল্যায়ন আছে। সেটা তো সে আমাদের কাছে প্রাপ্য।
আমাদের অধীনে এমন অসংখ্য লোক কাজ করে, যারা সামাজিক মর্যাদায় আমাদের নিচে; কিন্তু মানুষ হিসেবে তো তারা আমাদেরই মতো। আমাদের সমপর্যায়েরই। একজন মানুষ হিসেবে কি সে তার সঠিক মূল্যায়নটা পেতে পারে না? অথচ দেখা যায়, পথেঘাটে আমরা আমাদের নিম্ন শ্রেণির লোকগুলোকে কতটা হেয়, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করি! রিকশাওয়ালা থেকে বাসের হেল্পার, কারখানার কর্মচারী, দোকানের কর্মী সবার সঙ্গেই আমরা কেমন রূঢ় আচরণ করি! একটু এদিক-সেদিক হলেই তার দিকে রক্তচোখে তাকাই। গালাগাল করি। অনেকে তো আগ বেড়ে হাত তোলার দুঃসাহসও দেখায়। অথচ তাদের ওপর আমরা কত ঋণী। চলতে-ফিরতে তাদের অভাব আমরা ঠিকই অনুভব করি। কারণ মানুষ অক্ষম জাতি। একে অপরের সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া চলতে পারে না। সবাই পরনির্ভর। সমাজে চলতে আমাদের যেমন তাদের প্রয়োজন, তাদেরও আমাদের প্রয়োজন। সবাই একে অপরের মুখাপেক্ষী। তাহলে আমাদের ওপর কি তাদের করুণা নেই? একদিন যদি তারা কাজ বন্ধ করে দেয় তখনই বুঝে আসবে তাদের মূল্যায়ন। আমাদের তো বরং তাদের কৃতজ্ঞতা আদায় করা দরকার। তাদের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়ানো দরকার।
রসুল (সা.) বলেনÑ ‘যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হয় না।’ (তিরমিজি : ১৯৫৪)।
এখন কথা হলো, আমরা তাদের কৃতজ্ঞতা কীভাবে আদায় করব? খুবই সহজ একটি কাজ। তাদের একটু প্রশংসা করা। তাদের কাজের একটু মূল্যায়ন করা। এ প্রশংসাটাই তার কৃতজ্ঞতা আদায়ের জন্য যথেষ্ট হবে। রাসুল (সা.) বলেনÑ ‘কাউকে যখন উপহারস্বরূপ কিছু দেওয়া হয়, তখন সে যদি এর পরিবর্তে দেওয়ার মতো কিছু পায়, তাহলে যেন তা দিয়ে দেয়। আর যে এমন কিছু না পারে, সে যেন তার প্রশংসা করে। কেননা যে প্রশংসা করল, সে-ও কৃতজ্ঞতা আদায় করল। আর যে লুকিয়ে রাখল, সে অস্বীকার করল।’ (তিরমিজি : ২০৩৪)।
দেখুন, হাদিসে প্রশংসাকে কৃতজ্ঞতার স্থান দেওয়া হয়েছে। আর মানব মনের চাহিদাও একটু প্রশংসা। উইলিয়াম জেমস বলেছিলেনÑ ‘মানব চরিত্রের গভীর এক আকাক্সক্ষা হলো প্রশংসা পাওয়ার আকুতি।’ ছোট্ট একটি প্রশংসাবাক্য মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা আমরা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলেই দেখতে পাই। ছোট্ট খোকাটা যখন আপনার জন্য এক গ্লাস পানি নিয়ে আসে, তখন শুধু এতটুকু বলে দেখবেন, ‘তুমি কত সুন্দর করে পানি আনতে পার। আমার জন্য আরেক গ্লাস পানি এনে দেবে?’ আপনার এতটুকু প্রশংসা তার ওপর কতটা প্রভাব ফেলে চেয়ে দেখুন। তার চেহারায় কেমন খুশির ঝিলিক ফুটে ওঠে। পরের কাজের নির্দেশ দেওয়ার পর কেমন ছুটে যায়, সে কাজটিও সমাধা করতে। আরেকটু প্রশংসা পাওয়ার আশায়।
কিন্তু আপনি যদি তাকে তখন বলতেন, ‘ধুর, কী পানি এনেছিস? পানিতে এত ময়লা কেন? যা, গিয়ে আরেক গ্লাস নিয়ে আয়!’ তখন তার মনের কী অবস্থা হবে কল্পনা করে নিন।
দ্বিতীয়ত, প্রশংসা করার সবচেয়ে উত্তমপন্থা কী? সেটাও খুব সহজ। তার জন্য একটু দোয়া করে দিন। মুখে একটি হাসির রেখা টেনে বলুন, জাজাকাল্লাহ। এতটুকুই যথেষ্ট। রাসুল (সা.) বলেনÑ ‘কারও সঙ্গে যখন কোনো ভালো আচরণ করা হয় এরপর সে যদি ভালো আচরণকারীকে বলেÑ জাজাকাল্লাহু খায়রান অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাহলে সে যথোপযুক্ত প্রশংসা করল।’ (তিরমিজি : ২০৩৫)।
এভাবে যদি আমরা একে অপরের মূল্যায়ন করি। তার কাজের যথোপযুক্ত প্রশংসা করি, তাহলে সামাজিক জীবনে আমাদেরও মূল্য বৃদ্ধি পাবে উত্তরোত্তর। আমদেরও মূল্যায়ন করবে তারা। মর্যাদার আসনে এমনিতেই বসা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন উত্তম আচরণ আর সুন্দর ব্যবহার। আর ব্যক্তির মূল্যায়ন করা তার অন্যতম।

শেয়ার করুন

পলাশবাড়ীতে সেচ্ছাসেবকলীগের শীতবস্ত্র বিতরণে কেন্দ্রীয় সভাপতি সম্পাদক

গাইবান্ধায় আমান উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

গাইবান্ধায় বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

কুমিল্লার চান্দিনায় ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় খুন হয় নাছির ।

তাড়াশে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের ২য় পর্বের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

চান্দিনায় অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার।

কালিয়াকৈরে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্ছি আকাশসহ গ্রেফতার ২

স্কাউটের মাধ্যমে শিশুরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠে সিমিন হোসেন রিমি এমপি

ডিমলায় ভিক্ষুকদের মাঝে শুকনা খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণ

দাদন ব্যবসায়ীর মারপিটে স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু