লাইফ-স্টাইলসম্পাদকীয়সারাদেশস্বাস্থ্য

১০ বছরের শ্রেষ্ট পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রিনা

জাহাঙ্গীর রেজা, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কিশোর-কিশোরী, মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং গর্ভকালীন সেবা অধিক গুরুত্ব দিয়ে সেবা প্রদান ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করায় বিগত ১০ বছর ধরে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্টত্বের পুরস্কার গ্রহন করে আসছেন মা ও শিশু স্বাস্থ্য, মিডওয়াইফ, সিএসবিএ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রিনা বেগম। ধারাবাহিকভাবে ১০ বছর ধরে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ট্রত্বের সম্মাননা অর্জন করে আসছেন তিনি। পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা প্রসূতি এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা গ্রহিতারা সেবা পেয়ে অনেকাটাই খুশি। আনন্দিত তারা।
শ্রেষ্ট সেবাদানকারী রিনা বেগমের কর্মস্থল ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আপগ্রেড ও ডেলিভেরী সেন্টার এ সরজমিনে গিয়ে গর্ভকালীণ সেবা গ্রহিতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে উক্ত কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত থাকা পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রিনা বেগম সেবা গ্রহীতাদের সাথে আচার-আচরণে সাবলীল ও দক্ষতার প্রসবে সেবাদানকারী হিসেবে সু-পরিচিত। সেবা গ্রহণ করতে আসা হাতিবান্দার ডালিয়া দোয়ানী থেকে আগত হাসিনুরের স্ত্রী ৭ মাসের অন্ত:সত্বা রোজিনা বেগম, খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ডালিয়ার সামছুল ইসলামের স্ত্রী হাজেরা বেগম, উত্তর সোনাখুলির সাদেকুলের স্ত্রী পারভীন, মনিবুলের স্ত্রী মারুফা ও আইজুল ইসলামের স্ত্রী মঞ্জু বেগমসহ অনেকে জানান, গর্ভকালীন সেবা নিতে অনেক জায়গায় গিয়েছি এমনকি রংপুরেও গিয়েছি কিন্তু আমার রোগ ভালো হয়নি। এরপর আমার স্বামীকে নিয়ে প্রায় ৬ মাস ধরে রিনা আপার কাছে আসি। তিনি আমাকে গর্ভকালীণ সেবায় কিছু পরামর্শ ও নিয়ম মেনে চলতে বলেন। আমি সেভাবেই চলার কারনে এখন অনেক সুস্থ্য আছি জানালেন অন্ত:সত্বা রোজিনা বেগম। কাছাকাছি খালিশা চাপানী এফডাব্লিউসি রয়েছে সেখানে না গিয়ে এত দুরে এসেছেন ? প্রশ্নের জবাবে রোজিনা বেগমের স্বামী হাসিনুর জানান, সব জায়গায় সেবা কেন্দ্র থাকলেও রিনা আপার মতো এত দক্ষ সেবাদান কর্মী আমরা কোথাও পাইনি। রিনা আপার পরামর্শে এখন আমার স্ত্রী সম্পূর্ন সুস্থ্য রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার স্ত্রীর প্রসব ব্যাথা উঠলে স্বাভাবিক প্রসব করাতে ঝুনাগাছ চাপনারীর এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই নিয়ে আসবো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আপ গ্রেড ও ডেলিভেরী এই সেন্টারে প্রতি মাসে প্রায় ৩০-৩৫ টি স্বাভাবিক প্রসব হয়। ১০ বছরে এই কেন্দ্রে প্রসব ব্যথা জনিত কারনে সেবা নিতে আসা প্রসূতি ও নব জাতকের মৃত্যুর খরব পাওয়া যায়নি। এলাকায় অনেকেই এই কেন্দ্রকে প্রসবের জন্য একটি নিরাপদ স্থান হিসেবেই চিনে ও জানে। এলাকাবাসী অনেকেই বলেছে, রিনা আপার মত দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য