শিরোনাম

আজ বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৩:১৯ অপরাহ্


সেই টিকটক তারকা গৃহবধূ ঘর ছেড়েছেন

সেই টিকটক তারকা গৃহবধূ ঘর ছেড়েছেন

এক সময় তিনি ছিলেন আটপৌঢ়ে গৃহবধূ। সংসার চলতো কেবল স্বামীর রোজগারে। কিন্তু হঠাৎই তিনি সন্ধান পেলেন টিকটকের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন এই ট্রেন্ডের বদৌলতে পাল্টে গেল তার জীবন। ভারতের হুগলি জেলার বাসিন্দা প্রতিমা মণ্ডল তারপর থেকেই হয়ে উঠলেন টিকটক তারকা।

তার টিকটক ভিডিওর বদৌলতেই তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন। নিজের উপার্জনে পাল্টে ফেলছিলেন সংসারের হালহকিকত। তারপর দিল্লির এক ফ্যাশন শোতে যোগ দিতে গিয়েই ‘নিখোঁজ’ হয়েছিলেন তিনি। তবে এ ঘটনায় প্রতিমার স্বামী পুলিশের দ্বারস্থ হতেই বেরিয়ে আসলো প্রকৃত ঘটনা।

ওই নারী কয়েকদিন আগে এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন, স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়েই ঘর ছেড়েছিলেন তিনি। তবে আবারও এক ভিডিও বার্তায় ভাসুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুললেন সেই নারী।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,কয়েক বছর আগে হুগলি জেলার চুঁচুড়ার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ মণ্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয় প্রতিমার। সংসারে অভাব না থাকলেও তেমন স্বচ্ছলতা ছিল না। স্বামীর আয়ে সংসার চলতো ঠিকই, কিন্তু প্রতিমা নিজেও একটা কিছু করতে চাইছিলেন। এমন সময়ই তার নজরে আসে টিকটক। ঠিক করেন, এবার তিনিও ভিডিও বানাবেন।

এরপর দুটি মোবাইল কেনেন প্রতিমা। সেই মোবাইলে শুট করতেন ভিডিও। এমনকি রাজস্থান, পাটনা, দিল্লিতে গিয়েও শুটিং করেছিলেন তিনি। কখনো সখনো সঙ্গী হয়েছেন স্বামী প্রসেনজিৎ। কিছুদিনের মধ্যেই ভালোই জনপ্রিয়তা পান প্রতিমা। আসতে থাকে ভালো রকম টাকাও। ফলে সংসারেও এসেছিল স্বচ্ছলতা।

এরই মধ্যে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় প্রতিমার। দিল্লিতে একটি ফ্যাশন শোতে প্রতিমাকে ডাকেন সেই যুবক। তাতে রাজি হন ওই গৃহবধূ। গত ৩১ ডিসেম্বর দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন গৃহবধূ। সে সময় স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথাও হয় তার।

কিন্তু তারপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ওই গৃহবধূ। ১০ দিন তার কোনো খোঁজ মেলেনি। ফোনও বন্ধ ছিল তার। ফলে দিশেহারা হয়ে শেষমেশ চুঁচুড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন স্বামী প্রসেনজিৎ মণ্ডল।

এরপরই ভিডিও বার্তায় ওই নারী জানান, স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দিল্লি চলে যান তিনি। সেখানেই আপাতত ভালো আছেন।

তবে ওই ভিডিওর পরে আরও একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আনলেন প্রতিমা।সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, অপহরণ নয় নিজের ইচ্ছাতেই তিনি দিল্লিতে চলে গেছেন। দিনের পর দিন ভাসুর তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন। স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাতে মদদও দিয়েছেন।

এমনকি তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে সাহায্যও চেয়েছেন বলেও জানান ওই টিকটকার গৃহবধূ।

শেয়ার করুন