আজ মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১১:৪৯ অপরাহ্


লালদীঘির ২৪ হত্যা মামলাঃ৫ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

লালদীঘির ২৪ হত্যা মামলাঃ৫ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পৃথক ধারায় আসামিদেরকে আবার ১০ বছর করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয় আসামিদের।
গতকাল সোমবার বিকালে চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ডের এ ঐতিাহাসিক রায় ঘোষণা করেন। তিনি চট্টগ্রামের জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মামলার আসামিরা সবাই পুলিশ সদস্য ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পুলিশের তৎকালীন হাবিলদার প্রদীপ বড়ুয়া, কনস্টেবল মমতাজ উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আব্দুল্লাহ ও ইন্সপেক্টর গোপাল চন্দ্র (জেসি) মণ্ডল। এর মধ্যে জেসি মণ্ডল বর্তমানে দেশের বাইরে পালিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্য চারজন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদেরকে বিশেষ নিরাপত্তার মাধ্যমে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান সিএমপির সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন আহমেদ। গত রোববার (১৯ জানুয়ারি) এ চার আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
এ বিষয়ে বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের পিপি ও এ মামলা প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্ব পালনকারী এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে উত্তাল গণআন্দোলনের মধ্যে তৎকালীন পুলিশের একটি গণহত্যার পরিকল্পনা এবং তা সংঘটনের ৩২ বছর পর আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এ মামলার রায়ে আদালত সুষ্পষ্টভাবে বলেছেন, এটি ছিল পরিকল্পিত গণহত্যা। চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদার নির্দেশে এবং কোতোয়ালী থানার পেট্রল ইন্সপেক্টর গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের (জেসি মন্ডল) হুকুমে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম লালদিঘীর ময়দানে যাবার পথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে নিহত হন ২৪ জন। আহত হন কমপক্ষে দু’শতাধিক মানুষ। শেখ হাসিনার প্রাণনাশের চেষ্টা হিসেবে আলোচিত ঘটনাটি ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ২৪ জানুয়ারি লালদিঘির ঘটনায় নিহতরা হলেন- মো. হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথলেবার্ট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডি কে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বি কে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, সমর দত্ত, হাসেম মিয়া, মো. কাসেম, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ ও শাহাদাত। এ ঘটনার নির্দেশদাতা হিসেবে আলোচিত তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদা মৃত্যুবরণ করায় মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি আমেরিকায় মারা গেছেন বলে তার আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছিলেন এর আগে। তবে ‘হুকুমদাতা’ পলাতক গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডলের মৃত্যুদন্ডের আদেশ হয়েছে। এ বিষয়ে এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। এসব ধারায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে আসামিদের। হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড ও ৩২৬ ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালতের বিচারক। একইসাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।
এর আগে ১৪ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, সিনিয়র সাংবাদিক অঞ্জন কুমার সেন, দৈনিক আজাদীর সাবেক প্রধান প্রতিবেদক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী ও দৈনিক পূর্বকোণের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং শিক্ষকসহ মোট ৫৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত রোববার ও সোমবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। যুক্তিতর্কের সময় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদার নির্দেশে জে সি মন্ডল তার নিয়ন্ত্রিত পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয় সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে। আসামিরা নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইলেও নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেনি।
এ ঘটনায় ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ আইনজীবী মোহাম্মদ শহীদুল হুদা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। আদালতের আদেশে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি প্রথম এবং অধিকতর তদন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়। অভিযোগপত্রে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদাসহ আট পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন- তৎকালীন সিএমপি কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদা, কোতোয়ালী জোনের পেট্রোল ইন্সপেক্টর (পিআই) জে সি মণ্ডল, কনস্টেবল আব্দুস সালাম, মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, বশির উদ্দিন, শাহ মো. আবদুল্লাহ ও মমতাজ উদ্দিন। এদের মধ্যে তিন আসামি মারা গেছেন বলে জানা গেছে। ২০০০ সালের ৯ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত।
এদিকে বিচারক আলোচিত এই মামলায় রায়ের শুধু সারসংক্ষেপ পাঠ করেছেন আদালত। সারসংক্ষেপে আদালত বলেন, ‘চট্টগ্রামের তদানীন্ত মেট্রোপলিটন কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদা কর্তৃক ওয়াকিটকির মাধ্যমে প্রদত্ত অবৈধ নির্দেশে কোতোয়ালী থানার পলাতক আসামি গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল ওরফে জে সি মন্ডলের অবৈধ হুকুমে আসামিগণ এলোপাতাড়ি রাইফেলের গুলি ছুঁড়তে আরম্ভ করে। উক্ত আসামির নির্দেশে নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করলে মিছিলকারীদের মধ্যে ২৪ জন মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদার নির্দেশে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত সাক্ষ্যপ্রমাণাদি গোপন ও বিনষ্ট করার জন্য নিহতদের মৃতদেহ ধমবর্ণ নির্বিশেষে অনেক মুসলিম ও হিন্দুদের তাদের আত্মীয়স্বজনের অগোচরে কোতোয়ালী থানার অর্ন্তগত অভয়মিত্র শ্মশানঘাটে পুড়িয়ে ফেলে।’ সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলেছেন, ‘ঘটনার তারিখ ও সময়ে ঘটনাস্থলে আসামি গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল, প্রদীপ বড়ুয়া, শাহ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মমতাজ উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান শান্তিপ্রিয় জনগণের ওপর বিনা উসকানিতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শত, শত নিরীহ লোককে আহত ও পঙ্গু করে।’
রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, ‘এটা গণহত্যা। বিভিন্ন কারণে এই মামলা বিঘ্নিত হয়েছে। সাক্ষ্যপ্রমাণে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দর থেকে ট্রাকে করে বিভিন্ন জায়গায় পথসভা করতে করতে লালদিঘীর দিকে আসছিলেন। লালদিঘীর মাঠে ছিল তৃতীয় কর্মসূচি এবং চতুর্থ কর্মসূচি ছিল পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়। ওইসময় পুলিশ তিনটি ব্যারিকেড দেয়। একটি ছিল লালদিঘীতে, একটি কোতোয়ালীর মোড়ে এবং আরেকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে। কোতোয়ালীতে প্রথম ব্যারিকেড সরিয়ে গাড়িবহর এগিয়ে যাবার পর জে সি মন্ডল ওয়াকিটকিতে বলেন, চলে আসছে। তখন পুলিশ কমিশনার ওয়াকিটকিতে নির্দেশ দেন, গুলি করে শোয়াইয়া দাও। কমিশনারের নির্দেশে গুলিতে ২৪ জন নিরীহ ছাত্র-জনতা মারা যান। শেখ হাসিনাকে আইনজীবীরা উদ্ধার করে আদালত ভবনে নিয়ে যান।’
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপত্তার কারণে আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসতে পারেননি উল্লেখ করে আদালত বলেন, ‘চার জন সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরিষ্কার হয়েছে, কোনো ধরনের সহিংস ঘটনার আগেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।’
আদালতে দুই দফায় আলোচিত এ মামলার চার্জ গঠন (দ্বিতীয় দফায় সংশোধিত আকারে) করা হয়। প্রথম দফায় ১৯৯৭ সালের ৫ আগস্ট এবং দ্বিতীয় দফায় ২০০০ সালের ৯ মে ৮ আসামির বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩০২/২০১/১০৯/৩২৬/৩০৭/১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ১৯৯৭ সালের ২২ অক্টোবর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ফের ক্ষমতায় আসার পর মামলাটি আবারও গতি হারায়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলাটি আবারও পুনরুজ্জীবিত হয়। এরপরও ২০১৬ সাল পর্যন্ত মামলাটি চলছিল ঢিমেতালে। ওই বছর মামলাটি বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে আসে। ওই আদালতের পিপি মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর তৎপরতায় সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রমে গতি আসে। শিক্ষাবিদ ড. অনুপম সেনসহ উল্লেখিত বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই আদালতে বিচারকাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়। মামলার মোট সাক্ষী ১৬৭ জন।
এদিকে মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কারাগারে থাকা চার আসামির আইনজীবী সাঈদ আহসান। তিনি বলেন, আমরা এই আদালতের ওপর অনাস্থা এনে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬ ধারায় একটা আবেদন করেছিলাম যে, আমরা উচ্চ আদালতে যাব। একদিনের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ করে একদিনও সময় না নিয়ে আমাদের যুক্তি উপস্থাপন করতে বলা হয়। আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রায় ঘোষণা করা হল। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’
এদিকে মামলার রায় উপলক্ষে সকাল থেকেই আদালতে নেয়া হয় কাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিদিনের তুলনায় ৪০ জন বেশি পুলিশ সদস্যকে গতকাল নিরাপত্তার কাজে লাগানো হয় বলে জানান সিএমপির সহকারি কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। রায় উপলক্ষে সকাল ১১ টা ১০ মিনিটে আসামিদের আদালতে আনা হয়। সাড়ে ১১টার দিকে নথি বিচারকের সামনে দেন আদালতের বেঞ্চ সহকারি। আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শোনার জন্য আদালত প্রস্তুত হলেও দন্ডিত আসামিদের পক্ষ থেকে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করা হয়নি। এক্ষেত্রে পলাতক আসামি জেসি মন্ডলের পক্ষে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্র নিযুক্ত এক আইনজীবী যুক্তিতর্কে অংশ নেন। এরপর সকালের কার্যক্রম সমাপ্ত করে বিকেল ৩টায় রায় ঘোষণার সময় নির্ধারণ করেন আদালতের বিচারক।
এদিকে গতকাল এ মামলার রায় উপলক্ষে রাষ্টপক্ষের পিপির সহযোগিতায় আদালতে উপস্থিত ছিলেন, এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, এডভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী, এডভোকেট মুজিবুল হক চৌধুরী, এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, এডভোকেট সভু প্রসাদ, এডভোকেট দীনমনি দে, এডভোকেট মোখতার আহাম্মেদ, এডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, এডভোকেট কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু, এডভোকেট উত্তম কুমার দত্ত, এডভোকেট আবিদ হোসেন, এডভোকেট এইচএম জিয়া উদ্দিন, এডভোকেট রাসেদুল ইসলাম রাসেদ, এডভোকেট এয়াছিন খোকন, এডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন ও এডভোকেট ওসমান উদ্দিনসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী।

শেয়ার করুন