এখানে সেবার মান অনেকটাই উন্নত। তারা আরো জানান, এ্ইতো কিছুদিন হলো ঢাকায় গিয়ে রিনা আপা মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছে। এরপর থেকে এখানে প্রসবের সংখ্যাও বেড়েছে। প্রসূতিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এই নিরাপদ কেন্দ্রে প্রসবের জন্য কোন টাকা ব্যয় হয় না, কোন কোন সময় টুকটাক ঔষধদের জন্য অল্প কিছু খরচ হয় প্রসূতি ও নবজাতকের সুস্থ্যতার জন্য। রিনা আপাকে কোন টাকা আমরা দেইনি, তিনি চানও না। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রসব ব্যাথা নিয়ে আসা তালতলা গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী সামছুন্নাহারের স্বাভাবিক প্রসব হলে মা ও শিশু উভয়ে সুস্থ্য হয়ে বাড়ীতে চলে যায়। এ সময় মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি আনন্দিত হয়ে বলেন, আমার সন্তান স্বাভাবিক ভাবেই এ পৃথিবীতে আসে। চাপানীহাট আপগ্রেড ও ডেলিভেরি কেন্দ্রে রিনা আপার মত দক্ষ কর্মী থাকায় কোন অসুবিধা হয়নি। তিনি বলেন এই খুশিতে আমি রিনা আপাকে এক কেজী মিষ্টি কিনে দিলেও তিনি নিতে রাজি হননি। অনেক অনুরোধ করেই রিনা আপার বাসায় মিষ্টি দিয়ে এসেছি। তিনি এই পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের প্রসব সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ বিষয় নিয়ে কথা হয় পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রিনা বেগমের সাথে তিনি বলেন, বর্তমানে এই আপ গ্রেড ও ডেলিভেরি সেন্টারে সহযোগীতার রয়েছে ল্যাম্ব শো- প্রকল্পের দুইজন সিএইচবিএ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সেবাদানকারী কর্মী রুলিনা ও ফেন্সি। ২৪ ঘন্টাই এই সেবা কেন্দ্র খোলা খাতে। রোগীর বিশ্রামের জন্য বর্তমানে এই কেন্দ্রে ৪টি বেড রয়েছে। সরকারের পাশাপাশি ল্যাম্ব শো প্রকল্পের নরমাল স্যালইনসহ বেশ কিছু ঔষধও রয়েছে প্রসুতির চিকিৎসা সেবায়।
নিয়োমিত প্রসব হয় এখানে। তবে তিনি উল্লেখ করে বলেন, ডিমলা উপজেলার মধ্যে প্রতি মাসেই সর্বোচ্চ প্রসব হয় এই কেন্দ্রে এবং প্রসব জনিত ব্যাথা নিয়ে প্রতিদিন গর্ভবতী মায়েরা আসছেন এই কেন্দ্রে। এর কারন হিসেবে তিনি বলেন চাপানী হাটের এই সেবা কেন্দ্রের সুনাম সবদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আমার এ কাজের ধারাকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্যই ইদানিং উঠে পড়ে লেগেছে একটি কু-চক্রি মহল। আমার অনেক প্রশিক্ষণ ও চাকুরী জীবনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসবে সহায়তা করি। প্রসবের পর মা ও শিশু উভয়েই স্স্থ্যু থাকে। তবে তিনি বলেন. আমি শ্রেষ্ট পুরষ্কারের জন্য কাজ করি না। আমি মানব সেবার ব্রত নিয়েই কাজ করে চলেছি। আমার কাজেই আমাকে সম্মানিত করে।
পাছে লোকে কিছু বলে এ নিয়ে আমি দু:শ্চিন্তাগ্রস্তও নই। জনগণের সেবক হিসেবে আমার উপর সরকারী দায়িত্ব পালনে আমি সচেষ্ট। সুতরাং অন্যরা কে কি বললো তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তিনি উপজেলার নাউতারা ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে এই অঞ্চলের গর্ভকালীন সেবা নিয়ে খবর থাকছে দ্বিতীয় পর্বে। চোখন রাখুন আগামী সংখ্যায়। চলবে—।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *